ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

পাখিদের জন্য গাছে গাছে মাটির কলস

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:১৩, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২
পাখিদের জন্য গাছে গাছে মাটির কলস
পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে গাছে গাছে মাটির কলস ঝুলিয়ে দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার সিড্যা গ্রামে সিড্যা ইউপি চেয়ারম্যান পাখি রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি পাখিদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল তৈরির উদ্দেশ্যে গ্রামের গাছে গাছে বেঁধে দিয়েছেন মাটির কলস। পাখিরা বাসা বাঁধছে সেখানে। মাত্র এক সপ্তাহে গ্রামটিতে পাখির আনাগোনা বেড়ে গেছে।

শরীয়তপুর শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে সিড্যা গ্রাম। স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, গাছগাছালির ছায়ায় ঘেরা এ গ্রামে একসময় নানা প্রজাতির অনেক পাখি দেখা যেত। কিন্তু দিন দিন গাছগুলো কেটে ফেলায়, কমছে পাখির সংখ্যা। অনেক পাখি এখন এ গ্রামে আসেই না। বিষয়টি নজরে আসে ওই গ্রামের বাসিন্দা সিড্যা ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হাদী জিল্লুর।

পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে গাছে গাছে মাটির কলস ঝুলিয়ে দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান

বিষয়টি ওই চেয়ারম্যানকে ভাবিয়ে তোলে। পরে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, মাটির কলস কিনে গ্রামের গাছে গাছে ঝুলিয়ে দেবেন। এতে পাখিদের বাসা বাঁধা সহজ হবে। পাখির সংখ্যা বাড়বে। যেমন সিদ্ধান্ত তেমন কাজ। শতাধিক মাটির কলস কিনে গাছে ঝুলিয়ে দিয়েছেন তিনি। এ কাজে চেয়ারম্যানকে সহযোগিতা করছেন ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও গ্রামবাসী। মাত্র এক সপ্তাহে যেতেই ভালো ফল পেতে শুরু করেন তিনি। তিনি জানান, এখন বেশির ভাগ কলসেই পাখিরা বাসা বেঁধেছে।

মঙ্গলবার সিড্যা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গাছের ডালে ডালে ঝুলছে মাটির কলস। সেটি ঘিরে পাখির যাওয়া-আসা। গ্রামের মানুষও খুশি পাখি দেখে।

সিড্যা গ্রামের সৈয়দ মেহেদী হাসান জানান, নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে পাখিরা বাসা বাঁধছে। এখন গ্রামে আগের চেয়ে বেশি পাখি দেখা যায়।

পাখি প্রেমী পাখাল রাব্বি জানান, অনেক পাখিই এখানে আসা ছেড়ে যাচ্ছিল। মাটিট কলসে বাসা বেঁধে দেওয়ায় নিরাপত্তা পেয়ে পাখিগুলো আবার আসতে শুরু করেছে।

পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে গাছে গাছে মাটির কলস ঝুলিয়ে দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান

সিড্যা ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হাদী জিল্লু বলেন, এই সময় পাখিদের প্রজননের সময়। কিন্তু আমাদের এখানে গাছের সংকট। হাড়ি দেওয়ার কারণে ঝড়, বৃষ্টি ও রোদ থেকে পাখিরা রক্ষা পাবে। হাঁড়িগুলোতে বাসা বেঁধে পাখিরা বংশ বিস্তার করবে। আমার বিশ্বাস আমাদের ইউনিয়ন হবে প্রকৃতিক পাখির একটি অভায়াশ্রম।

 সিড্যা ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হাদী জিল্লুর।

তিনি বলেন, পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে গাছে গাছে মাটির কলস ঝুলিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রথম পর্যায়ে একশ কলস ঝুলিয়ে দিয়ে ভালো ফল পাওয়া গেছে। তাই আরও কলস ঝোলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শরীয়তপুরের ডিসি মো. পারভেজ হাসান জানান, সিড্যা গ্রামের চেয়ারম্যানের এটি একটি ভালো উদ্যোগ। এ ধরনের উদ্যোগে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সব ধরনের সহায়তা করবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: শরীয়তপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!