ক্রিকেটার নজরুলের আত্মহত্যায় দায়ী বন্ধু জীবন
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে তরুণ ক্রিকেটার মো. নজরুল ইসলামকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে তার বন্ধু জীবনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার ২৪ দিন পর রোববার বিকেলে ওই উপজেলার চৌমুহনী ভানুগাছ বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক জহিরুল ইসলাম জীবন ওই উপজেলার উজিরপুর গ্রামের রফিকুর রহমানের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে নজরুল হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করেছে।
নিহতের বোনের করা মামলা সূত্রে জানা গেছে, জীবন অসৎ উদ্দেশ্যে একই গ্রামের নজরুল ইসলামের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে। এরপর নজরুলকে ফাঁসানোর জন্য কুপ্ররোচনা দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অসামাজিক কাজে নিয়ে যেত এবং গোপনে ছবি-ভিডিও ধারণ করে রাখত। পরে তার কাছ থেকে টাকা চাইত। টাকা না দিলে ছবি-ভিডিও বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিত। সম্মান ও লজ্জায় জীবনকে টাকা দিতেন নজরুল।
আরো জানা গেছে, এক সময় টাকা দেয়ার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেন নজরুল। ১ জানুয়ারি কীটনাশক পান করে অজ্ঞান হয়ে যায় সে। পরে স্বজনরা তাকে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখান থেকে পরবর্তীতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয় নজরুলকে। ৮ জানুয়ারি সকালে সেখানেই নজরুলের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ২২ জানুয়ারি নজরুল ইসলামের বোন আলীনগর ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী মেম্বার আমিরুননেসা কমলগঞ্জ থানায় মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত করে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত জীবনকে আটক করে।
কমলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সোহেল রানা ঘটনার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জহিরুল ইসলাম জীবনকে ভানুগাছ বাজার থেকে আটক করা হয়। তার কাছে বিভিন্ন ভিডিও পাওয়া গেছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।