ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

মাকে নিয়ে মাইজভাণ্ডার যাওয়া হলো না নেওয়াজের

পতেঙ্গায় তেলের ট্যাংক বিস্ফোরণ
চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৪০, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
মাকে নিয়ে মাইজভাণ্ডার যাওয়া হলো না নেওয়াজের
বিস্ফোরণে নিহত নেওয়াজ ও ক্ষতিগ্রস্ত তেলের ট্যাংকের গাড়ি

নেওয়াজ উদ্দিন। চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউপির বদুপাড়া এলাকার জানে আলমের তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে সবার ছোট তিনি। তার বড় ভাই কপিল উদ্দিন দুবাই প্রবাসী। ভাগ্য বদলের আশায় এক বছর আগে শ্রমিক হিসেবে সেখানে পাড়ি জমালেও বর্তমানে কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। 

এদিকে, মাত্র ১৩ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে লেখাপড়া ছেড়ে পরিবারের হাল ধরেছিলেন নেওয়াজ। কাজ করতেন ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি হিসেবে। এভাবেই চলছিল জীবন।  

বৃহস্পতিবার মাকে নিয়ে মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ জেয়ারতে যাবার কথা ছিল নেওয়াজের। কিন্তু এর আগেই ভয়াবহ এক বিস্ফোরণ কেড়ে নিল তার প্রাণ।
বুধবার নগরীর পতেঙ্গার ১৪ নম্বর ঘাটের কাছে ইনকনট্রেড নামের একটি বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে গাড়ির তেলের ট্যাংক বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় নেওয়াজসহ তিনজনের। পরে আহত অবস্থায় ঢাকায় নেয়ার পথে মৃত্যু হয় আরো একজনের।

এ ঘটনায় নিহত অন্য তিনজন হলেন আরমান, মুক্তার ও রবিউল। 

আহতরা হলেন জোবায়েদ ও আমির। তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

এদিকে, মৃত্যুর চারদিন পেরোলেও এখনো নেওয়াজের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। আদরের ছোট ছেলেকে হারিয়ে বিলাপ করে কাঁদছেন মা খোরশেদা খানম। ছেলের এমন অকাল মৃত্যু যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার আমাকে নিয়ে মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ জেয়ারতে যাওয়ার কথা ছিল নেওয়াজের। গাড়িও ভাড়া করা হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই আল্লাহ আমার বুকের ধনকে কেড়ে নিল। আল্লাহ কেন আমার সঙ্গে এমন করলো জানি না।

তিনি বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর খুব আদর-স্নেহ দিয়ে বড় করেছি তাদের। আমি ছিলাম তাদের মা, আমিই বাবা। আমার স্বপ্ন ছিল তারা একদিন বড় হয়ে সুন্দর জীবনযাপন করবে। স্বপ্নগুলো যেন অধরাই রয়ে গেল।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ/এমআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!