ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ বইমেলা ]

১০ মিনিটেই পেন্সিলের আঁচড়ে জীবন্ত ছবি, ব্যস্ত বইমেলার আঁকিয়েরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫:২৩, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২
১০ মিনিটেই পেন্সিলের আঁচড়ে জীবন্ত ছবি, ব্যস্ত বইমেলার আঁকিয়েরা
বইমেলায় নিজের পোট্রের্ট আঁকাচ্ছেন ক্ষুদে পাঠক। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

একটু বামে মুখটা ঘোরান, থুতুনিটা একটু উপরে তুলুন। আঁকিয়েদের এমন কথায় নিরব ১০ মিনিট কাটিয়ে দিচ্ছেন অনেকেই। এদিকে চলছে পেন্সিল ঘষাঘষি। একজন মুখ আঁকিয়ে নিচ্ছেন। আর গোল হয়ে দাঁড়িয়ে অনেকেই তা উপভোগ করছেন। পেন্সিলে আঁকা নিজের মুখখানা দেখতেই খেলে যায় আনন্দের লহরী। তবে কেউ আবার মুখ বাঁকিয়ে বলছেন, ‘উহ্, এমন হল কেন? আমিতো এত গোমড়া না।’ 

বইমেলার শুরু থেকেই দেখা মিলছে আঁকিয়েদের। খদ্দের টানতে তারা চটকদার সব সাইনবোর্ড বসিয়ে দিয়েছেন সামনে। তার একটা এমন, ‘এখানে ১০ মিনিটে দুনিয়ার যে কারো ছবি আঁকা হয়।’

প্রতিবছর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রাঙ্গণে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ঢোকার মুখে পেন্সিল আর ক্যানভাস নিয়ে বসেন এদল তরুণ চিত্রশিল্পীরা। যেখানে ১০মিনিটে আঁকা হয় যে কারো ছবি। প্রতিটি ছবির জন্য রাখা হয় ৫০০ থেকে হাজার টাকা। এবছর তাদের ঠিকানা হয়েছে মুক্ত মঞ্চের পাশে।

চিত্রশিল্পীদের বেশিরভাগই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী। এর ভেতর অনেকে আছেন দেশের বিভিন্ন মেলায় ঘুরে ঘুরে পোট্রেট এঁকে জীবিকা নির্বাহ করেন। বছরের পর বছর মেলায় আসা ক্রেতাদের  ও দর্শনার্থীদের পোট্রের্ট আঁকেন তারা। চিত্রশিল্পী মিজান রহমান তাদের মধ্যে একজন। তিনি প্রায় বিশ বছর বইমেলার প্রাঙ্গণে  ছবি আঁকছেন। তবে প্রতি বছরই বইমেলায় নির্দিষ্ট স্থানের সংকটে ভুগেন বলেন জাননা।

তিনি বলেন, প্রায় বিশ বছর ধরে বইমেলায় ছবি আঁকি। সারা বছরই অপেক্ষায় থাকি এমেলার জন্য। দেশের বিভিন্ন স্থানের মেলাতেও যাই তবে আয়ের দিক থেকে বললে বইমেলায় বেশি হয়। কিন্তু আমাদের জন্য মেলার ভেতর নির্দিষ্ট কোনো স্থান নাই। দেখুন, মুক্ত মঞ্চের পাশে একটি স্থান পেয়েছি। এখানে দর্শনার্থীদের উপস্থিত কম। মেলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত থাকে মোটামুটি আয় হয়।

বইমেলায় নিজের পোট্রের্ট হাতে ক্ষুদে পাঠক। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

১৯৯৮ সালে চিত্রশিল্পী রাজু সাহার হাত ধরে বইমেলায় পোট্রের্ট আঁকার প্রচলন শুরু হয়। তখন একজন -দু'জন আঁকতে আসলেও এখন অনেকেই দেখা যায়। বলছিলেন চিত্রশিল্পী এম এ আজিজ। তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে জনপ্রিয় হচ্ছে বইমেলায় পোট্রের্ট আঁকা। প্রতিদিনই আমাদের এখানে ছবি আকার জন্য ভিড় লেগে থাকে। তবে এক্ষেত্রে বাচ্চাদের আগ্রহ বেশি দেখা যায়। গতবছর করোনার জন্য বইমেলায় আসতে পারলেও তেমন আয় হয়নি। এবছর একটু একটু করে ভালোই আয় হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, আমি বা আমরা যারা আছি তারা শুধু আয়ের কথা চিন্তা করিনা। এটা তো শিল্প, একটি ভালো স্কেচ করতে পারলে নিজের কাছে ভালো লাগে। দেখুন, অনেকে শখের বসে স্কেচ বা পোট্রেট করেন আবার এটার মধ্যদিয়ে কেউ জীবিকা নির্বাহ করেন। আমি বাংলা একাডেমিকে বলবো আমাদের নির্দিষ্ট একটি স্থান দেওয়া হোক। প্রতি বছরই আমরা স্থানের সংকটে ভুগি।

রাজধানীর কাকরাইল থেকে বইমেলায় এসেছেন আছাদুর রহমান। একমাত্র মেয়ের পোট্রের্ট আঁকার উদ্দেশ্যে। তিনি বলেন, গতকাল মেলায় এসে দেখেছি ছবি আঁকা যায়। মেয়েতো বাড়িতে, মেয়ের ছবি নিয়ে এসেছি মোবাইল ফোনে। এটা দেখতে খুবই ভালো লাগছে, অল্প সময়ে দারুণ একটি ছবি পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বইমেলায় প্রচুর স্টল আছে। যদি কর্তৃপক্ষ আর্টিস্টদের জন্য একটি স্টলের ব্যবস্থা করতো, তবে আমার মনে হয় যারা ছবি আঁকাতে ইচ্ছুক।  তাদের জন্য বিষয়টি সহজ হতো। গতকাল ওনাদের বিভিন্ন স্থানে দেছি। আজ মুক্ত মঞ্চের পাশে। 

প্রতিবছর বইমেলায় চিত্রশিল্পী বা আঁকিয়েদের উপস্থিত লক্ষণীয়। একবছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। তবে বইয়ের স্টলের মতো একটি স্টলের দাবি জানিয়েছেন আসছেন তারা। এবিষয়ে বাংলা একাডেমি থেকে জানানো হয়, চিত্রশিল্পীদের জন্য একটি নীতিমালা তৈরি হচ্ছে। এবছর তাদের মুক্তমঞ্চের পাশে একটি জায়গা দেওয়া হয়েছে। আগামীতে আরও ভালো জায়গায় তাদের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এনকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!