নারীর নাক ও কান ছিদ্র করা: ইসলাম যা বলে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ১৯ ১৪২৬,   ০৮ শা'বান ১৪৪১

Akash

নারীর নাক ও কান ছিদ্র করা: ইসলাম যা বলে

সাদিকা আক্তার ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:২৯ ৪ মার্চ ২০২০  

নারীদের হাতে চুরি হিসেবে কাঁচ, পাথর এবং রূপাসহ সব ধরনের অলংকার পরা জায়েজ আছে-ছবি: সংগৃহীত

নারীদের হাতে চুরি হিসেবে কাঁচ, পাথর এবং রূপাসহ সব ধরনের অলংকার পরা জায়েজ আছে-ছবি: সংগৃহীত

আমাদের সমাজে অনেক বিবাহিতা নারীকেই শুনতে হয় হাতে চুড়ি না পড়লে বা নাকে নাকফুল না পড়লে স্বামীর আয়ু কমে যায় বা স্বামীর অমঙ্গল হয়। ঠিক এই বিশ্বাস নিয়ে বিধর্মী নারীরা শাঁখা-সিঁদুর পরে।

আজও অনেক মুসলমান মা-বোন সেই একই ধরনের কুসংস্কারে বিশ্বাসী হয়ে চুরি, নাকফুল পরেন। তবে ফিকাহ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য কিতাবাদী অধ্যয়নে প্রমাণিত হয় যে, নারীরা কান ও নাক ছিদ্র করে গয়না পরতে পারবে। কেননা কানে গয়না পরার রীতি নবী করিম (সা.) জীবিত থাকা অবস্থায়ও ছিল, তথাপি তিনি এটি নিষেধ করেননি।

হাতে চুরি ও নাকফুল না পরলে স্বামীর আয়ু কমে যায়, এমন বিশ্বাস অনেকের। এই ধারণাটি ভ্রান্ত, কুসংস্কার ও আল্লাহ তায়ালার কালামের বিপরীত। কারণ আল্লাহ তায়ালা সমস্ত মানুষের আয়ু নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। সে সময়ের পূর্বে বা পরে কারো মৃত্যু হবে না। তাই ওই সমস্ত ভ্রান্ত ধারণা পরিত্যাগ করা অপরিহার্য।

তবে এই বিষয়ে শরীয়তে কোনো প্রকার নিষেধ নেই। নারীদের হাতে চুরি হিসেবে কাঁচ, পাথর এবং রূপাসহ সব ধরনের অলংকার পরা জায়েজ আছে।

কিছু এলাকার নারীদের মাঝে একথা প্রচলিত রয়েছে- কোনো মেয়ে যদি নাক, কান না ফোঁড়ায় তাহলে কেয়ামতের দিন তার নাক-কানে আগুনের লোহা দিয়ে ছিদ্র করা হবে। কথাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। অলংকার ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নারীদের নাক, কান ফোঁড়ানো জায়েজ। কিন্তু এটি শরীয়তের কোনো জরুরি হুকুম নয়।

কোনো নারী নাক, কান না ফোঁড়ালে তার কোনো গুনাহ হবে না এবং এ কারণে আখিরাতে তাকে শাস্তিও পেতে হবে না। তবে বর্তমানে আরো কিছু কিছু অঙ্গে অলঙ্কার ব্যবহার করতে দেখা যায়, যেমন: ঠোঁট, চোখ, নাভী, জিহ্বা এসব স্থানে অলঙ্কার ব্যবহার করা অপসংস্কৃতি ও উগ্রতার বহিঃপ্রকাশ তাই এসব অনুমোদিত নয়।  

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে