ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

‘কোভিড যুদ্ধ’ শেষে হাসিমুখে আইসিইউ ছাড়েন ৩৩ শতাংশ রোগী

মো. রাকিবুর রহমান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১৮:৪৭, ১৯ জানুয়ারি ২০২২
‘কোভিড যুদ্ধ’ শেষে হাসিমুখে আইসিইউ ছাড়েন ৩৩ শতাংশ রোগী
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চট্টগ্রামে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে যারা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন, তাদের ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বাকি ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ মারা গেছেন।

তবে মারা যাওয়া রোগীদের বেশিরভাগই আগে থেকে ভুগছিলেন এক বা একাধিক স্বাস্থ্য জটিলতায়। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা নেয়া রোগীদের নিয়ে করা এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই তথ্য।

গত বছরের মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসব্যাপী ২৩৪ জন কোভিড আক্রান্ত রোগীর মধ্যে এ গবেষণা চালানো হয়। তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত রক্তের বিভিন্ন উপাদানের পার্থক্য নিয়ে যৌথ এ গবেষণা চালায় চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু), চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল।

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশ ও চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. ইসমাইল খানের নেতৃত্বে গবেষণায় অংশ নেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, সিনিয়র কনসালট্যান্ট মো. আবদুর রব, জুনিয়র কনসালট্যান্ট রাজদ্বীপ বিশ্বাস ও মৌমিতা দাশ, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ইফতেখার আহমেদ, সিভাসুর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ত্রিদীপ দাশ, মলিকিউলার বায়োলজিস্ট প্রণেশ দত্ত ও তানভির আহমেদ নিজামী।

আরো পড়ুন >>> স্ত্রীকে সাজিয়ে ঘুরলেন পুরো এলাকা, ঘরে এনেই কাটলেন গলা

গবেষণা শেষে গত ৮ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে গবেষক দল। যাতে দেখা যায়, আইসিইউতে ভর্তি থাকা ২৩৪ জন রোগীর মধ্যে মারা যান ১৫৬ জন ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন ৭৮ জন। বয়স বিবেচনায় দেখা যায়- মারা যাওয়া রোগীদের মধ্যে ৭৩ শতাংশের বয়স ৫০-এর বেশি। 

গবেষণায় দেখা গেছে, আইসিইউতে মারা যাওয়া রোগীদের মধ্যে ৮৯ দশমিক এক শতাংশই (১৩৯ জন) আগে থেকে বিভিন্ন স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছিলেন। চিকিৎসা পরিভাষায় যাকে বলা হয় ‘কো-মরবিডিটি’ বা ‘সহরোগ’। এর মধ্যে ৯৩ জন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও হাঁপানিসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এছাড়া কোভিড-এ আক্রান্ত হওয়ার পর তাদের শ্বেত রক্তকণিকা, হিমোগ্লোবিন, অক্সিজেনের চাপ, সি-রিএক্টিভ প্রোটিন (সিআরপি), ফেরিটিন এবং ডি-ডাইমার ও ট্রপোনিনের মাত্রা ছিল মারাত্মক কম বা বেশি। 

দেখা গেছে, ৯৮ শতাংশ রোগীর রক্তে সি-রিঅ্যাক্টিভ প্রোটিনের (সিআরপি) পরিমাণ ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। স্বাভাবিক মাত্রা লিটারে পাঁচ মিলিগ্রামের কম হলেও তাদের ক্ষেত্রে প্রতি লিটারে গড়ে ১০২ দশমিক চার মিলিগ্রাম পর্যন্ত পাওয়া গেছে।

আরো পড়ুন >>> ‘অন্তরঙ্গ সময়’ কাটানোর লোভ দেখিয়ে প্রেমিকদের বাসায় ডাকতেন রেখা, অতঃপর...

রক্তে শ্বেতকণিকার স্বাভাবিক মাত্রা চার হাজার থেকে ১১ হাজার ঘনমিলিমিটার। কিন্তু ৭৫ দশমিক পাঁচ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে সেটি ছিল ২৬ হাজার ১১০ দশমিক ৬ ঘনমিটার। যাকে শ্বেতকণিকার সংকটপূর্ণ মাত্রা বলা হয়। আর শ্বেতকণিকার মাত্রা বেশি হলে বেড়ে যায় মৃত্যুঝুঁকি।

অন্যদিকে, হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা ১২ থেকে ১৭ গ্রাম/ডেসিলিটার হলেও ৫১ দশমিক চার শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে তা ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় কম। যার গড় পরিমাণ ছিল ১০ দশমিক ৬ মিলিমিটার। 

অক্সিজেনের স্বাভাবিক চাপের মাত্রা ৭০ থেকে ৯০ মিলিমিটার। ৭৩ শতাংশ রোগীর মধ্যে অক্সিজেনের চাপ ছিল ৫০ দশমিক চার মিলিমিটার।

এর বাইরে ৭৫ শতাংশের রক্তে ফেরিটিনের পরিমাণ পাওয়া গেছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। স্বাভাবিক মাত্রা প্রতি মিলিলিটারে ৯ থেকে ৩৭০ ন্যানোগ্রাম হলেও তা পাওয়া গেছে ৯০১ দশমিক পাঁচ ন্যানোগ্রাম।

৬৫ দশমিক দুই শতাংশ রোগীর রক্তে ডি-ডাইমারের পরিমাণ মিলেছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। স্বাভাবিক মাত্রায় প্রতি মিলিলিটারে দশমিক পাঁচ মাইক্রোগ্রামের কম হওয়ার কথা থাকলেও তা পাওয়া গেছে দুই দশমিক শূন্য দুই মাইক্রোগ্রাম। এছাড়া ট্রপোনিনের স্বাভাবিক মাত্রা শূন্য দশমিক চার ন্যানোগ্রামের বিপরীতে ৭৬ শতাংশ রোগীর মধ্যে শূন্য দশমিক ৮১ ন্যানোগ্রাম পর্যন্ত পাওয়া গেছে।

গবেষণার ফলাফল প্রসঙ্গে জেনারেল হাসপাতালে সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. আব্দুর রব বলেন, গবেষণাটির মূল উদ্দেশ্য ছিল আইসিইউতে চিকিৎসা নেয়া রোগীদের শরীরে কোভিড সংক্রমণের পর কি কি পরিবর্তন ঘটে এবং তার স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা। যা আমরা সফলভাবে করতে পেরেছি। এটির মাধ্যমে একটি বার্তা দিতে পারি, সেটি হলো- ৫০ বছর বয়সের বেশি কেউ কোভিড আক্রান্ত হলে তার অবশ্যই এ সকল রক্তের পরীক্ষা করানো উচিত, যাতে করে সঠিক চিকিৎসা প্রদান করা যায়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!