লঞ্চে আগুন: সাঁতার না জেনেও বেঁচে ফেরা আরেকজন শাপলা
এমভি অভিযান-১০ লঞ্চের আগুনে পুড়ল শাপলার স্বপ্ন। সাঁতার না জেনেও নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে বেঁচে ফিরেছিলেন তিনি। তবে এ ফেরা যেন আরো বেদনাদায়ক। কারণ আগুনে পুড়ে গেছেন মা জাহানারা জয়নব। এখনো নিখোঁজ খালা শারমিন আক্তার পান্না ও তার দুই সন্তান। তাই বেঁচে গিয়েও শাপলার চোখেমুখে অন্ধকারের ছাপ।
ঝালকাঠিতে লঞ্চে আগুনের ঘটনায় একের পর এক বের হয়ে আসছে মর্মস্পর্শী ঘটনা। হাফসার পর এখন বরগুনা সদর উপজেলার নিমতলীর শাপলা। বাবা অসুস্থতার কারণে কাজ করার সক্ষমতা হারিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। সংসারের হাল ধরেছিলেন শাপলার মা জাহানারা। এসএসসি পাস করে ঢাকায় মায়ের সঙ্গে থেকে পড়াশুনা করতেন তিনি।
ঢাকা থেকে মা, খালা ও ২ খালাতো ভাই-বোনকে নিয়ে বরগুনা ফিরছিলেন কলেজপড়ুয়া শাপলা। লঞ্চে আগুন লাগলে বাঁচার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন তিনি। পুড়ে মরার চেয়ে ডুবে মরবেন- এই চিন্তা করে শাপলা ঝাঁপিয়ে পড়লেন নদীতে।
শাপলা জানান, তিনি বেঁচে ফিরলেও তার স্বপ্নটুকু কেড়ে নিল আগুন। পুড়ে মারা গেছেন সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী মা। পরিবার এখন কীভাবে বাঁচবে তার উত্তর নেই কারো কাছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে চলন্ত অবস্থায় আগুন লাগে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে। ইঞ্জিন রুম থেকে লাগা আগুন মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে পুরো লঞ্চে। মারা যান ৪৫ জন যাত্রী। এছাড়া দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন প্রায় শতাধিক। এখনো খোঁজ মেলেনি অর্ধশত যাত্রীর। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুড়ে যাওয়া লঞ্চ ও মালামাল আলামত হিসেবে জব্দ করেছে পুলিশ। দগ্ধদের চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিয়েছে সরকার।