ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালি ইলিশ
পটুয়াখালী উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের মুখে হাসি ফুটেছে। সাগরে জাল ফেললেই ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালি ইলিশ। ট্রলারভর্তি ইলিশ নিয়ে মহিপুর মৎস্য বন্দরে ভিড় জমাচ্ছেন জেলেরা। এতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আড়তদার, পাইকার ও শ্রমিকরা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সাগর থেকে ট্রলার ইলিশ বোঝাই করে ঘাটে ভিড়েছে। এসব ট্রলার থেকে কেউ ইলিশ নামাচ্ছেন আবার কেউ প্যাকেট করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে তুলে দিচ্ছেন ট্রাকে। এছাড়া পাইকাররা দাম হাঁকাচ্ছেন।
আরো পড়ুন: মিন্নির পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু
এদিকে পর্যাপ্ত ইলিশ আসায় খুশি ব্যবসায়ীরা। জেলেরাও এসব ইলিশ চড়া দামে বিক্রি করতে পারছেন। প্রতি মণ ইলিশ বর্তমানে ১৫-১৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মেসার্স মোল্লা ফিশের মালিক মো. ফারুক মোল্লা জানান, মার্চ থেকে করোনার প্রভাব এবং ৬৫ দিন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় জেলেরা খুব কষ্টে দিন পার করছিলেন। ২৩ জুলাই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর জেলেরা সাগরে মাছ শিকারে নামেন। কিন্তু তেমন মাছ ধরা পড়েনি। সপ্তাহখানেক আগে বৈরী আবহাওয়া থাকায় জেলেরা সমুদ্রে যেতে পারেননি। তবে গত দুই-তিন ধরে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালি ইলিশ ধরা পড়ছে।
আরো পড়ুন: আহত মুসল্লিদের রক্ত দিতে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়
মেসার্স মাহিয়া ফিশের মালিক জানান, প্রায় ৭০ হাজার টাকার সরঞ্জাম কিনে মাঝিদের সাগরে পাঠানো হয়। তিনদিন পর্যন্ত ইলিশ ধরে তারা ফিরে আসেন। এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি করা হয়েছে।
আলিপুরের মায়ের দোয়া ট্রলারের মালিক মো. রাসেল বলেন, মাত্র পাঁচদিনের মাথায় ৭৫ মণ ইলিশ পেয়েছি। প্রতি মণ ১৭ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে। এতে মোট ১২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পেয়েছি।
আরো পড়ুন: মোবাইল চুরির অভিযোগে কিশোরকে দড়ি দিয়ে বেঁধে বেধড়ক মারধর
এফবি ফয়সাল ট্রলারের মাঝি আবু মুন্সি বলেন, মহাজনদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে মাছ ধরতে হয়। এতদিন মাছ ধরা না পড়ায় খুব হতাশায় ছিলাম। তবে এখন জাল ফেললেই মাছ ধরা পড়ে। এভাবে ২০ দিন থাকলে ধার দেনা শোধ করতে পারবো।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমাদুল্লাহ বলেন, এখন ইলিশের মৌসুম। এবার করোনা, আম্ফান, নিম্নচাপ ও অবৈধ জালের ব্যবহার না হওয়ায় ইলিশের পরিমাণ বেশি।
আরো পড়ুন: তানভীরের ২০০ টাকার বাগানে এখন লাখ টাকার ফুল
আলীপুর-কুয়াকাটা মৎস্য আড়তদার মালিক সমিতির সভাপতি আনসার মোল্লা বলেন, এ বছর যে পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ছে এর বেশিরভাগই বড় সাইজের। এতে দামও বেশি পাওয়া যায়। তবে এ অঞ্চলে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র না থাকায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলেরা।