ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

সেতুতে উঠলেই হারাতে হয় টাকা-মোবাইল

সন্তোষ চন্দ্র সূত্রধর, আশুগঞ্জ
প্রকাশিত: ১১:৩৮, ৩ নভেম্বর ২০২০
সেতুতে উঠলেই হারাতে হয় টাকা-মোবাইল
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার সংযোগস্থল সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু। এ সেতুতে প্রায়ই ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ছে মানুষ। দর্শনার্থী, নৌ শ্রমিক কিংবা স্থানীয়- বাদ যাচ্ছে না কেউ। সন্ধ্যার পর সেতুতে উঠলেই হারাতে হয় টাকা-মোবাইল। কেউ বাধা দিলে ছুরিকাঘাত করে ছিনিয়ে নেয়া হয় সব।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুতে ছিনতাই রোধে এবার পদক্ষেপ নিচ্ছে আশুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। সেতুতে বসানো হচ্ছে সিসি ক্যামেরা। বাড়ানো হচ্ছে পুলিশের টহল। সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছেন আশুগঞ্জের ইউএনও নাজিমুল হায়দার ও আশুগঞ্জ থানার ওসি জাবেদ মাহমুদ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সৈয়দ নজরুল সেতুটি মেঘনা নদীর উপর হওয়ায় প্রতিদিন বিকেলে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে আসে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। বিশেষ করে আশুগঞ্জ শিল্প ও বন্দরনগরী হওয়ায় এ নদী বন্দরে যাতায়াত করে পণ্যবোঝাই অসংখ্য জাহাজ, ট্রাক। অনেক সময় জাহাজ ও ট্রাকের শ্রমিক-হেলপাররা সৈয়দ নজরুল সেতুতে ওঠে। সন্ধ্যা পার হলেই তাদের ওপর আক্রমণ করে ছিনতাইকারীরা।

সন্ধ্যার পর সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুতে বাড়ে ছিনতাই

২৯ অক্টোবর বিকেলে আশুগঞ্জ বন্দরে নোঙর করা এমভি জামালের দুই কর্মচারী সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুতে হাঁটতে যায়। ছিনতাইকারীরা তাদের ছুরিকাঘাত করে দুটি মোবাইল ও ম্যানিব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ওই কর্মচারীদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

ভুক্তভোগী নৌ শ্রমিক মিরাজ ও ফারুক মিয়া বলেন, আমরা হাঁটতে হাঁটতে সেতুর মাঝের দিকে চলে যাই। এরপর দুজন ছিনতাইকারী ছুরি ধরে আমাদের কাছে এসে টাকা-মোবাইল চায়। আমরা দিতে না চাইলে তারা ছুরিকাঘাত করে সবকিছু ছিনিয়ে নেয়।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুতে ছিনতাই রোধে বসানো হচ্ছে সিসি ক্যামেরা। বাড়ানো হচ্ছে পুলিশের টহল

ওই উপজেলার শরীয়তনগর এলাকার ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন বলেন, আমাদের বন্দরে প্রতিদিন অসংখ্য জাহাজ-ট্রাক থামে। বন্দর সংলগ্ন স্থানেই সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু। বিকেলে সেতুর দুই পাশের নদীর দৃশ্য সবার নজর কাড়ে। তাই অনেকেই ঘুরতে আসেন। আবার অনেকেই হেঁটে সেতু পারাপার হন। প্রতিদিনই কেউ না কেউ ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে আহত হচ্ছে, মূল্যবান জিনিস হারাচ্ছে। কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিলে সেতুতে ছিনতাই রোধ করা যাবে না।

আশুগঞ্জ থানার ওসি জাবেদ মাহমুদ বলেন, প্রতিনিয়ত ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। সেতুর উপর টহল দিচ্ছে পুলিশ। এছাড়া ভুক্তভোগী কেউ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

আশুগঞ্জের ইউএনও নাজিমুল হায়দার বলেন, সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুতে ছিনতাইকারীদের তৎপরতা নিয়ে মাসিক আইন-শৃংখলা সভায় আলোচনা হয়েছে। ছিনতাই রোধে শিগগিরই পদক্ষেপ নেয়া হবে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সেতুর দুই পাশে সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!