ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

হাসপাতালে নবজাতক রেখে পালালেন মা!

চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০১:৩৯, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯
হাসপাতালে নবজাতক রেখে পালালেন মা!
প্রতীকী ছবি

চাঁদপুরে প্রসবের পর নবজাতককে হাসপাতালে রেখেই পালিয়ে গেলেন প্রসূতি ও তার স্বজনরা।

ঘটনাটি ঘটেছে শহরের তালতলার দি ইউনাইটেড হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগণস্টিক সেন্টার নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে।

গত ১১ ডিসেম্বর রাতে এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে নবজাতকটিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেখভাল করছেন।

এর আগে গত নভেম্বর মাসের শেষদিকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে ১৫ দিনের মেয়ে নবজাতককে ফেলে রেখে পালিয়ে গিয়েছিল তার মা।

হাসপাতালের (অপারেশন ইনচার্জ) ওটি ইনচার্জ ডা. সুলতানা আক্তার সেতু বলেন, ১১ ডিসেম্বর রাত ৮টার পর প্রসূতি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টা দিকে একটি মেয়ে শিশু ভূমিষ্ঠ হয়। শিশুটি সময়ের আগে ভূমিষ্ঠ হয়। জন্মের সময় মাত্র এক কেজি ২শ’ গ্রাম ওজন ছিল (প্রিম্যাচুয়েট) তার। এ সময় নবজাতকের জন্য কিছু ওষুধ আনার জন্য স্বজনদের বললে, শিশুটিকে  হাসপাতালে রেখেই কৌশলে শিশুটির মা ও আত্মীয়রা পালিয়ে যায়। বর্তমানে আমরা শিশুটির চিকিৎসা করছি। তার অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা ভালো আছে।

ইউনাইটেড হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এএমএম শাহ আলম রবিন বলেন, আমরা হাসপাতালের রোগীর ঠিকানা অনুযায়ী সালমা বেগমের খোঁজ করেছি। কিন্তু এই ঠিকানায় কাউকে না পেয়ে মঙ্গলবার চাঁদপুর মডেল থানায় একটি জিডি করেছি। নবজাতকে নিয়ে আমরা এখন বিপাকে রয়েছি।

শাহ আলম আরো বলেন, গত ১১ ডিসেম্বর রাতে সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউপির ঠিকানা ব্যবহার করে সালমা বেগম নামে এক গর্ভবতী নারী হাসপাতালে ভর্তি হয়। এতে তার স্বামীর নাম আব্দুল হাকিম লেখা হয়। ওইদিন দিবাগত রাত সাড়ে ১০টায় নরমাল ডেলিভারিতে একটি মেয়ে শিশুর জন্ম দেন তিনি। সময়ের অনেক আগে বাচ্চাটি ভূমিষ্ঠ হওয়ায় তার ওজন অনেক কম ছিল। এসময় শিশুটির জন্য ওষুধ কেনার নাম করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অগোচরে নবজাতকের মা ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন হাসপাতালে শিশুটিকে রেখে পালিয়ে যায়। শারীরিকভাবে অসুস্থ শিশুটিকে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

হাসপাতালের আয়া সখিনা বেগম বলেন, বাচ্চাটির জন্ম হলে তার স্বজনরা মৃত মনে করে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। চোখের সামনে একটি বাচ্চাকে তো মরতে দিতে পারি না। বর্তমানে আমি বাচ্চাটির সেবা-যত্ম করছি।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর মডেল থানার এসআই মো. জহির বলেন, আমরা খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে শিশুটিকে দেখেছি। হাসপতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন শিশুটির মায়ের দেয়া ঠিকানা ভুল দিয়েছিল। মনে হচ্ছে অনৈতিক সম্পর্কের ফলে এই শিশুর জন্ম হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সমাজ সেবা অধিদফতরের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছি।

চাঁদপুরের এসপি মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, এই ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!