Alexa একাধিক ছাত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত, লাপাত্তা মাদরাসা শিক্ষক 

ঢাকা, সোমবার   ২১ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৫ ১৪২৬,   ২১ সফর ১৪৪১

Akash

একাধিক ছাত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত, লাপাত্তা মাদরাসা শিক্ষক 

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:১৩ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২১:৪২ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় একটি মহিলা মাদরাসার একাধিক ছাত্রী এক শিক্ষকের লালসার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পৌরশহরের দূর্গাপুর এলাকার আন নূর মহিলা মাদরাসা ও এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে। 

সোমবার দুপুরে পুলিশ ওই মাদরাসা থেকে যৌন নির্যাতনের শিকার এক ছাত্রীকে উদ্ধার করেছেন। উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। 

এ ঘটনার পর থেকে ওই মাদরাসার শিক্ষক শওকত হোসেন রিপন,  মাদরাসা পরিচালক আসমা বেগমসহ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা পলাতক রয়েছেন। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদরাসায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দূর্গাপুর গ্রামের প্রবাসী আবুল হোসাইন সম্রাট প্রায় ৫ বছর পূর্বে আন-নূর মহিলা মাদরাসা ও এতিমখানা চালু করেন। তার স্ত্রী আসমা আক্তার মাদরাসাটি পরিচালনা করেন। মাদরাসায় ১১ জন শিক্ষকের মধ্যে একজন পুরুষ শিক্ষক। শিশু শ্রেণি থেকে ৭ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চলে ওই মাদরাসায়। আবাসিক ও অনাবাসিক মাদরাসাটিতে শতাধিক ছাত্রীর মধ্যে ৬০ জন আবাসিক। সোমবার সকালে হঠাৎ করে একজন শিক্ষার্থী (১৪) অসুস্থ হয়ে পড়ে। 

মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে স্থানীয় লোকজন শিক্ষকের অপকর্মের কথা জানতে পেরে পুলিশে খবর দেয়।  খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।

সোমবার দুপুরে সরেজমিন মাদরাসায় গেলে এলাকাবাসী জানায়, প্রায় চার মাস ধরে মাদরাসার শিক্ষকের এসব অপকর্মের কথা এলাকায় প্রচার হলেও পরিচালনা কমিটি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। 

জুনাঈদ নামে এক যুবক বলেন, আমার ভাতিজি মাদরাসায় পড়ে। সে বলেছে ওই শিক্ষক প্রায়ই ছাত্রীদেরকে বিরক্ত করত। 

এ ব্যাপারে একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, ওই শিক্ষক প্রায় সময় ছাত্রীদের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতেন। অনেক সময় ছাত্রীকে মাদরাসার বাইরে নিয়ে যেতেন। বড় ম্যাডামকে (আসমা বেগম) কে এসব কথা জানানো হলে তিনি শরম শরম বলে চুপ করে থাকতে বলতেন। অন্তত ১০জন ছাত্রী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে বলে তারা জানায়। 

মাদরাসা থেকে নিজের মেয়েকে নিতে এসে অভিভাবক গিয়াস উদ্দিন বলেন, লম্পট শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষক এ ধরনের কাজ করার সাহস না পায়। 

পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাজুল ইসলাম বলেন, মাদরাসার শিক্ষক রিপন একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি মাদরাসা কমিটিকেও জানিয়েছি।

আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সানজিদা আক্তার বলেন, প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে মেয়েটিকে জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। মেয়েটির সারা শরীরে ব্যথা করছে বলে জানিয়েছে।

আখাউড়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. আরিফুল আমিন বলেন, কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জেনেছি ওই শিক্ষক ছাত্রীদেরকে যৌন হয়রানি করতেন। ছাত্রীদের স্পর্শ কাতর স্থানে হাত দিতেন। যৌন নিপীড়নের শিকার অসুস্থ ছাত্রীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। 

ওই ছাত্রীর মা শিক্ষক শওকত হোসেন রিপন ও মাদরাসার পরিচালনা আসমা বেগমকে আসামি করে থানায় মামলা দিয়েছেন। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। 
 
ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে