ঢাকা,  বুধবার   ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দাবিতে দ্বারে দ্বারে অন্তঃসত্ত্বা নারী

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২২:৩৯, ৫ অক্টোবর ২০২০
সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দাবিতে দ্বারে দ্বারে অন্তঃসত্ত্বা নারী
ভুক্তভোগী নারী

সিরাজগঞ্জে সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউপির পার পাঁচিল গ্রামে ধর্ষণের শিকার হয়ে এক নারী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। পেটে আসা সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় সেই নারী।

ভুক্তভোগী ওই নারী প্রশ্ন রেখে বলেন, আমি এখন কী করব, আমি কি আমার সন্তানের বাবার পরিচয় দিতে পারব না। আমি কি কোনো বিচার পাব না। মাতবরদের পেছনে ঘুরতে ঘুরতে আমি এখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে একটি ধর্ষণ মামলা করেছি।

মামলার আসামিরা হলেন, ছোনগাছা ইউপির পার পাঁচিল গ্রামের মো. শামীম হোসেনের ছেলে মো. সোহাগ ও তার মা রেজিয়া বেগম।

সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী বলেন, সোহাগ আমাকে নানাভাবে ফুসলিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রাতে আমাদের বাড়িতে প্রায়ই আসতো। পরে আমি অন্তঃসত্ত্বা হই। অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি আমার পরিবারের লোকজন সহজেই বুঝতে পারে। পরে কোনো কুল-কিনারা না পেয়ে সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে প্রায় ২৬ দিন পর আমি সোহাগের বাড়িতে গিয়ে উঠি। কিন্তু আমাকে মারপিট করে বাড়িতে উঠতে না দিয়ে বের করে দেয়। পরে থানায় গিয়ে সোহাগ ও ধর্ষণে সহায়তাকারী রেজিয়া বেগমকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করি।

তানিয়ার বাবা অভিযোগে বলেন, আমার মেয়েকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে তার সর্বনাশ করেছে। এ ঘটনায় বিচার না পেয়ে থানায় মামলা করেছি। এখন সোহাগের বাড়ির লোকজন আমাদের গ্রামের আজম মণ্ডল, আল মাহমুদকে দিয়ে নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। আমি আমার মেয়েকে নিয়ে বিপদে আছি।

সোহাগের মা রেজিয়া বেগম বলেন, আমার ছেলেকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এ ঘটনার সঙ্গে আমার ছেলে জড়িত নয়।

মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার এসআই মো. ফারুক আহমেদ বলেন, মামলাটির তদন্ত চলছে। পুলিশ প্রতিটি বিষয় তদন্ত করছে। আমরা চাইবো, যাতে ওই নারী সুষ্ঠু ন্যায় বিচার পায় এবং তার সন্তানের পিতৃ পরিচয় পায়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!