ঢাকা,  রোববার   ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

বাল্যবিয়ের শিকার একই বিদ্যালয়ের ৮৫ শিক্ষার্থী, উদ্বিগ্ন সচেতন মহল

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৩৬, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
বাল্যবিয়ের শিকার একই বিদ্যালয়ের ৮৫ শিক্ষার্থী, উদ্বিগ্ন সচেতন মহল
ড়ভিটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ফুলবাড়ী

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৫ জন শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ে হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। উদ্বিগ্ন শিক্ষাবিদরাও।

সচেতন মহলের দাবি- দরিদ্রতা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতাসহ নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এ উপজেলায় বাল্যবিয়ের হার বেড়েই চলেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জরিপ করে প্রকৃত বাল্যবিয়ে এবং শিশুশ্রমে নিযুক্ত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নির্ণয় করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সোমবার সকালে ওই উপজেলার বড়ভিটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহা. মতিউর রহমান খন্দকার জানান, তার বিদ্যালয়ের ৩৪৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮৫ জনের বাল্যবিয়ে হয়েছে। তাদের মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির দুইজন, সপ্তম শ্রেণির ১১ জন, অষ্টম শ্রেণির ১৭ জন, নবম শ্রেণির ২৮ জন, দশম শ্রেণির ১৪ জন ও চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী ১৩ জন।

তিনি আরো জানান, করোনা মহামারির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার আগে প্রতিদিন গড়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিলো ৭০-৯০ শতাংশ। বর্তমানে উপস্থিতি ৪০-৫০ শতাংশ। বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তারা ১২ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় খোলার প্রথমদিনই তারা ১৭ জন সহপাঠীর বিয়ের খবর শুনতে পায়। নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, স্কুল এসে দেখতে পায় তার ২৮ জন সহপাঠী অনুপস্থিত। খোঁজ নিয়ে সে জানতে পারে ২৮ জনেরই বিয়ে হয়ে গেছে।

বাল্যবিয়ের শিকার ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাবা জানান, তারা গরিব। ভ্যান চালিয়ে কিংবা দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ভালো একটা সম্বন্ধ পেয়ে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন।

একই প্রতিষ্ঠানের বাল্যবিবাহের শিকার আরেক শিক্ষার্থীর বাবা জানান, মানুষের সাইকেল মেরামত করে যা পাই তাই দিয়ে কোনরকমে সংসার চলে। দেশে করোনা আসার পর আমরা খুব কষ্টে ছিলাম। কোন সহযোগিতা পাইনি। দেখতে দেখতে মেয়েটাও বড় হয়ে গেল। দুশ্চিন্তার যেন শেষ নেই। তাই একটা ভালো সম্বন্ধ পাওয়ায় আর দেরি করিনি। সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটার বিয়ে দিয়েছি।

বড়ভিটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. খয়বর আলী জানান, করোনার কারণে তার ইউনিয়নে বাল্যবিয়ে বেড়েছে। এজন্য পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। প্রশাসনের সহযোগিতায় পাড়ায়-মহল্লায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে মতবিনিময়সহ সচেতনমূলক প্রচার চালানো হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই জানান, বড়ভিটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বাল্যবিয়ের তথ্য পেয়েছেন। ওই উপজেলার ৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফুলবাড়ীর ইউএনও সুমন দাস জানান, বড়ভিটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮৫ জন শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ের ঘটনা নিঃসন্দেহে হতাশাজনক। এভাবে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার বিষয়টি মেনে নেয়া যায় না। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!