ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ রাজধানী ]

গুলশান-বনানীর সেই রমণীরা আড়ালে, খাঁ খাঁ করছে তারকা হোটেল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭:০৫, ১২ আগস্ট ২০২১
গুলশান-বনানীর সেই রমণীরা আড়ালে, খাঁ খাঁ করছে তারকা হোটেল
ফাইল ছবি

ধানমন্ডি, গুলশান, বারিধারা ও উত্তরা—এসব এলাকা সুন্দরী রমণীদের আনাগোনার কথা অনেকেরই জানা। বিশেষ করে তারকা হোটেল, সিসা লাউঞ্জ, ম্যাসাজ ও বিউটি পার্লারে আনাগোনা থাকতো সুন্দরী রমণীদের। চিত্রনায়িকা পরীমনি, বিতর্কিত মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌ গ্রেফতারের পর গা ঢাকা দিয়েছেন অনেকেই।

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নজরদারি রয়েছে। ফলে এসব এলাকার বিভিন্ন তারকা হোটেলে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দেখা মিলছে না বললেই চলে। সেই সঙ্গে আড়ালে আছেন সুন্দরী তরুণীরা।

করোনাকালে বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করেও বিভিন্ন ফ্ল্যাটে ‘অতিথি’ হওয়ার প্রবণতা কমেছে। পার্টি হাউস ও অসামাজিক কাজের ‘সেফ প্লেস’ হিসাবে পরিচিত কয়েকটি বাসার বাসিন্দারা গা-ঢাকা দিয়েছে। এমনকি নানা ফেসবুক গ্রুপও বন্ধ হয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে নিজের মুখ না দেখিয়ে নানা ছবি পোস্ট করার প্রবণতা কমেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘সেফ প্লেস’ এর নামে এসব বাসায় ধনীর দুলালদের ঘনিষ্ঠ হতো চক্রের তরুণীরা। অনেক নামি-দামি ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালীরাও সেখানে যেত। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গোপন ক্যামেরা দিয়ে তাদের বিশেষ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করা হতো। যেগুলো দিয়ে চক্রটি ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিত মোটা অংকের অর্থ।

বনানীর একটি সিসা লাউঞ্জের এক নিরাপত্তাকর্মী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, একটি সিসা লাউঞ্জের মালিক ব্লক এইচের ৭নং সড়কের একটি ভবনের দোতলার বাসায় নিয়মিত পার্টির আয়োজন করত। যেখানে নায়ক-নায়িকাদেরও যাতায়াত ছিল। অভিনেত্রী মডেলদের গ্রেফতারের পর সেটিও বন্ধ হয়েছে।

ফেসবুক পেজের মাধ্যমে রাজধানীতে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে দেহ ব্যবসা। চোখ ধাঁধানো ছবি আর শারীরিক তথ্যের নিচে দেওয়া থাকে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর। এভাবেই ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছিল চক্রগুলো। এছাড়াও অনেক সময় বাসা-বাড়িতেও হতো পার্টি। যেখানে মাত্রাতিরিক্ত নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করে অনেকেই অচেতন হয়ে পড়ত। তাদেরকেও করা হতো ব্ল্যাকমেইল। কিছু কিছু পার্টিতে আবার ‘পার্টি গাল’রা অতিথিদের সঙ্গ দিয়ে সেগুলোর ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করত। যা দিয়ে পরবর্তীতে ফাঁদে ফেলা হতো।

তবে এখন ‘রাতের রানীদের’ দেখা মিলছে এখন দিন-দুপুরে। যখন-তখন। ভার্চুয়াল-একচুয়াল। একটি ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দেয়া রয়েছে, ‘সারাদেশে কঠোর লকডাউন তাই রুমে গিয়ে কাজ করা পসিবল নয়। তাই এখন থেকে ক্যাম সার্ভিস এভেইলবল..।’ ওয়েভ ক্যামে নিজেদের নগ্নভাবে উপস্থাপন করেন। অশ্লীল অঙ্গ-ভঙ্গি ও কথা বলেন, শব্দ করেন। এজন্য বিকাশে এডভান্স দাবি করেন তারা। জানা গেছে, এই সার্ভিস বেশি নিয়ে থাকেন মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীরা।

সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশনের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) মো. নাজমুল ইসলাম জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে। যারা অপরাধ করছেন। নগ্নতা, অশ্লীলতা ছড়াচ্ছেন তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এনকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!