দুনিয়া-আখিরাতের বিভিন্ন নেয়ামতের বিবরণ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭,   ০৯ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

সূরা আর-রহমান 

দুনিয়া-আখিরাতের বিভিন্ন নেয়ামতের বিবরণ

প্রিয়ম হাসান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:৩১ ১৭ মে ২০২০   আপডেট: ২২:৩৪ ১৭ মে ২০২০

‘হে জিন ও মানবকূল, নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের প্রান্ত অতিক্রম করা যদি তোমাদের সাধ্যে কুলায়, তবে অতিক্রম কর। কিন্তু ছাড়পত্র ব্যতীত তোমরা তা অতিক্রম করতে পারবে না।’ (সূরা: আর রহমান, আয়াত: ৩৩)

‘হে জিন ও মানবকূল, নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের প্রান্ত অতিক্রম করা যদি তোমাদের সাধ্যে কুলায়, তবে অতিক্রম কর। কিন্তু ছাড়পত্র ব্যতীত তোমরা তা অতিক্রম করতে পারবে না।’ (সূরা: আর রহমান, আয়াত: ৩৩)

সূরা আর রহমান (আরবি: الرحمن) কোরআনুল কারিমের ৫৫ তম সূরা; এর আয়াত সংখ্যা ৭৮ এবং রূকু তথা অনুচ্ছেদ সংখ্যা ৩। সূরা আর রহমান মক্কায় অবতীর্ণ। 

এই সূরায় জিন ও মানব জাতিকে উদ্দেশ্য করে বারবার প্রশ্ন করা হয়েছে, ‘অতএব, তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?’ এ আয়াতটি ৩১ বার রয়েছে।

এই সূরার শিরোনাম, যেটি সূরার প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে যার অর্থ ‘পরম দয়াময় আল্লাহ’। এ সূরার মধ্যে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালার রহমতের পরিচায়ক গুণাবলী ও তার বাস্তব ফলাফলের উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যান্য সূরার মতো এটিও (সূরা তওবা ব্যতীত) ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি) দিয়ে শুরু করা হয়েছে।

সূরা আর-রাহমান মক্কায় অবতীর্ণ। তবে মদিনায় অবতীর্ণ বলেও অভিমত পাওয়া যায় যার সূত্র আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস, ইক্বরিমাহ এবং ক্বাতাদাহ। কিন্তু তাদেরই সূত্রে কথিত আছে যে এ সূরা মক্কায় অবতীর্ণ। অন্যান্য নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন হাদিসের ভিত্তিতে কুরতুবী সূরা আর রাহমানকে মক্কায় অবতীর্ণ হওয়ার পক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। জিনদের উপস্থিতিতে রাসূল (সা.) কর্তৃক এ সূরা আবৃত্তির ঘটনা মক্কায়ই ঘটেছিল। পূর্ববর্তী সূরা ক্বামারে আল্লাহর অবাধ্যতার শাস্তি হিসেবে পৃথিবীতে গজব নাজিলের ইাতহাস বর্ণনা করে ‘ফা কাইফা কা-না য়াযাবি ওয়া নুযুর’ বাক্যের মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। অতঃপর ঈমান ও আনুগত্যকে উৎসহিত করার লক্ষ্যে বলা হয়েছে ‘ওয়া লাক্বাদ ইয়াসসারনার ক্কুর’আন। এর বিপরীতে সূরা আর-রাহমানে আল্লাহপাকের ইহলোকিক ও পারলোকিক অবদানসমূহের কিছু কিছু উল্লেখ করা হয়েছে।  (মুফতী মুহাম্মাদ শফী: তফসীরে মা’আরেফুল কোরআন, ৮ম খণ্ড, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ঢাকা। ৫ম সংস্করণ, পৃষ্ঠা ২৩৫-২৩৭)।

নাজিল হওয়ার পটভূমি: হজরত মুহাম্মাদ(সা.) কর্তৃক নবুয়াত লাভের পর মক্কার কাফেররা ইসলাম সম্পর্কে কৌতূহলী হয়। তারা আল্লাহ নামটির সঙ্গে পরিচিত ছিল। কিন্তু আল্লাহর অন্যান্য নাম যেমন ‘রাহমান’ সম্পর্কে অবহিত ছিল না। তারা যে সব মূর্তির পূজা করতো সেগুলোর একাধিক নাম ছিল না। আল্লাহর গুণবাচক নাম ‘রাহমান’ শুনে তারা বলাবলি করতো ওয়া মা রাহমান, অর্থাৎ ‘রাহমান আবার কী?’ এ সূরা নাজিলের মাধ্যমে আল্লাহর ‘রাহমান’ নামের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা হয়েছে। (মুফতী মুহাম্মাদ শফী: তফসীরে মা’আরেফুল কোরআন, ৮ম খণ্ড, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ঢাকা। ৫ম সংস্করণ, পৃষ্ঠা ২৩৭-২৩৮)।

সূরা আর রহমান আরবি থেকে বাংলা অনুবাদ:

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

الرَّحْمَنُ

০১

করুণায় আল্লাহ।

عَلَّمَ الْقُرْآنَ

০২

শিক্ষা দিয়েছেন কোরআন,

خَلَقَ الْإِنسَانَ

০৩

সৃষ্টি করেছেন মানুষ,

عَلَّمَهُ الْبَيَانَ

০৪

তাকে শিখিয়েছেন বর্ণনা।

الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ بِحُسْبَانٍ

০৫

সূর্য ও চন্দ্র হিসাবমত চলে।

وَالنَّجْمُ وَالشَّجَرُ يَسْجُدَانِ

০৬

এবং তৃণলতা ও বৃক্ষাদি সেজদারত আছে।

وَالسَّمَاء رَفَعَهَا وَوَضَعَ الْمِيزَانَ

০৭

তিনি আকাশকে করেছেন সমুন্নত এবং স্থাপন করেছেন তুলাদণ্ড।

أَلَّا تَطْغَوْا فِي الْمِيزَانِ

০৮

যাতে তোমরা সীমালংঘন না কর তুলাদন্ডে।

وَأَقِيمُوا الْوَزْنَ بِالْقِسْطِ وَلَا تُخْسِرُوا الْمِيزَانَ

০৯

তোমরা ন্যায্য ওজন কায়েম কর এবং ওজনে কম দিয়ো না।

وَالْأَرْضَ وَضَعَهَا لِلْأَنَامِ

১০

তিনি পৃথিবীকে স্থাপন করেছেন সৃষ্টজীবের জন্যে।

فِيهَا فَاكِهَةٌ وَالنَّخْلُ ذَاتُ الْأَكْمَامِ

১১

এতে আছে ফলমূল এবং বহিরাবরণবিশিষ্ট খর্জুর বৃক্ষ।

وَالْحَبُّ ذُو الْعَصْفِ وَالرَّيْحَانُ

১২

আর আছে খোসাবিশিষ্ট শস্য ও সুগন্ধি ফুল।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

১৩

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন্‌ কোন্‌ অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে?

خَلَقَ الْإِنسَانَ مِن صَلْصَالٍ كَالْفَخَّارِ

১৪

তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পোড়া মাটির ন্যায় শুষ্ক মৃত্তিকা থেকে।

وَخَلَقَ الْجَانَّ مِن مَّارِجٍ مِّن نَّارٍ

১৫

এবং জিনকে সৃষ্টি করেছেন অগ্নিশিখা থেকে।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

১৬

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?

رَبُّ الْمَشْرِقَيْنِ وَرَبُّ الْمَغْرِبَيْنِ

১৭

তিনি দুই উদয়াচল ও দুই অস্তাচলের মালিক।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

১৮

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?

مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ يَلْتَقِيَانِ

১৯

তিনি পাশাপাশি দুই দরিয়া প্রবাহিত করেছেন।

بَيْنَهُمَا بَرْزَخٌ لَّا يَبْغِيَانِ

২০

উভয়ের মাঝখানে রয়েছে এক অন্তরাল, যা তারা অতিক্রম করে না।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

২১

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন্‌ কোন্‌ অবদানকে অস্বীকার করবে?

يَخْرُجُ مِنْهُمَا اللُّؤْلُؤُ وَالْمَرْجَانُ

২২

উভয় দরিয়া থেকে উৎপন্ন হয় মোতি ও প্রবাল।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

২৩

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?

وَلَهُ الْجَوَارِ الْمُنشَآتُ فِي الْبَحْرِ كَالْأَعْلَامِ

২৪

দরিয়ায় বিচরণশীল পর্বতদৃশ্য জাহাজসমূহ তারই (নিয়ন্ত্রণাধীন)

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

২৫

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন্‌ কোন্‌ অবদানকে অস্বীকার করবে?

كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ

২৬

ভূপৃষ্টের সবকিছুই ধ্বংসশীল।

وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ

২৭

একমাত্র আপনার মহিমায় ও মহানুভব পালনকর্তার সত্তা ছাড়া।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

২৮

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন্‌ কোন্‌ অবদানকে অস্বীকার করবে?

يَسْأَلُهُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِي شَأْنٍ

২৯

নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের সবাই তার কাছে প্রার্থী। তিনি সর্বদাই কোনো না কোনো কাজে রত আছেন।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

৩০

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন্‌ কোন্‌ অবদানকে অস্বীকার করবে?

سَنَفْرُغُ لَكُمْ أَيُّهَا الثَّقَلَانِ

৩১

হে জিন ও মানব! আমি শীঘ্রই তোমাদের জন্যে কর্মমুক্ত হয়ে যাব।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

৩২

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন্‌্‌ কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?

يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَن تَنفُذُوا مِنْ أَقْطَارِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ فَانفُذُوا لَا تَنفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَانٍ

৩৩

হে জিন ও মানবকূল, নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের প্রান্ত অতিক্রম করা যদি তোমাদের সাধ্যে কুলায়, তবে অতিক্রম কর। কিন্তু ছাড়পত্র ব্যতীত তোমরা তা অতিক্রম করতে পারবে না।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

৩৪

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন্‌্‌ কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?

يُرْسَلُ عَلَيْكُمَا شُوَاظٌ مِّن نَّارٍ وَنُحَاسٌ فَلَا تَنتَصِرَانِ

৩৫

ছাড়া হবে তোমাদের প্রতি অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ও ধুম্রকুঞ্জ তখন তোমরা সেসব প্রতিহত করতে পারবে না।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

৩৬

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন্‌ কোন্‌ অবদানকে অস্বীকার করবে?

فَإِذَا انشَقَّتِ السَّمَاء فَكَانَتْ وَرْدَةً كَالدِّهَانِ

৩৭

যেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে তখন সেটি রক্তবর্ণে রঞ্জিত চামড়ার মত হয়ে যাবে।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

৩৮

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন্‌ কোন্‌ অবদানকে অস্বীকার করবে?

فَيَوْمَئِذٍ لَّا يُسْأَلُ عَن ذَنبِهِ إِنسٌ وَلَا جَانٌّ

৩৯

সেদিন মানুষ না তার অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে, না জিন।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

৪০

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?

يُعْرَفُ الْمُجْرِمُونَ بِسِيمَاهُمْ فَيُؤْخَذُ بِالنَّوَاصِي وَالْأَقْدَامِ

৪১

অপরাধীদের পরিচয় পাওয়া যাবে তাদের চেহারা থেকে; অতঃপর তাদের কপালের চুল ও পা ধরে টেনে নেয়া হবে।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

৪২

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?

هَذِهِ جَهَنَّمُ الَّتِي يُكَذِّبُ بِهَا الْمُجْرِمُونَ

৪৩

এটাই জাহান্নাম, যাকে অপরাধীরা মিথ্যা বলত।

يَطُوفُونَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ حَمِيمٍ آنٍ

৪৪

তারা জাহান্নামের অগ্নি ও ফুটন্ত পানির মাঝখানে প্রদক্ষিণ করবে।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

৪৫

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?

وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ

৪৬

যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে পেশ হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্যে রয়েছে দু’টি উদ্যান।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

৪৭

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?

ذَوَاتَا أَفْنَانٍ

৪৭

উভয় উদ্যানই ঘন শাখা-পল্লববিশিষ্ট।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

৪৯

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?

فِيهِمَا عَيْنَانِ تَجْرِيَانِ

৫০

উভয় উদ্যানে আছে বহমান দুই প্রস্রবন।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

৫১

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?

فِيهِمَا مِن كُلِّ فَاكِهَةٍ زَوْجَانِ

৫২

উভয়ের মধ্যে প্রত্যেক ফল বিভিন্ন রকমের হবে।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

৫৩

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?

مُتَّكِئِينَ عَلَى فُرُشٍ بَطَائِنُهَا مِنْ إِسْتَبْرَقٍ وَجَنَى الْجَنَّتَيْنِ دَانٍ

৫৪

তারা তথায় রেশমের আস্তরবিশিষ্ট বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে। উভয় উদ্যানের ফল তাদের নিকট ঝুলবে।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

৫৫

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?

فِيهِنَّ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنسٌ قَبْلَهُمْ وَلَا جَانٌّ

৫৬

তথায় থাকবে আনতনয়ন রমনীগন, কোন জিন ও মানব পূর্বে যাদের ব্যবহার করেনি।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

৫৭

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?

كَأَنَّهُنَّ الْيَاقُوتُ وَالْمَرْجَانُ

৫৮

প্রবাল ও পদ্মরাগ সদৃশ রমণীগণ।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

৫৯

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?

هَلْ جَزَاء الْإِحْسَانِ إِلَّا الْإِحْسَانُ

৬০

সৎকাজের প্রতিদান উত্তম পুরস্কার ব্যতীত কি হতে পারে?

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

৬১

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?

وَمِن دُونِهِمَا جَنَّتَانِ

৬২

এই দু’টি ছাড়া আরও দু’টি উদ্যান রয়েছে।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

৬৩

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?

مُدْهَامَّتَانِ

৬৪

কালোমত ঘন সবুজ।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

৬৫

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?

فِيهِمَا عَيْنَانِ نَضَّاخَتَانِ

৬৬

তথায় আছে উদ্বেলিত দুই প্রস্রবণ।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

৬৭

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?

فِيهِمَا فَاكِهَةٌ وَنَخْلٌ وَرُمَّانٌ

৬৮

তথায় আছে ফল-মূল, খর্জুর ও আনার।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

৬৯

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?

فِيهِنَّ خَيْرَاتٌ حِسَانٌ

৭০

সেখানে থাকবে সচ্চরিত্রা সুন্দরী রমণীগণ।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

৭১

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?

حُورٌ مَّقْصُورَاتٌ فِي الْخِيَامِ

৭২

তাঁবুতে অবস্থানকারিণী হুরগণ।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

৭৩

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?

لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنسٌ قَبْلَهُمْ وَلَا جَانٌّ

৭৪

কোনো জিন ও মানব পূর্বে তাদেরকে স্পর্শ করেনি।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

৭৫

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?

مُتَّكِئِينَ عَلَى رَفْرَفٍ خُضْرٍ وَعَبْقَرِيٍّ حِسَانٍ

৭৬

তারা সবুজ মসনদে এবং উৎকৃষ্ট মূল্যবান বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে।

فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

৭৭

অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?

تَبَارَكَ اسْمُ رَبِّكَ ذِي الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ

৭৮

কত পূণ্যময় আপনার পালনকর্তার নাম, যিনি মহিমাময় ও মহানুভব।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে