সারা বিশ্বে একই দিনে রোজা শুরু ও ঈদ পালন প্রসঙ্গ 

ঢাকা, বুধবার   ০৩ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২০ ১৪২৭,   ১০ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

সারা বিশ্বে একই দিনে রোজা শুরু ও ঈদ পালন প্রসঙ্গ 

ওমর শাহ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:০৩ ২৩ মে ২০২০   আপডেট: ২১:০৫ ২৩ মে ২০২০

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর নির্দেশ হলো তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখেই ইফতার করো (রোজা ছেড়ে দাও)। (সহিহ বুখারি)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর নির্দেশ হলো তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখেই ইফতার করো (রোজা ছেড়ে দাও)। (সহিহ বুখারি)।

শরীয়তের অন্যান্য শাখা মাসয়ালার মতোই সারা বিশ্বে একই দিনে রোজা ও ঈদ পালন করার প্রসঙ্গ নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে দুইটি মত পাওয়া যায়। প্রত্যেক পক্ষই তাদের স্বপক্ষে কোরআন ও হাদিসের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে কিছু প্রমাণ পেশ করার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

এসব বিষয়গুলো আলেম উলামাদের থেকে শুরু হলেও বর্তমানে আমাদের মতো অন্যান্য দেশেও সর্ব-সাধারণের আলোচনায় স্থান পাচ্ছে। ফলে, আলেম বা ইসলামি জ্ঞানে জ্ঞানীরা যেভাবে এটাকে সমাধান করার চেষ্টা করেন, তার হিতে বিপরীত হয়ে সাধারণ জনগোষ্ঠির মাঝে দ্বিধা-দ্বন্ধ ও সংশয়ের পাশাপাশি একে অপরের মাঝে বিশৃঙ্খলায় রূপ নিচ্ছে। এটি চিন্তার বিষয়। এই নিবন্ধে উপরিউক্ত বিষয়ের কয়েকটি মৌলিক দিক তুলে ধরার চেষ্টা করা হলো।

প্রথমত: এ ব্যাপারে কোরআন কি বলছে?

পবিত্র কোরআনে রোজা শুরু করা কিংবা রমজানের শুরু করার ব্যাপারে যে নির্দেশনা আছে সেখানে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে ...। সুতরাং যে এই মাস পাবে সে যেন রোজা রাখে...।’ (সূরা আল-বাকারাহ, ১৮৩-১৮৫) এখানে মাস শুরু করার কথা শুধু বলা হয়েছে। কখন কীভাবে শুরু হবে তার ব্যাখ্যা হাদিসে দিয়ে দেয়া হয়েছে। যেটিও ওহি বা প্রত্যাদেশ। (দেখুন: সূরা ত্বহা, : ১)। সেখানে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর নির্দেশ হলো তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখেই ইফতার করো (রোজা ছেড়ে দাও)। (সহিহ বুখারি)। এখন এই চাঁদের ব্যাপারে সবচেয়ে পরিষ্কারভাবে যে তথ্য আমাদেরকে কোরআন দিয়েছে তা হলো, ‘(হে নবী) তারা আপনার কাছে নতুন চাঁদ (দেখা) সম্পর্কে জানতে চায়। আপনি বলে দিন এটি মানুষের জন্যে সময় নির্ধারণ এবং হজের সময় ঠিক করার মাধ্যম। ... অবশ্য নেকি (সওয়াব) হলো আল্লাহকে ভয় করার মধ্যে।...’ (সূরা আল-বাকারাহ, ২: ১৮৯)। এখানে তিনটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। (১) চাঁদ হলো সময় নির্ধারণের জন্যে। সময়ের মধ্যে দিন, মাস, বছর, যুগ ইত্যাদি সমন্বিত। (২) এটি হজের সময় নির্ধারণ করার মাধ্যম। লক্ষ্যণীয়, কেন আল্লাহ যিনি বিধানদাতা তিনি শুধু মাত্র হজের কথা বললেন? কেন রোজার কথা বললেন না? কারণ, এখানে রোজা সম্পর্কেই আলোচনা করা হচ্ছিল। এটির একটা উদ্দেশ্য হতে পারে, হজ শুধু একটি নির্দিষ্ট স্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সেটি ওই স্থানের চাঁদের সঙ্গে নির্ধারিত হতে হবে। কিন্তু সালাত, সাওম কিংবা অন্যান্য বিধান পালনের কোনো নির্দিষ্ট স্থান, কাল, পাত্র হজের অনুরূপ নয়। এবং (৩) সওয়াব হলো আল্লাহকে ভয় করার মধ্যে। অর্থাৎ আমরা কী করছি সেটির চেয়ে কেন করছি এটি আল্লাহর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সত্যিকার কল্যাণ পেতে হলে আল্লাহকে খুশি করার নিমিত্তে আমাদের সাধ্যাতিত চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। সেখানে ত্রুটি বিচ্যুতি হলেও আল্লাহ ক্ষমা করবেন।

দ্বিতীয়ত: রাসূল (সা.) এর হাদিস এবং তাঁর সুন্নতের নির্দেশনা কি?

রোজা শুরু করা এবং শেষ করার ব্যাপারে যেসব হাদিস এসেছে তার মধ্যে বহুল প্রচলিত প্রসিদ্ধ এবং অধিক গ্রহণযোগ্য হাদিস হলো, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা চাঁদ দেখে রোজা শুরু করো এবং চাঁদ দেখেই রোজা ছেড়ে দাও। যদি কোনো কারণে চাঁদ দেখা না যায় তাহলে রমজান মাসকে ত্রিশদিন পূর্ণ করো। অর্থাৎ রমজান মাসের শুরু হবে চাঁদ দেখার মধ্য দিয়ে এবং শেষ হয়ে শাওয়াল মাসের শুরু হবে চাঁদ দেখার মধ্য দিয়ে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন কিংবা এমন কোনো স্থানে অবস্থান করা যেখানে চাঁদ দেখা সম্ভব নাও হতে পারে সেই জায়গার জন্যেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এখন কোরআনের আয়াতটির ব্যাখ্যা এখানে প্রযোজ্য হলে দেখা যাবে, বলা হচ্ছে নতুন চাঁদ হলো মানুষের জন্যে সময় নির্ধারণের মাধ্যম। এবং শব্দটি আরবি একবচন শব্দ ‘ওয়াকতুন’ ব্যবহার না করে ‘মাওয়াকিত’ ব্যবহার করে সময়ের বিভিন্নতার কথা বলা হয়েছে। তবে, ঈদের দিন নির্ধারণের ব্যাপারে এবং একই দিনে ঈদের ব্যাপারে যারা মত ব্যক্ত করেছেন তারা মদিনাতে দুইজন ন্যায় পরায়ণ ব্যক্তির স্বাক্ষীর আলোকে রাসূল (সা.) দুপুরের পরে রোজা ভেঙ্গে ফেলার এবং পরের দিন ঈদ পালন করার ব্যাপারে নির্দেশ দেন। (দেখুন: সুনানু নাসা’ঈ, হাদিস নম্বর ২১১৬)। এই হাদিসে তিনটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। (১) চাঁদ দেখা সবার জন্যে শর্ত নয় বরং নির্ভরযোগ্য দুইজন ব্যক্তিও যদি চাঁদ দেখার ব্যাপারে স্বাক্ষী দেয় তাহলে তা গ্রহণযোগ্য। (২) চাঁদ দেখার ব্যাপারে কোনো সংবাদ রোজা রাখা অবস্থায়ও যদি জানা যায় তখন রোজা ছেড়ে দিতে হবে। এবং (৩) পরের দিন ঈদ পালন করার নির্দেশ দেন। আমার কাছে প্রথম ও দ্বিতয়টির পাশাপাশি তৃতীয় নির্দেশনাটি বিশেষ গুরুত্ব রাখে। আমরা জানি, রমজানের ঈদ শাওয়াল মাসের প্রথম দিনেই হয়। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে যেদিন রোজা ছেড়ে দিতে নির্দেশ দিচ্ছেন সেদিন শাওয়ালের প্রথম দিন ছিল নিশ্চয়ই। তদুপোরি, সেদিন ঈদ পালন না করে কিংবা ঈদের দিন শেষ হয়ে গেছে বলে তা পালন করা থেকে বিরত থাকেননি। বরং তা শাওয়ালের দ্বিতীয় দিনে পালন করেছেন। সুতরাং রাসূল (সা.) এর হাদিস শুধু নয় সুন্নত দিয়েও প্রমাণিত যে, পরিস্থিতির কারণে রমজানের ঈদ দ্বিতীয় দিনেও পালন করাতে কোনো দোষের নেই। তাহলে, এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করা কি আমাদের উচিৎ হবে?

তৃতীয়ত: আছার বা সাহাবিদের ‘আমল কি ছিল?

এ ব্যাপারে করাইব (রা.) এর বর্ণিত আছারে এসেছে যে, তিনি সিরিয়ায় রমজানের রোজা পালন শেষে মদিনায় এসে এখানকার ছিয়ামের সঙ্গে একদিন কম-বেশি দেখতে পান। তখন এ বিষয়ে ইবনু ‘আব্বাস (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন যে, সিরিয়ার আমির মু‘আবিয়া (রা.) এর গৃহীত রোজার তারিখ মদিনায় প্রযোজ্য নয়। কেননা, ওখানে তোমরা শুক্রবার সন্ধায় চাঁদ দেখেছ। অতএব, আমরা রোজা রাখব যতক্ষণ না ঈদের চাঁদ দেখতে পাব। অন্য বর্ণনায় এসেছে, তাকে বলা হলো, মু‘আবিয়ার চাঁদ দেখা ও রোজা রাখা কি আপনার জন্যে যথেষ্ট নয়? তিনি বললেন, না। এভাবেই রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদেরকে নির্দেশ দান করেছেন। (দেখুন: সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর- ১০৮৭; সুনানু তিরমিযি, হাদিস নম্বর- ৫৫৯; সুনানু আবি দাউদ, হাদিস নম্বর- ২০৪৪)। ইমাম নববী (র.) বলেন, ‘এ হাদিস সুস্পষ্টভাবে প্রামাণ করে যে, এক শহরের চাঁদ দেখা অন্য শহরের জন্যে প্রযোজ্য নয় অধিক দূরত্বের কারণে।’ (দেখুন: মির‘আত, খণ্ড, ৬, পৃ. ৪২৮)।

চতুর্থত: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কি হবে?

সৌরজগতের গঠনগত কারণে আমাদের এ গ্রহের একমাত্র উপগ্রহ চাঁদের উদয়স্থল ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। এমনকি বিভিন্ন মৌসুমে পশ্চিম আকাশের ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় চাঁদকে দেখতে পাই। স্থানের অধিক দূরত্বের কারণে তাই আমাদের এই ছোট্ট গ্রহের বিভিন্ন জায়গার মানুষও তাই ভিন্ন সময়ে তাদের নতুন চাঁদ দেখতে পায়। এখন এই দূরত্ব কম বেশি হওয়ার কারণে চাঁদ দেখা না দেখার সময়ের দূরত্বও বাড়ে। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, সৌদি আরবের মক্কা নগরিতে অবস্থিত কাবা হলো পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল। কিন্ত সেটিকে চাঁদ দেখার স্থান নির্ধারণ করলে কিছু অনিয়ম লক্ষ্য করা যাবে। কারণ, জৈতির্বিজ্ঞানের আলোকে পৃথিবীর সর্ব পশ্চিমের দেশেই প্রথম চাঁদ দেখা যায়। আর সৌদি আরব সর্ব পশ্চিমে না হওয়ার কারণে তার আগেও পশ্চিমের কিছু দেশে চাঁদ দেখা যাবে। তাহলে সারা পৃথিবীতে রোজা ও ঈদ পালনের ক্ষেত্রে পশ্চিমের দেশে আগে দেখা চাঁদকে উপেক্ষা করে সৌদি আরবের চাঁদকে আমলে নেয়া বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নয়।

পঞ্চমত: যুক্তি বা ‘আকল কি বলে?

স্থানের ভিন্নতার কারণে সময়ের ভিন্নতা হয় স্বাভাবিক নিয়মে। সেই ভিন্নতা একই দিনে ঈদ পালন করাকে অসম্ভব করে তোলে। একটা উদাহরণ দেই। যদি কোনো দিন আমেরিকার আলআসকা কিংবা নিউজিল্যান্ডের ক্যাথাম আইল্যান্ডে আগে চাঁদ দেখা যায় তাহলে ওই দুই দেশের পক্ষে একে অপরকে অনুসরণ করে একই দিনে রোজা যেমন শুরু করা সম্ভব নয় তেমনি ঈদও পালন করা সম্ভব নয়। কারণ তাদের দুই দেশের মধ্যে সময়ের পার্থক্য হলো প্রায় ২১ ঘণ্টা। আলআসকার সময়ে যদি ডিসেম্বরের কোনো শুক্রবার সন্ধায় অর্থাৎ ১৫:৫১ মিনিটে চাঁদ দেখা যায় ঠিক তখন নিউজিল্যান্ডের ক্যাথাম আইল্যান্ডে সময় থাকবে শনিবার দুপুর ১১:৩৭ মিনিট। সেখানে, আলাআসকায় শনিবারের দিন রোজা কিংবা ঈদ পালন করা সম্ভব হলেও এবং এ সংবাদ মুহূর্তেই ক্যাথামে পৌঁছানোর পরেও তারা কিন্তু শনিবারে তা পালন করতে সক্ষম নয়। উত্তর মেরুর দেশগুলোর কথা না হয় বিশেষ কারণে ধর্তব্যে আনলাম না। 

অন্যভাবে একথা আমরা বলব যে, পবিত্র কোরআনে চাঁদ দেখার ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে মানুষের সময় এবং হজের দিন-সময় নির্ধারণের কথা উল্লেখ করে পৃথিবীর মানুষের জন্যে চাঁদকে যেমন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে তেমনি হজকে নির্দিষ্ট করে চাঁদের সঙ্গে সম্পর্কীত ইবাদতগুলোকে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। অপরপক্ষে, রাসূল (সা.) এর হাদিস ও সুন্নত দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে শাওয়ালের প্রথম দিনে ঈদ না হয়ে দ্বিতীয় দিনে হলেও তাতে বিধান পালন কিংবা সওয়াবের কোনো ঘাটতি হবে না। তবে, কেন এটি নিয়ে আমরা বাড়াবাড়ি করব?

আরো একটি কথা বলা যায় যে, প্রত্যেক মুসলিম দেশে এসব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্যে কতিপয় বিশিষ্ট আলেমদের সমন্বয়ে কমিটি নির্ধারণ করা আছে। আমরা তাদেরকে পরামর্শ দিতে পারি কিন্তু তাদের সিদ্ধান্তকে মানলে আমাদের কোনো ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই সেই মাস‘আলার মতো, ইমামের ওজু না থাকলেও তার ইমামতিতে সালাত আদায়কারীর সালাত ঠিকই আদায় করা হয়ে যাবে। এখানে ইমাম দায়ী থাকবেন।

পরিশেষে বলব, আমাদের এ কথা স্মরণ রাখা জরুরি যে, শরীয়তের বিধান পালনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় তার উদ্দেশ্য অর্থাৎ ‘মাকাসিদ আল-শরীয়াহ’। এটি না বুঝে বিধান পালন করতে গেলেই উদ্দেশ্য শুধু ব্যহত হয় না বরং শারে’ঈ বা বিধানদাতার বিধানের বিরুদ্ধাচরণ করা হয়। ফলে, তার কুফল সমগ্র সমাজ ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ে। অতএব, এসব বিষয়ে কথা বলার জন্যে যেমন দ্বীনের জ্ঞানের পাণ্ডিত্য থাকা দরকার তেমনি প্রজ্ঞা থাকাও জরুরি। তদুপরি, সতর্ক থাকা প্রয়োজন যেন এসব উত্থাপিত বিষয়গুলো মুসলিম উম্মাহের মাঝে বিভক্তি কিংবা একে অপরের সৌহর্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের বিপরীতে শত্রুতাপূর্ণ সম্পর্কে রূপ না নেয়।

ঈদ পালনের শরয়ী উদ্দেশ্যের অন্যতম কয়েকটি হলো: (১) মুসলিমদের বিনোদন, আনন্দ উদযাপন ও উপভোগ করার সুযোগ করে দেয়া। কারণ, ঈদের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সা.) মদিনাতে যাওয়ার পর ইহুদিদের নওরেজ ও মেহেরজারে পরিবর্তে বছরের দুইদিন ঈদ পালনের ঘোষণা দেন (দেখুন: সুনানে আবি দাউদ, খণ্ড ১, পৃ. ১৪১)। এবং (২) বাৎসরিক একটি মহাসমাবেশের মাধ্যমে বিরুদ্ধচারীদেরকে মুসলিমের একবদ্ধতা, ঐক্য জানিয়ে দেয়া। এজন্যে রাসূল (সা.) ঈদের দিন সকালে বাড়ি বাড়ি যেয়ে সবাইকে ঈদের মাঠে উপস্থিত হতে নির্দেশ দিতেন। এমনকি ঋতুশ্রাব হওয়া নারীদেরকেও। এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হলে প্রতিউত্তরে তিনি বলেছিলেন, এর মাধ্যমে মুসলিমদের সংখ্যাধিক্যতা প্রমাণ পাবে। (৩) ইমামের দিক নির্দেশনা। ঈদের খুতবাতে সমসাময়িক দিন নির্দেশনা দেয়ার মাধ্যমে মুসলিমদের সঠিকপথে পরিচালিত হওয়ায় সাহায্য করা। (৪) সম্প্রীতি বৃদ্ধি। যে কারণ, রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈদের মাঠে এক পথ দিয়ে যেতেন এবং অন্যপথ দিয়ে ফিরতেন। এ ব্যাপারে তাঁর (সা.) সাহাবিদেরকেও নির্দেশ দিয়েছেন।

একটি কথা মনে রাখা দরকার যে, যারা একই দিনে ঈদ করার ব্যাপারে মত দিয়ে থাকেন তাদের উদ্দেশ্য মহৎ এবং প্রসংশনীয়। কারণ, আমার মনে হয়, তাদের উদ্দেশ্য হলো মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করে শরয়ী বিধানগুলোকে পালন করা। এটি অত্যন্ত চমৎকার উদ্যোগ। কিন্তু উদ্যোগ বাস্তবায়নের সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং সৎ ও কল্যাণকর উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে যেয়ে যেনো অন্য কোনো বিধান লঙ্ঘন না হয় তার প্রতি বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন। হয়ত আগামীর বিশ্ব এটি বাস্তবায়নের জন্যে উপযোগী হবে; কিন্তু বর্তমানটি নয় বলেই আমাদের বিশ্বাস। তাই উভয় পক্ষকেই অনুরোধ করবো, এসব নিয়ে যেন আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ সৃষ্টি না হয় কিংবা শত্রুতা তৈরি না হয়। এটি হারাম। আল্লাহ সব মু’মিনদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন ঐক্যবদ্ধ হিসেবে থাকতে। (দেখুন: আল-কোরআন, সূরা আস-সাফ, ৬১:৩)। এমনকি একে অন্যকে যেন ভ্রান্ত বলে আখ্যা না দেই। কারণ, আমরা প্রকৃত অর্থে জানিই না যে, আমাদের ইজতেহাদ বা মতটিই একমাত্র সত্য এবং সঠিক। আল্লাহই আমাদের অন্তর এবং ‘আমল সম্পর্কে ভালো জানেন। তিনি আমাদের সব কাজগুলোকে ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে কবুল করুন। আমিন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে