১৮ ঘণ্টার শ্বাসরূদ্ধকর অভিযানে বেরিয়ে এলো জোড়া খুনের মূল রহস্য
ছেলেকে হত্যার পর মরদেহ খালে ফেলে দেওয়া হয়। ছেলে হত্যার বিচার চাওয়ায় ৯ মাসের মাথায় বৃদ্ধ পিতাকেও একই কায়দায় হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। আবার ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে জোড়া খুনের দায় চাপানো হয় পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের ওপর।
মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পিবিআইয়ের ১৮ ঘণ্টার শ্বাসরূদ্ধকর সাঁড়াশি অভিযানে খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থেকে হত্যার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে আটকের পর বের হয়ে আসে বাবা-ছেলে হত্যার মূল রহস্য।
পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান জানান, মঙ্গলবার সকালে বৃষ্টির মধ্যেই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির দুর্গম কাঞ্চননগরে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে পিবিআই। সন্ধ্যার মধ্যেই একে একে গ্রেফতার হয় জোড়া খুনের মূল পরিকল্পনাকারী ফিরোজসহ কিলিং মিশনের আরো দুইজন।
গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি এলাকার খামারে কাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরে ফকির আহমদ। পরদিন দুধ্যাছড়ি খাল থেকে তার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। ঐ ঘটনায় তার বাবা এজাহার মিয়া মামলা করেন। টানা ৯ মাস ছেলে হত্যার বিচারের জন্য লড়াই করেন তিনি। এরপর চলতি বছরের ২৫ জুন একইভাবে তাকেও হত্যা করে দুষ্কৃতকারীরা।
মাত্র ৬ দিন আগে এজাহার মিয়া হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। এরপর তদন্ত করতে গিয়ে বের হয়ে আসে বাবা-ছেলের খুন একই সূত্রে গাঁথা। সাঁড়াশি অভিযানে তিনজনকে আটকের পর দু’জন স্বীকার করে- ফকির আহমেদ খামার এলাকায় অন্যদের গরু চরাতে না দেওয়ায় তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে ফিরোজ। সে অনুযায়ী ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে প্রথমে ফকির আহমেদকে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে এ হত্যাকাণ্ডে ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে তারা বৃদ্ধ এজাহার মিয়াকেও হত্যা করে।
জোড়া খুনের মূল পরিকল্পনাকারী ফিরোজ মিয়া হলেও এ কিলিং মিশনে অন্তত আটজন ছিল বলে নিশ্চিত হয়েছে পিবিআই। দুটি মামলারই তদন্তভার পাওয়ার পর বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।