ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

৫০ হাজার টাকা না দেয়ায় লাইনের সংস্কার করেনি তিতাস

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৪৬, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
৫০ হাজার টাকা না দেয়ায় লাইনের সংস্কার করেনি তিতাস
বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদ

বাইতুস সালাত জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি হান্নান মিয়া নিজেও এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। তিনি কয়েকদিন আগে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে এ লাইন সংস্কারের কথা বলেছিলেন। কিন্তু তিতাস তখন ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না দেয়ার কারণে লাইন মেরামত বা সংস্কার করেনি। ফলে লিকেজ হয়ে অন্য দিনের মতোই গ্যাস জমে যায় মসজিদে। আর গরমের কারণে এসি চালানোর ফলে বাতাস বের হতে না পারায় গ্যাস জমে যায়। আর সেই থেকেই মূলত দুর্ঘটনা ঘটেছে।

নারায়ণগঞ্জের ওই মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে। এ অভিযোগ করেছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।

মসজিদ কমিটির সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন, পাইপ মেরামত করতে কমিটির পক্ষ থেকে আমরা তিতাস কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েছি। কিন্তু তারা টাকা দাবি করলে এ বিষয়ে আর গুরুত্ব দেয়া হয়নি।

এদিকে শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে তিতাস গ্যাস অ্যান্ড ট্রান্সমিশন কোম্পানির এমডি মো. আল মামুন বলেছেন, মসজিদে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় তিতাসের কোনো গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শনিবার সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে কয়েকজন মুসল্লি জানান, মসজিদের নিচ দিয়ে গ্যাস লাইনের পাইপ বসানো ছিল। নামাজ পড়তে এলেই পাওয়া যেত গ্যাসের গন্ধ। এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির মাধ্যমে একাধিকবার জানানো হয়েছিল তিতাস কর্তৃপক্ষকে। তবে তারা এ বিষয়টি আমলে নেয়নি। তাদের গাফিলতিতেই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে জানতে তিতাসের নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. মুকবুল আহম্মদকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

শুক্রবার রাত পৌনে ৯টায় নারায়ণগঞ্জের তল্লার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ৪০ জনের বেশি মুসল্লি দগ্ধ হন। দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৭ জনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের নারায়ণগঞ্জের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আরেফিন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে মসজিদের তল দিয়ে গ্যাসের একটি পাইপ রয়েছে। ওই পাইপের লিকেজ দিয়ে মসজিদের ভেতরে গ্যাস জমে যায়। এর মধ্যে এসি চলার কারণে মসজিদের ভেতরে সবগুলো জানালা ও দরজা টাইট করে বন্ধ ছিল। ফলে নির্গত গ্যাস বের হতে পারেনি। বিস্ফোরণের আগে কেউ হয়তো বাতি বা বিদ্যুতের কিছু জালানোর সময়ে স্পার্ক করে। সেই স্পার্ক থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে সেটার কারণে এসি ও বাইরের ট্রান্সফরমারেও আগুন ধরতে পারে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!