ইউএনও’র সহায়তায় ফুটফুটে ছেলের জন্ম দিল প্রতিবন্ধী নারী
করোনার কারণে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ১ নম্বর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ। তবে বিদ্যালয়ের খোলা বারান্দায় বেশ কিছুদিন ধরে এক ভবঘুরে মানসিক প্রতিবন্ধী নারী আশ্রয় নিয়েছেন। কিছুদিন আগে স্থানীয়রা লক্ষ্য করেন ওই নারী গর্ভবতী।
বিষয়টি সাঁথিয়ার ইউএনও এসএম জামাল আহমেদ শোনার পর তিনি ওই স্কুলের বারান্দায় গিয়ে প্রতিবন্ধী নারীকে দেখে আসেন। পরে তার নিরাপত্তার স্বার্থে গত সোমবার সমাজসেবা অধিদফতর রাজশাহীর সেফ হোমে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। এরপর বুধবার ওই নারী সেখানে একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন।
সাঁথিয়ার ১ নম্বর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আয়নুল হক জানান, তার স্কুলের বারান্দায় সবার কাছে পাগলি বলে পরিচিত এক তরুণী বারান্দায় থাকতেন। স্কুল বন্ধ বলে কোনো সমস্যাও হয়নি।
সাঁথিয়া সমাজসেবা অফিসের সুপারভাইজার আব্দুল খালেক জানান, ওই তরুণী ছিলেন গর্ভবতী। এ বিষয়টি সাঁথিয়ার ইউএনওকে জানানোর পর তিনি মডেল স্কুলে গিয়ে তাকে দেখে আসেন। তার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন। ইউএনও স্থানীয় একটি ক্লিনিকের মালিক ডা. আব্দুর রহিমের সঙ্গে তার চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলেন। চিকিৎসকের পরামর্শে ওই নারীর জন্য নিয়মিত পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
দ্যা ড্রীম সমাজ কল্যাণ সংস্থা নামে একটি সংস্থা ইউএনও’র আহ্বানে ওই প্রতিবন্ধী নারীর পাশে দাঁড়ায়। তারা ওই নারীকে পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করেন।
এদিকে ওই নারীর সম্ভাব্য প্রসবকালীন সময় এগিয়ে আসার পর ইউএনও তার নিরাপদ মাতৃত্বের পরিবেশের কথা ভাবেন। এক্ষেত্রে তার কোনো অভিভাবক না পাওয়ায় তাকে সমাজ সেবা অফিসের সেফ হোমে পাঠানোর কথা চিন্তা করেন। সে মোতাবেক তিনি রাজশাহী সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করেন।
গত সোমবার ইউএনও’র সার্বিক তত্ত্বাবধানে ওই মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে উদ্ধার করে রাজশাহী নারী পুনর্বাসন কেন্দ্র পাঠানো হয়।
রাজশাহী সেফ হোমের প্রধান লাইজু সিদ্দিক জানান, ওই অসহায় নারীকে সেফ হোমে ভর্তির একদিন পরই একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। এখন পুনর্বাসন কেন্দ্রে মা ও ছেলে সুস্থ রয়েছে। তিনি তার ফেসবুক ওয়ালে সাঁথিয়ার ইউএনও এসএম জামাল আহমেদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
সাঁথিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সেক্রেটারি মানিক মিয়া রানা জানান, সাঁথিয়ার ইউএনও শুধু রুটিন কাজই করেন না, তিনি মাঝে মধ্যেই নানা রকম মানবিক উদ্যোগ নেন। অসহায় শিক্ষার্থীর আর্থিক অনটনে যেন লেখাপড়া বন্ধ না হয় সেজন্য যেমন এগিয়ে যান তেমনি কোনো দরিদ্র বা প্রতিবন্ধীর পাশে একইভাবে এগিয়ে যান।
একই রকম মন্তব্য করেছেন মানবাধিকার কর্মী এবং সাঁথিয়া ডিগ্রি কলেজের সাবেক সহকারী অধ্যাপক আব্দুদ দাইন। তিনি জানান, ইউএনও এসএম জামাল আহমেদ চলতি করোনা সংকটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি বাড়ি ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন। কেউ আক্রান্ত হলে গভীর রাতেও রোগীর বাড়ি ছুটে যান। বাড়ি লকডাউন করেন পাশাপাশি খাবারের ব্যবস্থাও করেন। আবার করোনা সংক্রমণ রোধে কঠোর ভূমিকাও পালন করছেন হাট-বাজারে।
সাঁথিয়ার ইউএনও বলেন, একজন অসহায় মাকে সাহায্য করা দরকার, এ অনুভূতি থেকেই আমি ওই নারীকে একটু অন্ন ও আশ্রয় করে দেয়ার চেষ্টা করেছি। যেভাবে সহযোগিতা করা যায় তা করার চেষ্টা করেছি। এখন ভালো লাগছে যে, নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে ওই নারী নিরাপদে মা হতে পেরেছেন।