ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

৩৩ বছরেও অক্ষত দেশের সবচেয়ে বড় মাটির প্রাসাদ

নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৩৮, ১১ আগস্ট ২০২০
৩৩ বছরেও অক্ষত দেশের সবচেয়ে বড় মাটির প্রাসাদ
৩৩ বছর আগে তৈরি ১০৮ কক্ষের মাটির তৈরি বিশাল বাড়ি

আবহমান বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্যের চিরচেনা মাটির ঘর। মাটির ঘর হচ্ছে গ্রাম বাংলার চির ঐতিহ্যের নিদর্শন সবুজ শ্যামল ছায়া-ঘেরা শান্তির নীড়। এক সময় গ্রামের বিত্তশালীরা অনেক টাকা ব্যয় করে মাটির বাড়ি তৈরি করতেন। তবে ইট, বালি ও সিমেন্টের এ আধুনিকতায় মাটির বাড়ি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

সময়ের সঙ্গে মাটির বাড়ির প্রচলন হারিয়ে গেলেও আজো সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে ৩৩ বছর আগে তৈরি করা নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নের আলিপুর গ্রামে ১০৮ কক্ষের মাটির তৈরি বিশাল বাড়িটি। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে মাটির এই বাড়িটি দেখতে আসছে দর্শনার্থীরা। 

বিশাল এই বাড়িটি নির্মাণ করেন সহোদর- সমশের আলী মণ্ডল ও তাহের আলী মণ্ডল। ৩৩ বছর আগে ৩ বিঘা জমির উপর মাটির এই দোতলা বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন তারা। বিশাল এই বাড়িটির দৈর্ঘ্য ৩০০ ফিট এবং প্রস্থ ১০০ ফিট। 

জানা গেছে, জেলার মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর ইউপির আলিপুর গ্রাম। নওগাঁ শহর থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে গ্রামটির দূরুত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার এবং মহাদেবপুর উপজেলার সদর থেকে দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। নওগাঁ-মহাদেবপুর আঞ্চলিক সড়কের তেরমাইল নামক মোড় থেকে পশ্চিমে পাঁচ কিলোমিটার দূরে যেকোনো যানবাহনে যাওয়া যাবে।

মাটির বাড়িটির দোতলায় ওঠার জন্য রয়েছে আঠারটি সিঁড়ি১৯৮৬-৮৭ সালে এ গ্রামের সম্পদশালী সহোদর সমশের আলী মণ্ডল ও তাহের আলী মণ্ডল প্রায় নয় মাস সময় নিয়ে ১০৮ কক্ষবিশিষ্ট মাটির দ্বিতল ঘর তৈরি করেন। বাড়িটি ৩ বিঘা জমির উপর নির্মিত। যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০০ ফুট এবং প্রস্থ ১০০ ফুট। বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৮০ জন কারিগর দিয়ে বাড়িটি সম্পূর্ণ করতে সময় লেগেছিল প্রায় নয় মাস। এ বাড়ির পশ্চিম পাশে একটি পুকুর খনন করা হয়েছে। আর ছাউনির জন্য টিন লেগেছে ২শ’ বান্ডিল। সে সময় দোকানদার খুশি হয়ে দুই ভাইকে একটি সাইকেল উপহার দিয়েছিলেন। বাড়িসহ আশপাশের জমি রয়েছে প্রায় ২১ বিঘা। বাড়িটির সৌন্দর্য বাড়াতে চুন ও আলকাতরার প্রলেপ দেয়া হয়েছে। মাটির এই বাড়িটি দেখতে অনেকটা প্রাসাদের মতো। বাড়িটির নাম ‘মণ্ডল ভিলা’ হলেও বর্তমানে ‘নওগাঁর মাটির প্রাসাদ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। 

বিশাল এই বাড়িতে প্রবেশের দরজা রয়েছে ১১টি। তবে প্রতিটি ঘরে রয়েছে একাধিক দরজা। দোতলায় উঠার সিঁড়ি রয়েছে ১৩টি। বর্তমানে বাড়ির শেষ অংশে ইট দিয়ে কিছু আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ফলে আগের মতো বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে আর সব ঘর দেখা যায় না এবং সব ঘরেও প্রবেশ করা যায় না। বিশাল এই বাড়িতে ছোট-বড় সবাই মিলে বর্তমানে ৪০ জন মানুষ বসবাস করছে।

মান্দা নিচকুলিহার গ্রামের শিক্ষক মহসিন আলী বলেন, ঈদের ছুটিতে সময় করে বেড়াতে এসেছি। অনেক দিন থেকে বাড়িটির নাম শুনেছি কিন্তু কখনো দেখার সৌভাগ্য হয়নি।

৩৩ বছর আগে তৈরি ১০৮ কক্ষের মাটির তৈরি বিশাল বাড়ি তাহের আলী মণ্ডলের স্ত্রী হালিমা বেগম বলেন, গত কয়েক বছর থেকে বাড়িটি দেখার জন্য প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসেন। ঈদের সময় দিনে কয়েক হাজার মানুষের আনাগোনা হয়।

তিনি আরো বলেন, বাড়িটি তৈরির পর যখন নওগাঁয় টিন কেনার জন্য গৃহকর্তারা গিয়েছিলেন তখন দোকানিরা বলেছিলেন এতো টিন কি করা হবে। তাদের মনে সন্দেহ হয়েছিল অন্য কোনো কাজে লাগাবে কিনা। এরপর দোকানিরা বাড়িতে এসে দেখার পর টিন দিয়েছিলেন। পরে তারা খুশি হয়ে একটি সাইকেল উপহার দেন। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!