ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

মাছ ধরায় প্রতিবন্ধী পরিবারের ওপর হামলা, অন্তঃসত্ত্বাসহ আহত ৮

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:৩১, ২ সেপ্টেম্বর ২০২০
মাছ ধরায় প্রতিবন্ধী পরিবারের ওপর হামলা, অন্তঃসত্ত্বাসহ আহত ৮
চিকিৎসাধীন আহতরা

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রায়পুর গুচ্ছ গ্রামে বসবাসকারী প্রভাশালী গ্রুপের হামলায় অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ একই পরিবারের আটজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতদের উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় চারজনকে বিবাদী করে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

রায়পুর বাজারপাড়ার মুসলেম মুন্সীর ছেলে কবির হোসেন বলেন, রায়পুর গুচ্ছ গ্রামে সরকারের দেয়া বাড়িতে জাহাঙ্গীর আলম,আব্দুল মান্নান ও আলামিনরা তাদের বাবা-মা নিয়ে বসবাস করেন। সেখানে সরকারের দেয়া ‘দোয়া’ নামে পুকুরটি গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দারা মাছ চাষ করে সবাই সমানভাবে ভোগ দখলের কথা থাকলেও সেখানে প্রভাবশালী করম আলীর ছেলে আব্দুল মালেক, তাহের আলী, হানেফ আলীর ছেলে দীপু ও আজাহার আলীর ছেলে জেহের আলী পেশীশক্তির বলে লিজের নামে দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগ দখল করে আসছে। 

এ অবস্থার মধ্যে সম্প্রতি অতি বৃষ্টির কারণে পুকুর ভেসে মাছ পার্শ্ববর্তী ক্ষেতে যাওয়ায় মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার সময় আমার ভাতিজা জাহাঙ্গীর, আলামিন ও মান্নান সবার সঙ্গে মাছ ধরার সময় লিজ গ্রহণকারীরা হামলা চালিয়ে তাদেরকে আহত করে। ঘটনা শুনে আমি, আমার শারীরিক প্রতিবন্ধী ভাই হজল মণ্ডল ও খলিল মিয়া ও ভাইয়ের অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূ সাবনুর খাতুন, ভাইয়ের জামাতা বিল্লাল হোসেন সেখানে গেলে আমাদেরকেও বেধড়ক মারপিট করে আহত করে। লোকজনের সাহায্যে আহতদের উদ্ধার করে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রতিপক্ষরা আমাদেরকে গুচ্ছ গ্রাম থেকে উচ্ছেদ করতে হুমকি দিচ্ছে।

আমাদের পরিবারের অধিকাংশ সদস্য জন্ম সূত্রে শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং হতদরিদ্র। অপরদিকে প্রতিপক্ষরা সরকারি চাকরি করে এবং সেখানে পাকা বিল্ডিং গড়ে তুলেছে। ঘটনার ব্যাপারে আমি বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

রায়পুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ শাহ বলেন, ঘটনার সময় আমি এলাকায় ছিলাম না, সন্ধ্যায় বাড়িতে আসার পর ঘটনার কথা লোক মুখে জানতে পারি। গুচ্ছ গ্রামে নিদিষ্ট সংখ্যার বাইরে অনেক মানুষ বসবাস করেন। আগের মতো সেখানে অবস্থা নেই।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ মালেক, দীপু, তাহের ও  জেহের গুচ্ছ গ্রামে প্রভাবশালী হওয়ায় তারা সেখানে বাসিন্দাদের পাত্তা না দিয়ে সেখানে মানুষের ওপর নানাভাবে অত্যাচার নির্যাতন করে থাকে এবং পুকুরটিও তারা খেয়াল খুশি মতো ভোগ দখল করছে। মঙ্গলবার বিকেলে মাছ ধরার কারণে প্রতিবন্ধী হজলের পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে তাদেরকে আহত করেন।

জীবননগর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। ঘটনাটি আরো তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!