ফাঁস হতে চলেছে ট্রাম্পের হাঁড়ির গোপন খবর
হোয়াইট হাউসে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে বই লিখেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। বইটিতে রয়েছে বিতর্কের মুখে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে অনেক গোপন তথ্য। আর তাই আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগ দিয়ে সম্ভাব্য বিপদ এড়াতে সেই বইয়ের প্রকাশ বন্ধে উঠেপড়ে লেগেছেন ট্রাম্প।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, বোল্টনের লেখা বইয়ের প্রকাশ ঠেকাতে এরই মধ্যে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের যুক্তি, গোপন সরকারি তথ্য ফাঁস করলে আইন লঙ্ঘন করা হবে। তাই বোল্টনের বিরুদ্ধে মামলা করে এমন পরিস্থিতি আগেভাগেই এড়ানোর চেষ্টা চলছে।
তবে বোল্টন জানিয়েছেন, ‘দ্য রুম হোয়্যার ইট হ্যাপেন্ড: আ হোয়াইট হাউস মেমোয়ার’নামের এই বইটি আগামী মঙ্গলবারই প্রকাশ করতে বদ্ধপরিকর তিনি।
প্রায় ১৭ মাস কাজ করার পর গত সেপ্টেম্বর মাসে ট্রাম্প তাকে বরখাস্ত করেন। হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের মতে, বইয়ের খসড়ার বেশ কিছু অংশে ‘ক্লাসিফাইড’ বা অতি গোপন জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য স্থান পেয়েছে। ফলে এই বই প্রকাশিত হলে অপূরণীয় ক্ষতি হবে - আদালতে এমন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।
ট্রাম্প নিজে মনে করিয়ে দিয়েছেন, গোপন সরকারি তথ্য ঘাটাঘাটি করার ক্ষমতা রয়েছে, এমন কোনো প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে বই লিখতে চাইলে সরকারি ছাড়পত্রের এক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তিনি বলেন, বোল্টন সেই চেষ্টাও করেন নি।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার বলেন, তার দফতর বোল্টনকে দিয়ে ছাড়পত্র নেবার প্রক্রিয়া পূর্ণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। খসড়ায় গোপন তথ্য বাদ দিলে তিনি সেই বই প্রকাশ করতে পারবেন।
এদিকে সরকারি তৎপরতার ফলে বোল্টনের অপ্রকাশিত বইকে ঘিরে কৌতূহল আরো বাড়ছে। প্রকাশক সংস্থা সাইমন অ্যান্ড শুস্টার হোয়াইট হাউসের অভিযোগ খণ্ডন করে জানিয়েছে, বোল্টন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে খসড়ায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনেছেন। প্রকাশনা সংস্থা এরই মধ্যে বইটি সম্পর্কে কিছু পূর্বাভাষ দিয়েছে। ট্রাম্প যেভাবে কোনো সঙ্গতি ছাড়াই ক্ষণিকের আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নেন, সেই বিষয়টি জানাজানি হলে তার ভাবমূর্তির ক্ষতি হবে। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে বইটির প্রকাশ বন্ধ করার জন্য এত উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে প্রকাশ মনে করছেন। পাঠকদের মনে কৌতূহল জাগাতে প্রকাশক সংস্থার বিজ্ঞাপনে লেখা হয়েছে, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প চান না আপনারা এই বইটি পড়ুন।’
রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত বোল্টনের সঙ্গে ট্রাম্পের সখ্য বেশিদিন স্থায়ী হয় নি। বিশেষ করে উত্তর কোরিয়া ও আফগানিস্তানে তালিবানের সঙ্গে সমঝোতার লক্ষ্যে ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগকে তিনি ভালো চোখে দেখেন নি। এমনকি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট তদন্তের সময়ে তিনি সেনেটে সাক্ষী হতে চেয়েছিলেন।
শুধু প্রতিপক্ষ জো বাইডেনের বিষয়ে ইউক্রেনের উপর তদন্তের জন্য চাপ সৃষ্টি করা নয়, ট্রাম্প আরো অন্যায় করেছেন বলে তিনি জানুয়ারি মাসে ইঙ্গিত দেন। তবে রিপাবলিকান দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সিনেট তাকে তলব করতে পারে নি।
বোল্টন সম্প্রতি জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মুখে নতি স্বীকার করতে প্রস্তুত নন তিনি।
মঙ্গলবার মার্কিন সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়নের একটি বার্তা রিটিউট করে তিনি বলেন, ৫০ বছর আগে গোপন নথিপত্র প্রকাশ বন্ধ করতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিটার্ড নিক্সনও ব্যর্থ হয়েছিলেন।