ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ক্যাম্পাস ]

মাস্টার্স সম্পন্নের আগেই জজ হলেন আল-ফিকহ বিভাগের রাজু

ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৩:১৬, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মাস্টার্স সম্পন্নের আগেই জজ হলেন আল-ফিকহ বিভাগের রাজু
আল-ফিকহ বিভাগের শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ


‎ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) 'আল-ফিকহ অ্যান্ড ল' বিভাগের শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় ২৬তম হয়েছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর)  বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের (বিজেএসসি) আদেশক্রমে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তসলিম আরিফের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

‎জানা যায়, তিনি এখনও আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগে স্নাতকোত্তর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে অধ্যায়নরত আছেন। এই বিভাগ থেকে থেকে দ্বিতীয় তম বিচারক হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। তার এ সাফল্যে উচ্ছ্বাস ও আনন্দ প্রকাশ করছেন বিভাগের সংশ্লিষ্টরা।

‎এ বিষয়ে আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, "এটা সত্যিই অনেক আনন্দদায়ক। এই অর্জন সকলের জন্য নতুন উদ্যম, অনুপ্রেরণা ও গর্বের বিষয়। তার নিরলস পরিশ্রম এবং অমূল্য সাফল্য নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে, যাকে একপ্রকার বিপ্লবও বলা যায়। এই সংবাদে অনেকদিনের আক্ষেপের সমাপ্তি এবং প্রত্যাশার দ্বার উম্মোচিত হয়েছে। আমরা আশাবাদী যে ভাইকে অনুসরণ করে এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হব।"

‎উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে রাজু আহমেদ বলেন, আল্লাহ আমাকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কিছু দিয়েছেন, আমি এতটা প্রত্যাশা করিনি যে আমার মেধাক্রম ২৬ আসবে৷ আল্লাহ তায়ালার কাছে সেজন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। নতুনদের জন্য উপদেশ থাকবে যে, শর্টকাট পড়াশোনা বাদ দিতে হবে, বিস্তারিতভাবে ও ভালো ভালো বইগুলো পড়তে হবে।

‎এই জার্নিতে তার চ্যালেঞ্জের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমার মাস্টার্স রানিং থাকার জন্য একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি এইটাকে কন্টিনিউ করে দুইটা ব্যালেন্স করে পড়াশোনা করা চ্যালেঞ্জিং ছিলো। ইবিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই ইচ্ছা ছিল জাজ হওয়ার। আর প্রথম থেকেই পড়াশোনা করার ইচ্ছা থাকলেও সেভাবে পারিনি। মূল পড়াশোনাটা শুরু করছিলাম থার্ড ইয়ার থেকে। কিন্তু আমি ভালো ভালো লেখকের বই পড়েছি। 

‎তার এ সফলতায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আলতাফ হোসেন বলেন, ''তার এ সফলতায়  বিভাগের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থী  অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। সে ছিল যথেষ্ট বিনয়ী ও ভদ্র, আল্লাহ তার উপর রহম করেছেন। আজকে তার এই অবস্থানের জন্য তাকে অনেক চেষ্টা করতে হয়েছে। তার সেই প্রচেষ্টাগুলো বিভাগের বাকি শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। সে যেন তার জীবনে উত্তরোত্তর সফলতা অর্জন করে এ কামনাই করি।"

‎উল্লেখ্য যে, ইসলামী আইন ও প্রচলিত আইনের সমন্বয়ে শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষে আইন ও শরিয়াহ অনুষদের অধীনে বিভাগটির কার্যক্রম চালু হয়। এর পর থেকেই সাফল্যের সাথে আইনজীবি ও ফকিহ হয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। যারা গর্বের সাথে উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালতে আইন পেশায় নিযুক্ত আছেন। গত বছরেও প্রায় ৪৫ জন শিক্ষার্থী আইনজীবির সনদ পেয়েছেন।

Advertisement
ডেইলি-বাংলাদেশ/ইবি/এমএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!