ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

বন্যায় বাড়ি হারিয়ে অসহায় গর্ভবতী, পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৫১, ১৯ জুলাই ২০২০
বন্যায় বাড়ি হারিয়ে অসহায় গর্ভবতী, পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও
গর্ভবতী সুরাইয়ার হাতে পুষ্টিকর খাদ্য ও ওষুধ তুলে দেন ইউএনও মামুন

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার বাঁশিলা দক্ষিণ পাড়া গ্রামের শরিফুল ইসলাম পারভেজ। বন্যায় নিজের বাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় গর্ভবতী মেয়ে সুরাইয়া আক্তারকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন পার্শ্ববর্তী শ্যামনগরের মো. বিনছের আলীর বাড়িতে।

ঘটনাটি ১৬ জুলাইয়ের। সেদিন সকালে হঠাৎ বারনই নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। এতে তলিয়ে যায় পুরো বাঁশিলা দক্ষিণ পাড়া গ্রাম। ঘরবাড়ি হারিয়ে নদী পার হয়ে বিনছের আলীর বাড়িতে গিয়ে ওঠেন পারভেজের পরিবারের পাঁচ সদস্য।

গণমাধ্যমের বদৌলতে এ খবর চোখে পড়ে নলডাঙ্গার ইউএনও আব্দুল্লাহ আল মামুনের। রোববার দুপুরে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়ে বিনছের আলীর বাড়িতে গিয়ে হাজির হয়েছেন তিনি। এ সময় সবার খোঁজ নেন ও গর্ভবতী সুরাইয়াকে পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী উপহার দেন ইউএনও মামুন।

নাটোর সদরের মা, শিশু ও পরিবার কল‌্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. ইয়াদুল ইসলাম বলেন, গর্ভবতীর শারীরিক অবস্থা ভালো আছে। ডেলিভারির সময় আসতে আরো এক মাস লাগবে। এই সময়ে আমাদের মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত তার খোঁজ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও কিছু ওষুধ দেয়া হয়েছে।

সুরাইয়ার পরিবারকে আশ্রয় দেয়া বিনছের আলী বলেন, সুরাইয়াদের সঙ্গে পরিচয় অনেক দিনের। ওদের ঘরবাড়ি বন্যায় ডুবে গেলে আমার বাড়িতে নিয়ে আসি। এখন একসঙ্গেই আছি আমরা।

সুরাইয়া আক্তার বলেন, আমার স্বামী একজন শ্রমিক। তিনি দিনাজপুরে কাজে আছেন। এরমধ্যেই এমন বিপদ। তবে বিনছের কাকার আশ্রয় ও ইউএনও স্যারের সহযোগিতা পেয়ে ভালো লাগছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাধনগর ইউপি মেম্বার আবদুল মালেক ব্যাপারী, ইউপি পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল হক ও নাজমা বানু।

গণমাধ্যম কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে ইউএনও আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বন্যায় বাড়িঘর হারিয়ে গর্ভবতী সুরাইয়ার অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নেয়ার খবরটি পত্রিকায় পড়েছি। এরপর খোঁজ নিয়ে তাকে দেখতে এসেছি। সঙ্গে থাকা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন।

তিনি আরো বলেন, যারা সুরাইয়াকে আশ্রয় দিয়েছেন তাদের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। সাইকেল মেকানিক বিনছের আলীর পরিবারেও ৯ সদস্য রয়েছেন। এত বড় পরিবার সামলে আরো পাঁচজনকে আশ্রয় দেয়া অনেক কঠিন। মধ্যবিত্ত বিনছের আলী মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!