ঢাকা,  বুধবার   ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

রেস্টুরেন্টে খেতে বসে মাছের সঙ্গে খেলা ভোজনপ্রেমীদের

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:০২, ২২ আগস্ট ২০২০
রেস্টুরেন্টে খেতে বসে মাছের সঙ্গে খেলা ভোজনপ্রেমীদের
মাছের সঙ্গে খেলা করছে ভোজনপ্রেমীরা

স্বচ্ছ কাঁচের মেঝের নিচে জলরাশিতে খেলা করছে নানা বর্ণের মাছ। সেই মেঝেতে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে নানা রকম সুস্বাদু খাবার পরিবেশন। ফেসবুক ও ইউটিউবের বদৌলতে এমন আদলের রেস্টুরেন্টের দেখা প্রায়ই মেলে। সেই বাস্তবতাকে ধারণ করলেন সাতক্ষীরার মো. দেলোওয়ার হোসেন। তারই আলোকে সাতক্ষীরা শহরের বাইপাস সড়কের বকচরা মোড় এলাকায় স্থাপন করেছেন ‘মৌবন’ নামে একটি রেস্টুরেন্ট।

সরেজমিনে রেস্টুরেন্টটিতে দেখা যায়, গোড়ালি পর্যন্ত পানি, তার মধ্যে রঙিন মাছের আনাগোনা। কখনো মাছ কামড়ে দিচ্ছে পা। এমন অনুভূতির মধ্যদিয়েই সেখানে বসে খাচ্ছেন ভোজনপ্রেমীরা। মাছের সঙ্গে শিশুরা মেতে উঠছে আপনমনে। 

রেস্টুরেন্টের ভেতরে রয়েছে গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা। এছাড়া বসা ও খাওয়ার জন্য রয়েছে পৃথক জায়গা। নিজেদের পছন্দ মতো জায়গায় বসে খাওয়া যায়। পানির মধ্যে ক্যাট ফিস, কমেট ফিস, গোল্ড ফিস, ব্লু ফাইটারসহ ১৫ প্রজাতির মাছ আছে।

মৌবন রেস্টুরেন্ট ভোজনপ্রেমীদের ভিড়

রেস্টুরেন্টে আসা ভোজনপ্রেমীরা বলেন, হোটেলটির পরিবেশ অনেক সুন্দর। পানিতে মাছ আর সেখানে গোড়ালি সমান পানিতে বসে খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। শিশুরা মাছের সঙ্গে বেশি আনন্দ করছে। খাওয়ার সময় মাছ কামড় দিচ্ছে পায়ে। এ এক অন্যরকম অনুভূতি। শহরের অন্য হোটেল বা রেস্টুরেন্ট থেকে এখানকার পরিবেশ ভিন্ন। রেস্টুরেন্টের খাবারের দামও সাশ্রয়ী। সবমিলিয়ে  কাছে ভালো লেগেছে।

গত ৩০ জুলাই ব্যতিক্রমধর্মী এ রেস্টুরেন্টটি উন্মুক্ত করা হয়। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই সাড়া ফেলেছে মানুষের মাঝে। পা ডুবিয়ে খাওয়ার স্বাদ উপলব্ধি করছেন অনেকে। প্রতিদিন ৩৫-৪০ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে।

রেস্টুরেন্টের মালিক মো. দেলোওয়ার হোসেন বলেন, প্রথমে ইউটিউবে পানির মধ্যে রেস্টুরেন্ট আর সেখানে বসে মানুষ খাবার খাচ্ছে- এমন একটি ভিডিও দেখি। দেখার পর ভালো লেগে যায়। সেখান থেকেই এমন রেস্টুরেন্ট করার পরিকল্পনা করি। অবশেষে ‘মৌবন’ নামে রেস্টুরেন্টটি করেছি।

তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন শত শত মানুষ আসছে। কেউ দেখতে আসছে আবার কেউ পরিবার নিয়ে খেতে আসছে। বাচ্চারা পানিতে মাছের সঙ্গে খেলছে। সবাই খুব উপভোগ করছে। আশা করছি, অভিনব রেস্টুরেন্টটি সবার ভালো লাগবে। ভবিষ্যতে ভোজনপ্রেমীদের উপস্থিতি আরো বাড়বে।

রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার বনি আমিন বলেন, প্রতিদিন ৭০-৮০ জন কাস্টমার আসে। সকাল ১০টা-রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বিকেল ৩টার পর বিভিন্ন শ্রেণিপেশার অতিথিরা আসে। ১০ জন কর্মচারী আছে। এখানে চাইনিজ, সী ফুড, বাংলা, ফাস্টফুডসহ সব ধরনের খাবার পাওয়া যায়। প্রতিদিন ৩৫-৪০ হাজার টাকা বিক্রি হয়।

তিনি বলেন, এখানে সাগরের রূপচাঁদা, লবেস্টার, ইলিশ, ভেটকি, পারশেসহ চাইনিজ খাদ্যসামগ্রী আছে। করোনার মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই রেস্টুরেন্টটি পরিচালনা করা হচ্ছে। যেহেতু এটি নতুন, তাই অনেকেই এখনো জানতে পারেনি। আশা করি, পরিচিতি বাড়লে গেস্টও বাড়বে।’

মাছ ও পানির পরিচর্যার ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রতিদিন সকালে মাছের পানি বদলানো হয়। টিউবওয়েল থেকে মোটরের মাধ্যমে পানি তুলে ট্যাংকিতে রাখা হয়। সেখানে ফিল্টারিং করে আরেকটি পানির ট্যাংকে রেখে সেই পানি মাছের জন্য দেয়া হয়। ভেতরে ছোট একটি জায়গা আছে। পানি বদলানোর সময় মাছ সেখানে থাকে।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. অসীম কুমার সরকার বলেন, শিশুদের ব্যাপারে একটু খেয়াল রাখতে হবে। এমন রেস্টুরেন্টে শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। শিশুদের মাছের সঙ্গে খেলার সময় বেশি হলে পানিবাহিত রোগ হতে পারে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!