ইজারা মাত্র সাত টাকা, দিতে হয় ৩০০
পিরোজপুরের কাউখালীতে হাট-বাজারের ইজারা আদায় নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। করোনায় আয় কম হওয়ায় অতিরিক্ত ইজারা ও জায়গার ভাড়া দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ইজারার পরিমাণ ৭ টাকা হলেও নেয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। একেকজনের কাছ থেকে একেকরকম ইজারা নিচ্ছেন ইজারাদার। কিন্তু দিচ্ছেন না কোন রশিদ। নিয়ম না মেনে হাট-বাজারে দেয়া হয়েছে সাব ইজারাও।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্ধারিত ইজারার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা নেয়া হচ্ছে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। চাহিদামত ইজারা না দিলে মারধরের শিকার হতে হয় তাদের। আবার ইজারা নিয়ে দেয়া হয় না কোনো রশিদ। পুরো বাজারের কোথাও নির্ধারিত ইজারার তালিকা নেই। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেয়া হয় সবচেয়ে বেশি টাকা। এতে হুমকির মুখে পড়ছে কাউখালী হাটের ঐতিহ্যবাহী।
এ নিয়ে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি ব্যবসায়ীরা। এ কারণে হাট থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই।
কাউখালী হাটের মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহেল বলেন, চটে বসে জায়গার ভাড়া দিয়েই মাছ বিক্রি করি। বেচাকেনার শুরুতেই ইজারাদারের লোক এসে ১৫০-২০০ টাকা ইজারা নিয়ে যায়। নিয়মিত ইজারা দিচ্ছি কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো রশিদ পাইনি।

আরেক মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল বলেন, ইজারা নেয়ার নির্দিষ্ট নিয়ম থাকলেও আমাদের কাছ থেকে ইজারাদারের লোকজন একেকরকম ইজারা তোলে। আমরা বহুবার আবেদন করেছি যে বাজারে ইজারার তালিকা টাঙিয়ে দেয়া হোক। এতে উল্টো আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, ঐতিহ্যবাহী এ হাটে ইজারা আদায়ের কোনো নিয়ম নাই। ব্যবসায়ীদের সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থা নাই। রোদ-বৃষ্টিতে খোলা আকাশের নিচে কর্দমাক্ত মাটিতে বসে ব্যবসা করতে হয়। কিন্তু ইজারা কখনো মাফ হয় না। সরকারি ইজারা ৭ টাকা। কিন্তু ইজারাদার নিচ্ছে ৫০-৩০০ টাকা পর্যন্ত।
ইজারা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করলেন কাউখালী হাটের ইজারাদার শাহ আলম নসু। তিনি বলেন, শতকরা ৫ টাকা ইজারা নেয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী ইজারা নেয়া হয় না। একজন খুচরা ব্যবসায়ী প্রতি হাটে কমপক্ষে ১০-১৫ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করেন। সে অনুযায়ী শতকরা ২-২.৫ টাকা নেয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, আমি ইজারাদার হিসেবে নতুন। বিষয়টি পুরোপুরি বুঝে গণ্যমান্যদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুনভাবে ইজারা আদায়ের কৌশল নির্ধারন করবো।
কাউখালীর ইউএনও খালেদা খাতুন রেখা বলেন, আমি এরইমধ্যে ব্যবসায়ী ও ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলেছি। সরকার নির্ধারিত ইজারা উল্লেখ করে বাজারে তালিকা টাঙানোর নির্দেশনা দিয়েছি। ইজারা আদায়ের রশিদ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। বাজারের পরিবেশ সুন্দর করার জন্য কয়েকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। আবহাওয়ার পরিবর্তন হলে কাজ শুরু করবো।