ঢাকা,  শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ সাতরং ]

আধুনিক ঢাকার প্রথম ঈদগাহ কোনটা জানেন?

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৪৮, ৮ জুলাই ২০২২
আধুনিক ঢাকার প্রথম ঈদগাহ কোনটা জানেন?
বাংলার সুবেদার শাহ সুজার নির্দেশে নির্মিত ঢাকার প্রথম ঈদগাহ- ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার মূল নগর যাকে আমরা পুরান ঢাকা বলি সেদিকে বেশ কিছু ঈদগাহ সুলতানী আমল থেকে চালু থাকলেও সেগুলোর কোনোটিই খুব বড় ছিল না। ১৬১০ সালে ঢাকা যখন সবেমাত্র রাজধানী হিসেবে গড়ে উঠলো তখন ধীরে ধীরে সেখানে অভিজাতদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছিলো। কিন্তু বড় আকারে ঈদের জামাত পড়ার জন্য তখনো তেমন কোনো ঈদগাহ গড়ে ওঠেনি। ঢাকাবাসীরা তখন খোলা প্রান্তরে ঈদের নামাজটা আদায় করে নিতো।

১৬৪০ খৃষ্টাব্দে বাংলার সুবেদার শাহ সুজার নির্দেশে তার প্রধান অমাত্য মীর আবুল কাসেম ঢাকার ধানমণ্ডিতে একটি ঈদগাহ নির্মাণ করেছিলেন। প্রথমদিকে এখানে শুধু সুবেদার, নায়েবে নাজিম ও অভিজাত মুঘল কর্মকর্তা এবং তাদের স্বজন, বন্ধু-বান্ধবরাই নামাজ পড়তে পারতেন। তখনো সাধারণ নগরবাসীরা এতে প্রবেশ করার খুব একটা সুযোগ পেতেন না। পরে ঈদগাহটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

নির্মাতার নাম এবং সেই সময়ে কে শাসক ছিলেন তার নাম ঈদগাহের প্রবেশদ্বারের উপর লাগানো কালো পাথরের একটা শিলালিপিতে লেখা ছিল, সেখানে আরো লেখা ছিল- ‘তিনি এমনই একটি ঈদগাহ নির্মাণ করেছেন, উচ্চতায় সেটি চাঁদের টুকরার ঈর্ষার বস্তু। তার মিম্বর, মিনার এবং শরীয়তের তারকার আবাসস্থল।  বিশেষত ন্যায়বিচারক আল্লাহতা’আলা তাকে এ প্রাসাদ নির্মাণ করার ক্ষমতা দান করছেন!’

সেই সময়ে এ ঈদগাহের পাশ দিয়ে পান্ডু নদীর একটি শাখা প্রবাহিত হতো। যেটি বর্তমানের সাতগম্বুজ মসজিদের কাছে মিলিত হতো বুড়িগঙ্গার সঙ্গে। ঐ অঞ্চলটার নাম ছিল তখন জাফরাবাদ।  মুঘল সুবাদার, নায়েবে নাজিম, অমাত্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে জাঁকজমকের সঙ্গে বুড়িগঙ্গা পারের ঢাকা নগর থেকে প্রায় এক ক্রোশ দূরের এই ঈদগাহে আসতেন দুই ঈদের নামাজ আদায় করতে।

সেই মুঘল আমল থেকে শুরু করে বিশ শতকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত ধারাবাহিক ভাবে এখানে ঈদের নামাজ আদায়ের কথা জানা যায়।  

ঢাকার নওয়াব বাড়ি আহসান মঞ্জিল থেকে তোপধ্বনি করে চাঁদ ওঠার খবর জানানোর রেওয়াজ ছিল। ঈদের দিন নানা রঙের পতাকা হাতে নিয়ে ঈদ মিছিল সহকারে ধানমণ্ডি ঈদগাহে নামাজ পড়তে যাওয়া হতো! এরপর কালের পরিক্রমায় অনেক পরিবর্তন এসেছে।

১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর একে সংরক্ষিত ইমারত হিসেবে ঘোষণা করে এবং বেশ কিছু সংস্কারও করে। তবে দূঃখজনকভাবে সংস্কারের সময়ে এর মূল বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণের তেমন কোনো চেষ্টা করা হয়নি। ১৫ ফুট উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ঈদগাহের পশ্চিম দিকের প্রাচীরটিই কেবল মুঘল আমলের। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ১৯৮৮ সালে সংস্কারের সময় অন্য তিন দিকের প্রাচীর নির্মাণ করেছে।

ধানমণ্ডির ঈদগাহে ১৫ ফুট উঁচু প্রাচীর রয়েছে- ছবি: সংগৃহীত

প্লাস্টার করা প্রাচীরের শীর্ষ প্রান্ত পারস্যরীতির ‘মোরলোন’ নকশাখচিত রয়েছে। বন্যা বা বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য চার ফুট ভূমি উঁচু করে ঈদগাহটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি লম্বায় ১৪৫ এবং চওড়ায় ১৩৭ ফুট। চার কোণে রয়েছে অষ্টভুজাকৃতির বুরুজ। পশ্চিম প্রাচীরের মাঝ বরাবর প্রধান মেহরাব। আরো দুটি ছোট আকারের মেহরাব আছে এর দুই পাশে। প্রধান মেহরাবটি অষ্টকোনাকৃতির। ভেতরের দিকে খানিকটা ঢালু খিলান আকৃতির।

মেহরাবগুলো দেয়ালের আয়তাকার ফ্রেমের ভেতরে অবস্থিত। প্রধান মেহরাবের দুই দিকে আছে বহু খাঁজবিশিষ্ট নকশা করা প্যানেল। এর উত্তর পাশেই তিন ধাপবিশিষ্ট মিম্বর। ভিতরের মাঠটি গাঢ় সবুজ ঘাসে ঢাকা আর একখানেই শত শত বছর ধরে ঈদের নামাজ আদায় করছেন আসছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএস

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকেএ
ট্যাগ: ঈদগাহ
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!