আইনস্টাইন ‘মাথামোটা’ ছিলেন!
পদার্থবিজ্ঞানের ‘প’ সম্পর্কেও যে ব্যক্তিটির ধারণা নেই, তিনিও অবশ্যই আলবার্ট আইনস্টাইন নামের এক মহান পদার্থবিদের নাম শুনে থাকবেন। হ্যাঁ, দুনিয়াজুড়ে এতটাই জনপ্রিয় এই জার্মান পদার্থবিদ! তার আবিষ্কৃত ইট ইজ ইক্যুয়াল টু এম সি স্কয়ার সূত্রটিকে তো বলা হয় সর্বকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় সূত্র! পৃথিবীর ইতিহাসের আরেক জনপ্রিয় পদার্থবিদ স্যার আইজ্যাক নিউটনের তত্ত্বগুলো নিয়ে যখন দুনিয়াবাসী সকলেই তুষ্ট, তখন কিন্তু মোটেও সন্তুষ্ট থাকেননি আইনস্টাইন।
ক্ল্যাসিকাল মেকানিক্স ও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ডের ক্ষেত্রে নিউটনের গতিসূত্রগুলো যে একেবারেই অসাঢ়, তা সর্বপ্রথম অনুধাবন করেছিলেন আইনস্টাইন, যা তাকে আপেক্ষিক তত্ত্ব বা থিওরি অফ রিলেটিভিটি প্রণয়ন করতে উৎসাহ যুগিয়েছিলো। এসবই পুরানো কচকচানি, শুনতে শুনতে বিজ্ঞানের ছাত্রদের মুখস্থই হয়ে গেছে বলা যায়। তাই আজ থাকছে আইনস্টাইনের জীবনের কিছু অজানা অধ্যায়ের গল্প-
১। জন্মের পর বাবা মা আইনস্টাইনের নাম রাখতে চেয়েছিলেন আব্রাহাম। কিন্তু পরে তারা ভাবলেন নামটা একটু বেশি ইহুদি ইহুদি লাগছে! শেষমেশ তারা আলবার্ট নাম রাখবেন বলেই মনঃস্থির করেন। তখনকার জার্মানিতে ইহুদিদের অবস্থা নতুন করে বুঝিয়ে বলতে হবেনা নিশ্চয়!
২। আইনস্টাইন জন্মেছিলেন মাথামোটা হয়ে! না মানে, বলতে চাইছি জন্মের সময় তার মাথাটা ছিলো স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ বড় আকৃতির। এ নিয়ে তার মা ও নানীর চিন্তার শেষ ছিলোনা। তবে সৌভাগ্যের বিষয় একটু বড় হওয়ার পর তার মাথা স্বাভাবিক আকৃতিতে ফিরে আসে।
৩। শৈশবে স্পিচ ডিফিকাল্টিতে ভুগতেন আইনস্টাইন। ৩ বছর বয়স পর্যন্ত একটি শব্দও বলতে পারতেননা তিনি! এখন যদিও মেডিকেল অভিধানে ‘আইনস্টাইন সিন্ড্রোম’ নামের একটি রোগই রয়েছে। অদম্য মেধাবী অনেক গুণীজনই এ ধরণের রোগ নিয়ে জন্ম নিয়ে থাকেন, যা একটু বয়স হলে সেরে যায়।
৪। আইনস্টাইন তার কৈশোর কাটিয়েছেন জার্মানির মিউনিখে। সেখানে তাদের পারিবারিক ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতির ব্যবসা ছিলো। ছোটবেলায় আইনস্টাইনের শখ ছিলো পাজল মিলানো এবং খেলনা দিয়ে টাওয়ার বানানো! আলবার্ট আইনস্টাইনের বোন মাজা আইনস্টাইন তার স্মৃতিচারণে উল্লেখ করেন শুধুমাত্র তাস ব্যবহার করেই আলবার্ট নাকি ১৪ তলা তাসের টাওয়ার বানিয়ে ফেলতেন! ছোটবেলা থেকে সমস্যা সমাধানের প্রতি ঝোঁক থাকায় পরবর্তীতে বড় মাপের বিজ্ঞানী হতে পেরেছিলেন আইনস্টাইন, এমনই ধারণা অনেকের।
৫। আইনস্টাইনের নাগরিকত্ব নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। জন্মগতভাবে তিনি ছিলেন জার্মান ইহুদি। ১৮৯৬ সালে তিনি তার জার্মান নাগরিকত্ব অস্বীকার করেন। ১৯০১ সালে সুইস নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। আইনস্টাইন ১৯৫৫ সালে মার্কিন নাগরিক হিসেবে মৃত্যুবরণ করেন।
৬। আইনস্টাইনের অদ্ভুত কিছু অভ্যাস ছিলো। নৌকাবাইচের শখ ছিলো তার আজীবন, কিন্তু কখনো সাঁতার শেখেননি। মোজা পরতে অনাগ্রহী ছিলেন সবসময়, প্রায়ই বলতেন মোজা পরার মতো অসহ্য কাজ নাকি আর হয়না! ধূমপানেও তীব্র আসক্তি ছিলো তার।
৭। আইনস্টাইন কিন্তু কমপ্রেস গ্যাস ব্যবহারকারী রেফ্রিজারেটরেরও সহ আবিষ্কারক ছিলেন! এছাড়াও ফটোইলেক্ট্রিক সেল, নিউক্লীয় শক্তি, ফাইবার অপটিক্স ও সেমিকন্ডাক্টরের আবিষ্কারক হিসেবেও তিনি অনেকের কাছে স্বীকৃত।
৮। পড়াশোনা শেষ করেও যারা চাকরি পাচ্ছেননা, তাদের জন্যও আইনস্টাইন হতে পারেন আদর্শ! জুরিখ পলিটেকনিক থেকে পাস করার দীর্ঘ ৯ বছর পর প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেয়েছিলেন আইনস্টাইন!
৯। শিক্ষকতার ক্ষেত্রে মৌলিক স্টাইল অনুসরণ করতেন আইনস্টাইন, নোট লেখার জন্য কাগজ নয়; বরং কার্ড ব্যবহার করতেন। জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন তিনি। পড়ানোর সময় ছাত্রদের প্রশ্ন করতেন, ছাত্রদেরও লেকচারের মাঝে প্রশ্ন করার স্বাধীনতা দিতেন। তখনকার দিনে শিক্ষকদের মধ্যে এমন উদার মানসিকতা খুব একটা দেখা যেতনা।
১০। আইনস্টাইনের স্মরণশক্তি নিয়েও হাসি ঠাট্টা হয়েছে প্রচুর। কারো নাম, দিন তারিখ বা ফোন নাম্বার কিছুই সহজে মনে রাখতে পারতেন না তিনি!
ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস