ঢাকা,  শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

নারায়ণগঞ্জে সীমিত পরিসরে ১০৩টি গার্মেন্টস চালু

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:২০, ২৮ এপ্রিল ২০২০
নারায়ণগঞ্জে সীমিত পরিসরে ১০৩টি গার্মেন্টস চালু
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও লকডাউনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ১০৩টি গার্মেন্টস কারখানা সীমিত পরিসরে চালু হয়েছে। গার্মেন্টস মালিকরা জানান, কারখানাগুলো করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেয়া। 

সোমবার সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকার পোশাক কারখানা উৎপাদন শুরু করে। শ্রমিকেরাও কাজে যোগ দিয়েছে। তবে গত রোববার সকালে কয়েকটি কারখানা খুললেও সংখ্যা ছিল কম। এছাড়াও শ্রমিকদের উপস্থিতি তেমন দেখা যায়নি।

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে গত ২৫ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা বন্ধের ঘোষণা দেয় বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ। পরবর্তীতে সরকারি সাধারণ ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে তা ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এরপর রোববার থেকে সীমিত পরিসরে ধাপে ধাপে কারখানা খোলার সিন্ধান্ত নেয় সংগঠন দুটি।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪ এর পরিদর্শক (ইন্টেলিজেন্স) শেখ বশির আহমেদ বলেন, সোমবার নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পোশাক কারখানা খুলেছে ১০৩টি। যেখানে গত রোববার ছিল ৪৯টি। এগুলো সীমিত পরিসরে কাজ করছে।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত ২৩৫ কারখানার মধ্যে চালু হয়েছে ১৬টি, বিকেএমইএর ৭৯২ কারখানার মধ্যে ৬২টি, বিটিএমএর ১৭২টির মধ্যে ৯টি ও বেপজার অধীনে থাকা ইপিজেডে ৪৮ কারখানার মধ্যে ১৬টি চালু হয়েছে।’করোনা সংক্রমণ রোধে মালিকপক্ষকে বলেছি যাতে তাদের সুরক্ষা সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা হয়। আজ থেকে তারা সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। 

বিসিক এলাকার প্যানটেক্স ড্রেস লিমিটেড এর শ্রমিক আবু সাঈদ বলেন, রোববার যোগদান করলেও সোমবার থেকে পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। মেশিন দিয়ে চেক করে, দুই হাত ধুয়ে, স্প্রে করে তারপর কারখানায় ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়। এছাড়াও মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস দেয়া হয়েছে। পরে ভেতরেও একজনের সঙ্গে আরেকজনের ৩ ফুট দূরত্ব রয়েছে। যেখানে ১০০ জন কাজ করতো এখন সেখানে ৬০ জন শ্রমিক কাজ করছে। আমরাও দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করছি। এছাড়াও যাদের জ্বর, সর্দি ও কাশি আছে তাদের কারখানায় প্রবেশ করা নিষেধ। 

আরো কয়েকটি কারখানার শ্রমিকও এসব সুরক্ষা সরঞ্জাম পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

বিকেএমইএর সহ-সভাপতি ও বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আমাদের পুরোদমে কাজ শুরু হয়নি। বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত যারা আছে তাদের শুধু স্যাম্পল, নিটিং ও ডায়িং সেকশন চালুর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আগামী ২ মে থেকে গার্মেন্টস পুরোদমে কাজ শুরু হবে।

তিনি বলেন, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করেই ও অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা নিয়ে এবং ক্রেতা দেশগুলোর চাহিদা অনুযায়ী সীমিত আকারে নারায়ণগঞ্জসহ বিকেএমইএর অন্তর্ভুক্ত কারখানাগুলো খোলা হয়েছে। 

তিনি জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত ৮৩৮টি মধ্যে সোমবার খুলেছে ১৪৭টি। যেখানে রোববার খোলা ছিল ১০৫টি। এর মধ্যে শুধুমাত্র নারায়ণগঞ্জে ৩৯২টি কারখানার মধ্যে সোমবার ৬৬টি খুলেছে। যেখানে রোববার ছিল ৪৪টি কারখানা খোলা ছিল।

করোনার সংক্রমণ রোধে কারখানার শ্রমিকদের সুরক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, কারখানাগুলো করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। যেমন মাস্ক, হাত ধোয়া, ব্লিচিং পানি, হ্যান্ড স্যানেটাইজার ইত্যাদিসহ দূরত্ব নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে কারখানার বাইরে শ্রমিকদের চলাচলের ক্ষেত্রে ও তারা যেখানে বসবাস করছে সেখানে সামাজিক দূরত্ব মানা সম্ভব হচ্ছে না। এগুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই। এতে সংক্রামণ বেড়ে যায় কিনা এ নিয়ে শঙ্কিত। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জানানো হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের এডিসি মোহাম্মদ সেলিম রেজা বলেন, গার্মেন্টস মালিক পক্ষ জানিয়েছে কারখানা খুলবে। কিন্তু শ্রমিকদের বিষয়ে কি ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন তেমন কোনো আলোচনা হয়নি। এ বিষয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে সব থেকে বড় হলো শ্রমিকেরা নিজেরা সচেতন না হলে কোনো পদক্ষেপই কাজে আসবে না। এরই মধ্যে আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সচেতনতা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!