ঢাকা,  বুধবার   ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

[ সাতরং ]

রহস্যময় পতঙ্গ, মানুষের মুখ চিনতে পারে আবার গণিতেও পারদর্শী

সাতরঙ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪:০৭, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
রহস্যময় পতঙ্গ, মানুষের মুখ চিনতে পারে আবার গণিতেও পারদর্শী
ছবি: মৌমাছি

পৃথিবীতে মৌমাছির প্রায় ২০ হাজার প্রজাতি আছে। তার মধ্যে ভারতে বেশ কয়েক প্রজাতির মৌমাছি দেখা যায়। প্রাচীনকাল থেকে মৌমাছি মানুষের নিকট অতি পরিচিত এক প্রকার ক্ষুদ্র, উপকারী ও পরিশ্রমী পতঙ্গ।

সাধারণত দলবদ্ধভাবে বাস করে বলে এদের সামাজিক পতঙ্গ বলা হয়। মৌমাছিরা ফুলের পরাগায়ন ঘটিয়ে বনজ, ফলজ ও কৃষিজ ফসলের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। তবে মৌমাছি মধু তৈরি করে, এটা সবাই জানে। তবে এটা কি জানেন? মৌমাছি গণিতে পারদর্শী এক পতঙ্গ।

হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের কাছে মৌমাছি ছিল বুদ্ধিমত্তাবিহীন প্রাণী। আমাদের দৃষ্টিতে জৈবিক রোবট। যারা শুধু প্রকৃতি প্রদত্ত ভূমিকা পালন করে। এক শতাব্দী আগে অস্ট্রিয়ার ব্রুনউইঙ্কলে ধারণাটি ভুল প্রমাণিত হয়। শিশুকাল থেকেই কার্ল ভন ফ্রিস জানার চেষ্টা করতেন প্রাণীদের কাছে পৃথিবীটা কেমন? তিনি পরীক্ষা করতেন ছোট মাছগুলো রং কিংবা গন্ধ চিনতে পারে কিনা? এরপর সেগুলো ক্যামেরায় ধারণ করতেন। হাজারো বছর ধরে মানুষ মৌমাছিদের অদ্ভুত নৃত্য নথিভুক্ত করে এসেছে। তবে কার্ল ভন ফ্রিশের পূর্বে কেউ ভাবেনি কেন মৌমাছি এরকম অদ্ভুত ভাবে লাফালাফি করে। ভন ফ্রিশ প্রতিটি নাচের মুদ্রা নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেন।

মৌমাছির ঝাঁকতিনি একটি নির্দিষ্ট মৌচাকের একটি মৌমাছিকে চিনি মিশ্রিত পানি খেতে দেন। মৌমাছিটি প্রথমে কিছু চিনি মিশ্রিত পানি খেয়ে নেয় এবং মৌচাকের দিকে রওনা হয়। ততক্ষণে ভন ফ্রিশ মৌমাছিটিকে চেনার জন্য লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করেন। একই মৌমাছি কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে আসে। ভন ফ্রিশ লক্ষ্য করেন, কয়েক ঘণ্টা পর ওই মৌচাক থেকে দলে দলে মৌমাছি আসতে শুরু করেছে। অথচ অন্য কোনো মৌচাক থেকে একটি মৌমাছি ও আসেনি। তিনি মধুর পরিবর্তে চিনি মিশ্রিত পানি ব্যবহার করেছিলেন, তাই মৌমাছিদের গন্ধ অনুভূতি এখানে কাজ করেনি। ভন ফ্রিশ কয়েক কিলোমিটার দূরেও চিনি মিশ্রিত পানি স্থাপন করে একই ফলাফল পান। তবে কীভাবে অন্য মৌমাছিরা চিনির উত্‍স খুঁজে পেল?

প্রথম মৌমাছিটির নৃত্যের মাঝে এক গোপন সংকেত লুকায়িত ছিল। হাজার বছর ধরে মানুষ এই লাফালাফি কে অর্থহীন মনে করলেও এটি এক জটিল বার্তা সংকেত। গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং সময় জ্ঞানের সমন্বয়ের এক নিখুঁত সমীকরণ। মৌমাছিরা সূর্যের অবস্থানকে ব্যবহার করে খাদ্যের উত্‍স নির্দেশ করে‌। নৃত্যের দিক সূর্যের দিকে হলে খাদ্য সূর্যের দিকে এবং বিপরীত দিকে হলে খাদ্যও বিপরীত দিকে। কৌণিক অবস্থানে হলে এদের নৃত্যের দিক ও কৌণিক বরাবরই হয়। মৌমাছি নৃত্যের ব্যপ্তিকাল খাবারের উৎসের দূরত্ব নির্দেশ করে।  

ফুলের মধু খাচ্ছে মৌমাছিএই পদ্ধতি পৃথিবীর যেকোনো দেশে যেকোনো সময়ের জন্য সত্য। মানুষ ব্যতীত বুদ্ধিমান প্রাণী চিন্তা করলেই চোখে ভেসে ওঠে এলিয়েনের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু আমাদের পাশেই এক অসাধারণ বুদ্ধিমান প্রাণীর বসবাস যারা কিনা গণিতে পারদর্শী। মৌমাছি সম্পর্কে কম বেশি আমরা সবাই জানি তবে এমন অনেক কিছু অজানা তথ্য রয়েছে যা আমাদের জানা নেই। আজ তাই জানবো মৌমাছি সম্পর্কে এমন ১০ টি অজানা তথ্য-

> ২০০৮ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, এশিয়ান মৌমাছি এবং ইউরোপীয় মৌমাছি একে অপরকে বুঝতে পারে।

> ২০১২ সালের গবেষণায় গবেষকগণ দেখেছেন যে, মৌমাছির মানুষের মুখের ছবি মনে রাখতে পারে এবং পরে দেখলে সে মুখ চিনতেও পারে।

মৌমাছি> একটি মধু সংগ্রহকারি মৌমাছি এক সেকেন্ডে ২০০ বার তার ডানা ঝাপটায় যার ফলে এই মৌমাছি উড়ার সময় ভোঁ শব্দ হয়।

> একটি কর্মী মৌমাছি তার পুরো জীবনে গড়ে এক চা চামচের ১২ ভাগের এক ভাগ মধু সংগ্রহ করে থাকে।

> সব কর্মী মৌমাছি মহিলা হয়ে থাকে। এরা প্রায় ছয় সপ্তাহ বাঁচে এবং এই সময়ের মধ্যে সকল কাজ করে থাকে।

> পুরুষ মৌমাছি গুণ গুণ শব্দ করে। তাদের একমাত্র কাজ হল রানি মৌমাছিকে খুঁজে বের করা এবং তার সঙ্গে মিলিত হওয়া।

গণিতে পারদর্শী তারা> আফ্রিকার মধু সংগ্রহকারি মৌমাছি হত্যাকারী মৌমাছি নামে পরিচিত। মূলত এই সকল হত্যাকারী মৌমাছি ১৯৫৬ সালে ইউরোপীয় মৌমাছি এবং আফ্রিকান মৌমাছির মিলনের ফলে জন্মায়। ব্রাজিলে এই সব মৌমাছিকে দেখা যাওয়ার পর থেকে তারা সর্বমোট এক হাজার মানুষকে হত্যা করেছে।

> প্রতিটি মৌমাছির ১৭০ টি সুগন্ধি রিসেপটরস আছে। যার দ্বারা সে বিভিন্ন ফুল শনাক্ত করতে পারে এবং তার প্রয়োজন মত খাবার ও মধু সংগ্রহ করতে পারে।

> ১৭ শতকের শেষ এবং ১৮ শতকের প্রথম দিকে রানি মৌমাছিকে রাজা মৌমাছি মনে করা হত।

> রানি মৌমাছি প্রায় পাঁচ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে এবং সে গ্রীষ্মের মাসগুলোতে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২৫০০ টি ডিম দিয়ে থাকে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএমএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!