গাছ কাটার জেরে শিক্ষককে অণ্ডকোষ চেপে হত্যার চেষ্টা
মাদারীপুরের কালকিনিতে গাছ কাটার জেরে আবদুস ছালাম নামে এক স্কুলশিক্ষককে চোখ উৎপাটন ও অণ্ডকোষ চেপে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার দুপুরে কালকিনি উপজেলার উত্তর জনারদন্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত আব্দুস ছালাম পৌর এলাকার উত্তর জনারদন্দি গ্রামের গিয়াসউদ্দিন সরদারের ছেলে।
অভিযুক্তরা হলেন আবদুস ছালামের চাচা আলালউদ্দিন সরদার ও তার ছেলে সোহেল সরদার এবং মেয়ে লাইলি রোজি, তিশা। তারা একই এলাকার বাসিন্দা। আহত আব্দুস ছালাম, আলাউদ্দিন সরদারের মেজ ভাইয়ের বড় ছেলে।
কালকিনির জনারদন্দি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুস ছালাম তার বাড়ির একটি গাছ বিক্রি করে শ্বশুরবাড়ি রওনা দেন। পথে আলাউদ্দিন সরদারের নির্দেশে তার ছেলে-মেয়েরা শিক্ষক ছালামকে অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে বেদম মারধর করে। সেই সঙ্গে চাবি দিয়ে তার চোখ উৎপাটন ও অণ্ডকোষ চেপে হত্যার চেষ্টা চালায়। পরে আব্দুস ছালামের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হামলার শিকার আব্দুস ছালাম বলেন, আমি আমার জায়গায় গাছ লাগিয়েছি সেই গাছ বিক্রি করছিলাম। কিন্তু আলাউদ্দিন সরদার সেই গাছ বিক্রি করতে বাধা দিলে, আমি তাদের বলি আমার গাছ আমি বিক্রি করব। এরপরেই আলাউদ্দিন সরদারের নির্দেশে তার ছেলেমেয়েরা আমার ওপর হামলা চালায়। সোহেল আমার দুই চোখে চাবি দিয়ে খোঁচা মারে বলে আমার চোখ উঠিয়ে ফেলবে। লাইলী রোজি ও তিশা আমাকে নিচে ফেলে আমার অণ্ডকোষ চেপে ধরে। আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছিলাম না। তারা আমাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যেই এমন অমানবিক হামলা চালায়। আমি এ হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে আলাউদ্দিন সরদার বলেন, ওই জমির দলিল আমার নামে। আমার জায়গায় আমি গাছ লাগিয়েছি। সেই গাছ ছালাম জোর করে বিক্রি করতে চেয়েছিল।
কালকিনি থানার ওসি ইসতিয়াক আসফাক রাসেল বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।