মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে হাজারো পরিবারের বসবাস
চট্টগ্রাম নগরীতে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় রয়েছে ১৭টি। আর এসব পাহাড়ের চূড়া ও পাদদেশে মৃত্যুঝুঁকি জেনেও বসবাস করছে ১২ শতাধিক পরিবার। বর্ষা মৌসুম এলে পাহাড় ধসে চাপা পড়ে অনেক বসতঘর। এতে প্রাণ হারান অনেকে। তবু থেমে নেই তাদের বসবাস।
প্রতি বছর বর্ষার আগে এসব পাহাড়ে উচ্ছেদ অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতর। এ সময় কিছুটা নিয়ম-নীতি মানলেও উচ্ছেদ অভিযান শেষে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাতেই থাকতে শুরু করেন পাহাড়িরা। আর এ ক্ষেত্রে কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কমার কথা থাকলেও এসব পাহাড়ে দিন দিন বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে। গত বছর ১৭টি পাহাড়ে অবৈধ ৮৩৫ পরিবারকে চিহ্নিত করে জেলা প্রশাসন ও পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি। এ বছর তা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ২৩৫। এরমধ্যে নতুন চিহ্নিত ৪০০ পরিবার বসবাস করছে ফৌজদারহাট-বায়েজিদ লিঙ্ক রোড সংলগ্ন পাহাড়ে। ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট সংলগ্ন পাহাড়ে রয়েছে ৩৩৪ পরিবার।
চট্টগ্রামে কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। আর এ কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা করছেন অনেকে। এদিকে পাহাড়ে বসবাস করা লোকজনদের কয়েকদিন ধরে মাইকিং করেও সরানো যাচ্ছে না।
পাহাড়ে বসবাস বন্ধ করতে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ লাইন একাধিকবার বিচ্ছিন্ন করেছে প্রশাসন। কিন্তু ফের আগের জায়গায় ফিরে আসেন এসব বসবাসকারীরা। কোনোরকম বাঁশের বেড়া, প্লাস্টিক ছাউনি কিংবা টিন দিয়ে ছোট ছোট বসতঘর তৈরি করা হয়েছে পাহাড়ে। আর সেখানেই গাদাগাদি করে থাকছেন অনেক বাসিন্দা।
পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল্লাহ নূরী বলেন, মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে ১৭টি পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করা এক হাজার ২৩৫টি পরিবারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরইমধ্যে সাড়ে ৩শ’ পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। কিন্তু উচ্ছেদ করলেও সামান্য টাকার বিনিময়ে মৃত্যুঝুঁকি জেনেও পাহাড়ে মানুষদের বসবাসের সুযোগ করে দিচ্ছেন কিছু লোক।
জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করা লোকজনকে সরিয়ে নিতে মাইকিং ও উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ লাইন একাধিকবার বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। কিন্তু ফের বসবাস শুরু করেন তারা।