ঢাকা,  রোববার   ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পেঁয়াজের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:০৫, ১০ মার্চ ২০২১
পেঁয়াজের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি
ঝিনাইদহে এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে।

ঝিনাইদহে এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠ থেকে পেঁয়াজ বাড়িতে এনে কাটা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করাসহ বাজারজাত ও ঘরে রাখার ধুম পড়েছে। বাম্পার ফলনের সঙ্গে বাজারদরও ভালো হওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা দরে। প্রতি বিঘা জমি থেকে কৃষকরা কমপক্ষে ১২০ মণ করে পেঁয়াজ ঘরে তুলছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহে এ বছর পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৯ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে। তবে চাষ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। এবার ১০ হাজার ৪৭২ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছে।

ঝিনাইদহের ৬টি উপজেলার মধ্যে শৈলকুপা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ চাষ হয়। এই উপজেলার মাঠের পর মাঠ শুধুই পেঁয়াজ। জেলার ৯ হাজার ৫০ হেক্টর জমির পেঁয়াজের মধ্যে এখানেই চাষ হয়েছে ৭ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে। দেশের পেঁয়াজের চাহিদার বড় একটি অংশের জোগান হয় শৈলকুপা থেকে। এখন চলছে পেঁয়াজ উত্তোলনের মৌসুম। 

Advertisement

ঝিনাইদহে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন

শৈলকুপাতে সাপ্তাহিক শনি ও মঙ্গলবার দুটি হাট বসে পেঁয়াজের। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকার ও ব্যাপারীরা একদিন আগেই চলে আসেন শৈলকুপাতে। তারা ট্রাকে ভর্তি করে পেঁয়াজ সরবরাহ করেন দেশের অন্যান্য বড় বড় হাট-বাজারে।

ব্যবসায়ীরা জানান, এখানকার পেঁয়াজ ঢাকার কারওয়ান বাজার, ভৈরব, সিলেট, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যায়।

সরেজমিনে, শৈলকুপা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে পেঁয়াজের ছড়াছড়ি, হয়েছে বাম্পার ফলন। পাইকপাড়া গ্রামে দেখা যায়, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে পেঁয়াজ, ক্ষেতেও রয়েছে। কৃষকরা বাড়িতে এনে স্তূপ করে রাখছেন বিক্রির আশায়। তবে পেঁয়াজ সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বেশিরভাগ পেঁয়াজ তুলেই বিক্রি করতে বাধ্য হন উপজেলার কৃষকরা। 

ঝিনাইদহে এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে

শৈলকুপা কৃষি অফিস জানিয়েছে, উপজেলায় চাষযোগ্য মোট জমি আছে ২৮ হাজার ৫০০ হেক্টর। এরমধ্যে এ বছর পেঁয়াজের চাষ হয়েছে ৭ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে, শুধু পাইকপাড়া গ্রামেই চাষ হয়েছে ৩৫০ হেক্টর। বারি-১, লাল তীর, লাল তীর কিংসহ বেশ কয়েকটি জাতের পেঁয়াজ বেশি চাষ হচ্ছে। এ বছর অনেক কৃষক সুখসাগর জাতও চাষ করেছেন।

পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলামের বাড়িতে দেখা যায়, বাড়ির বাইরে মেয়েরা পেঁয়াজ থেকে গাছ কেটে আলাদা করছেন। বাড়ির মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পেঁয়াজ। ঘর-বারান্দা কোথাও একটু খালি জায়গা নেই।

তিনি জানান, এ বছর ৮ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছেন। এসব জমিতে হাইব্রিড লাল তীর কিং জাত রয়েছে। যার মধ্যে অর্ধেক জমির পেঁয়াজ বাড়িতে নিয়ে এসেছেন। এখনও মাঠে পেঁয়াজ রয়েছে।

তিনি আরো জানান, প্রতি বিঘায় সব মিলিয়ে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এক বিঘায় ১২০ মণ করে পেঁয়াজ পাচ্ছেন। বর্তমান বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ ১৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। ১ বিঘাতে কমপক্ষে ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকার পেঁয়াজ বিক্রি হবে।

পেঁয়াজের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
শৈলকুপার চর সোন্দহ গ্রামের কৃষক আমিরুল ইসলাম জানান, তিনি ৬০০ মণ পেঁয়াজ পাবেন বলে আশা করছেন। সরকারিভাবে এ উপজেলায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। যে কারণে কৃষকরা পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারেন না। তাই অনেক সময় সঠিক মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।

শৈলকুপার পেঁয়াজ ব্যবসায়ী রেজাউল বিশ্বাস জানান, দেশের চাহিদার বড় একটি অংশের জোগান শৈলকুপা থেকে হয়ে থাকে।

উপজেলার পাইকপাড়া ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কোরবান আলী জানান, এ ব্লকে ৪০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। এখানে ১৫৬০টি কৃষি পরিবার রয়েছে। কম-বেশি প্রায় সবার জমিতে রয়েছে পেঁয়াজ । ক্রমেই পেঁয়াজের চাষ বাড়ছে বলে জানান তিনি।

শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকরাম হোসেন জানান, এ উপজেলায় গত ১০ বছর ধরে পেঁয়াজের চাষ বেড়েই চলেছে। এবার উপজেলায় ফলন ভালো হয়েছে। তবে পেঁয়াজের বাজার দর বৃদ্ধি পেলে চাষিরা আরো খুশি হবে। এখানে একটি কোল্ড স্টোর জরুরি বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ঝিনাইদহের উপপরিচালক মো. আজগর আলী জানান, অনুকূল আবহাওয়া থাকায় এবার ঝিনাইদহে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছে, ফলনও ভালো হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে/এইচএন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!