ভুয়া দলিলে জমি বিক্রি, প্রতিবাদে হত্যার হুমকি-মিথ্যা মামলা
স্বামীর চিকিৎসার জন্য জমি বিক্রি করতে চেয়েছিলেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রহিমা খাতুন। দায়িত্ব দিয়েছিলেন মনির হোসেন নামে দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়কে। ভুয়া ওয়ারেশ সনদের মাধ্যমে সেই জমি দখন করে অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন মনির হোসেন। এর প্রতিবাদ করায় জমির মূল মালিক রহিমা খাতুন ও তার পরিবারকে হুমকি দিয়েছেন তিনি। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাও করেছেন।
শনিবার দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব ঘটনা জানিয়ে মনির হোসেনের শাস্তি চেয়েছেন ভুক্তভোগী রহিমা খাতুনের মেয়ে হোসনে আরা এহসান। এ সময় নিজের ও পরিবারের বাকি সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত বলে জানিয়েছেন তিনি।
হোসনে আরা এহসান বলেন, আমি মা-বাবাসহ ঢাকার মিরপুরে থাকি। আমার বাবাবার দুটি কিডনিই ড্যামেজ হয়ে গেছে। বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছেন আমার মাও। ৪-৫ মাস আগে চিকিৎসক জানান আমার বাবার দুটি কিডনি ৮৫ শতাংশ অকার্যকর হয়ে গেছে। তাকে সপ্তাহে দুইবার ডায়ালাইসিস দিতে হবে। এতে প্রতি মাসে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টাকার খরচ হবে। এ খরচ বহন আমাদের পরিবারের পক্ষে সম্ভব না। এ কারণে আমার মা ডুমুরিয়া থানার চক-আসানখালী মৌজার কিছু জমি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন। জমি বিক্রি করতে গিয়ে জানতে পারি খুলনার বেনু গাজী ও হাবিবুল্লাহ নামে দুই ভূমি দস্যু আমার মাকে মৃত ঘোষণা করে ভুয়া ওয়ারেশ সনদ বের করে মো. সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির কাছে জমি বিক্রি করেছেন। আর এ চক্রান্তে তাদের সহযোগিতা করেছেন আমাদের দূর সম্পর্কের আত্মীয় মনির হোসেন।
তিনি বলেন, মনির হোসেন ঢাকার রামপুরা এলাকায় থাকতেন। জমি বিক্রিতে সুবিধার জন্য তাকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব দেন আমার মা এবং ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলার সুবিধার্থে তার সঙ্গে ছয়মাস মেয়াদের একটি অ-রেজিস্ট্রি স্ট্যাম্পে চুক্তি করেন। ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ১০ এপ্রিল। চুক্তির পর থেকে প্রায় দুই মাস কোনো ক্রেতা ঠিক করতে পারেননি মনির হোসেন। এরপর হঠাৎ তিনি নিজেই একজন ক্রেতার সঙ্গে জমির নামমাত্র দাম ঠিক করে আমার মাকে জানান এবং জমি বিক্রির জন্য চাপ দেন। আমার মা এত কম দামে জমি বিক্রি করবেন না বলে মনিরকে জানিয়ে দেন। এরপর মনির অল্পদিনের মধ্যে ৬-৭ জন ক্রেতার সঙ্গে একাই নামমাত্র জমির দাম ঠিক করেন। এক পর্যায়ে আমার মা জানতে পারেন- মনির ভূমি দস্যু হাবিবুল্লাহ ও বেনু গাজীর লোক। পরবর্তীতে মনিরকে জানিয়ে দেন যে- তিনি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছেন এবং তাকে আর জমির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রাখবেন না। এরপর আমার মা ও ভাই-বোনদের হুমকি দিতে শুরু করেন মনির।
হোসনে আরা এহসান বলেন, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আমার মায়ের অনুমতি ছাড়াই সুজাউদৌলা নামে এক ক্রেতার সঙ্গে জমির দাম ঠিক করে ৩০০ টাকার একটি স্ট্যাম্পে চুক্তি করেন মনির। সে খবর জানতে পেরে আমার মা খুলনার একটি স্থানীয় দৈনিকে একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। এতে থেকে মনির আরো ক্ষিপ্ত হয়ে আমার মা এবং আমিসহ চারজনের বিরুদ্ধে খুলনা মহানগর হাকিমের ৪নং আমলী আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, আমার মা চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি তার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা জমির বায়না বাবদ নিয়েছেন। বায়নার মিথ্যা সাক্ষী হিসেবে আমার চাচাতো ভাই শাহনেওয়াজ হোসেন বাপ্পীর নাম উল্লেখ করেন।
তিনি আরো বলেন, মিথ্যা মামলার খবর জানতে পেরে আমরা মনিরের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় তিনটি অভিযোগ করি। এরপর তিনি আমাদের বাসায় হাজির হয়ে আমার মা ও পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দেন। চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি মনির হোসেন পল্লবী থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ করেন এবং ২০ লাখ টাকার একটি অ-রেজিস্ট্রি বায়না দলিলের কপিও দাখিল করেন। পরে পুলিশ তদন্ত করে মনিরকে প্রতারক ও জালিয়াত হিসেবে উল্লেখ করে। আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে প্রতারক মনিরের উপযুক্ত শাস্তি ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই।