ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

‘তাইনে সাগরে ডুইবা আমগোরে ভাসাইয়া গেল’

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৩৯, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২
‘তাইনে সাগরে ডুইবা আমগোরে ভাসাইয়া গেল’
সন্তানদের নিয়ে কাঁদছেন আউয়ালের স্ত্রী

‘তাইনে সাগরে ডুইবা মরলেও আমগোরে ভাসাইয়া গেল সাগরে। এখন সন্তানদের নিয়ে কী করব, কীভাবে বাঁচব, ভেবে কূল পাচ্ছি না। এ বলেই বুক চাপড়ে বিলাপ করছিলেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের শুশুন্ডা গ্রামের মৃত আব্দুল আউয়ালের স্ত্রী মনিমালা বেগম।

৩১ জানুয়ারি সকালে চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীতে বালুবোঝাই বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের শুশুন্ডা গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে আব্দুল আউয়ালসহ পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

৫৪ বছর বয়সী আব্দুল আউয়ালের স্ত্রী, চার মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। দুই বছর আগে বড় মেয়ে শাহিনুরকে বিয়ে দিয়েছিলেন। মাদকাসক্ত স্বামীর যৌতুকের চাহিদা মেটাতে না পারায় সংসার ছেড়ে এখন ঠাঁই বাবার বাড়ি। দ্বিতীয় মেয়ে কুহিনুর নবম আর তৃতীয় মেয়ে মাহমুদা সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। ছোট মেয়ে সামসুন নাহারের বয়স ছয় বছর। একমাত্র ছেলে শাকিল নবম শ্রেণিতে পড়ছেন। সাত সদস্যের সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় সবাই আব্দুল আউয়ালের মুখাপেক্ষী ছিলেন।

বিষয়টি জানতে পেরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ২০ হাজার টাকা সহযোগিতা করে স্থানীয় প্রশাসন

পেশায় একজন দিনমজুর হওয়ায় পরিবারের চাপ আর সন্তানদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতে হিমশিম খেতে হতো আউয়ালের। এরই মধ্যে করোনার মহামারিতে শুরু হয় একরকম অস্থিরতা। মানুষ হয়ে পড়েন গৃহবন্দি। লকডাউনে বন্ধ হয়ে যায় কাজকর্ম। ঠিক তেমনি দিনমজুর আউয়ালের জীবনের পথ চলাও থমকে যায়। অন্যদের মতো বন্ধ হয়ে যায় তারও রোজগার। ফলে পরিবার নিয়ে আর্থিক অনটনে পড়েন তিনি। কিন্তু তিনি দমে যাননি। স্বপ্ন বুনলেন নতুন কিছু করার। তাই কিছু জমানো টাকা আর ধার-কর্জ করে চার লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি করলেন একটি ট্রলার। কিছুদিন এ এলাকায় কাজ পেলেও পরে কাজে ভাটা পড়ে। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া ও সংসারের চাকা সচল রাখতে ট্রলার নিয়ে বেশি কাজের আশায় চাঁদপুর জেলায় পাড়ি দেন আউয়াল। স্বপ্ন ছিল শত কষ্ট করে হলেও সন্তানদের মানুষ করে পরিবারকে সুখী করবেন। 

কিন্তু কঠোর পরিশ্রমী স্বপ্নবাজ আউয়ালের সব স্বপ্ন চিরতরে শেষ হয়ে গেছে। ঘটনার দিন সকালে চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীতে বালুবোঝাই বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে তাদের ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে ট্রলারের মালিক আউয়ালসহ পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। স্ত্রী ও বড় মেয়ের আহাজারিতে এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া। ঘটনার পরদিন সকালে শুশুন্ডা গ্রামে আব্দুল আওয়ালকে দাফন করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ২০ হাজার টাকা সহযোগিতা করে স্থানীয় প্রশাসন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!