পূরণ হচ্ছে ‘খুকি আপা’র স্বপ্ন, হজে নেয়ার উদ্যোগ
হঠাৎই সবার প্রিয় হয়ে উঠেছেন রাজশাহীর ‘খুকি আপা’। তিনি এখনো পত্রিকা বিক্রি করছেন, তবে ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ‘খুকি আপা’র ইচ্ছে ছিল হজে যাওয়ার; আর তা পূরণে এগিয়ে এসেছে একদল তরুণ।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীতে খুকির সঙ্গে দেখা করতে যান একটি সেচ্ছ্বাসেবী সংঠনের কয়েকজন সদস্য। এসময় তারা জানিয়েছেন খুকিকে হজে পাঠাতে তারা সাহায্য করবেন।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, খুকির শারীরিক অবস্থা তেমন ভালো না। আমরা খুকি খালার সঙ্গে কথা বলেছি, তিনি হজে যাওয়ার ইচ্ছের কথা জানিয়েছেন, রাজিও আছেন। দেখি আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
আরো পড়ুন: ভাইরাল সেই পত্রিকা বিক্রেতা খুকির দায়িত্ব নিল জেলা প্রশাসন
সংগঠনটি খুকিকে একটি শীতের চাদর দিয়েছেন। এছাড়াও প্রাথমিক সাপোর্ট প্রয়োজন দেয়া হবে বলে জানা গেছে। অরেঞ্জ আর্মি সংগঠনের পক্ষ থেকে খুকিকে হজে পাঠানো হবে বলে তাদের ফেসবুক পেজেও জানানো হয়েছে।
রাজশাহী শহরের একমাত্র নারী পত্রিকা বিক্রেতা জোহরা দিল আফরোজ খুকি। ৪০ বছর ধরে পত্রিকা বেচে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সম্প্রতি তার যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে তা ২০০৯ সালের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদন। ওই ভিডিও প্রচারের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কেউ আর তার আর খোঁজ নেননি।

নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এখনো করছেন পত্রিকা বিক্রি। একসময় তিনি প্রতিদিন ৩০০ টাকা আয় করতেন। এই আয় থেকে নিজের জন্য ব্যয় করতেন মাত্র ৪০ টাকা। হজে যাওয়ার তীব্র বাসনায় ১০০ টাকা ব্যাংকে জমা করতেন। আর ১৬০ টাকাই ব্যয় করতেন মানুষের সেবামূলক কাজে। এর মধ্যে ১০০ টাকা দিতেন এতিমখানায়, ৫০ টাকা দিতেন মসজিদ-মন্দিরে আর ১০ টাকা দিতেন ফকির মিসকিনকে।
জানা গেছে, এত দিনে ব্যাংকে জমা হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। সেই জমানো অর্থ আর পৈতৃকভাবে পাওয়া কিছু সম্পত্তিই তার জীবনের শেষ সম্বল। যা দিয়ে যেতে চান কোনো স্কুলের নামে। সেই দানের টাকা থেকে গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেয়া হবে বৃত্তি।
১৯৬০ সালে কুষ্টিয়ায় জন্ম নেয়া খুকি পড়াশোনা করেছেন মোহিনী মোহন বিদ্যাপীঠ এবং টাঙ্গাইলের ভারতেশ্বরী হোমসে। মৃত্যুর পরও ঠাঁই পেতে চান জন্মস্থান কুষ্টিয়ায়।