চট্টগ্রামে পোশাককর্মী হত্যায় স্বামী ও সতীন গ্রেফতার
চট্টগ্রাম নগরীর একটি বাসা থেকে পোশাককর্মী ফারজানা আক্তার বুলুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ঘাতক স্বামী ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে লাশটি উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- অটোরিকশা চালক শরীফ মিয়া ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী রিনা আক্তার। স্বামী ও সতীন মিলে ফারজানাকে খুন করে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল তারা।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের বায়েজিদ বোস্তামি জোনের সহকারী কমিশনার পরিত্রাণ তালুকদার জানান, অটোরিকশা চালক শরীফের পরিবারে দ্বন্দ্বের জেরে বুলুকে খুন করা হয়। শরীফের তিন স্ত্রীর মধ্যে দুই স্ত্রী ফারজানা ও রিনাকে নিয়ে শরীফ এক বাসায় থাকত। পারিবারিক ঝগড়ার একপর্যায়ে শরীফ ও রিনা মিলে শ্বাসরোধ করে ফারজানাকে খুন করে। এরপর লাশের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সেটি রান্নাঘরের চালের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। রাত ১০টার দিকে এ ঘটনার পর নিজেদের পরিকল্পনা মতো রিনা ঘুমানোর ভান করে। শরীফ বাইরে চা খেতে যায়। ঘণ্টাখানেক পর বাসায় রিনা চিৎকার শুরু করে। শরীফ বাসায় যায়। দু’জন মিলে মানুষকে জানানোর চেষ্টা করে ফারজানা আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু প্রতিবেশীরা সেটি বিশ্বাস না করে তাদের আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং দু’জনকে গ্রেফতার করে।
ফারজানার ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে খুলশী থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, চার বছর আগে ভালোবেসে শরীফকে বিয়ে করেন ফারজানা। কিন্তু বছরখানেক আগে শরীফ আবার রিনাকে বিয়ে করে নগরীর ওয়্যারলেস কলোনি এলাকায় আলাদা বাসা নিয়ে বসবাস শুরু করেন। এতে ফারজানার সঙ্গে শরীফের মনোমালিন্য শুরু হয়।
সম্প্রতি শরীফ রিনাকে নিয়ে বাটালি হিলের বাসায় উঠলে তাদের মধ্যে প্রতিদিন ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। গ্রেফতার রিনা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারজানাকে খুনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।