চাকরির আশায় কোটি টাকা খোয়ালেন ১৪ হাজার যুবক
সংবাদপত্রের অর্ধেক পাতা জুড়ে ১৪ হাজার ২৬৫ জন নিয়োগের বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। এতে ব্যবহার করা হয়েছিল ডিজিটাল ভারতের লোগোও। আর এর মাধ্যমেই হাতিয়ে নেয়া হয়েছে ১ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
ঘটনাটি দেশটির বনগাঁ পৌরসভার। ২০১৭ সালের ৯ ডিসেম্বর ওই বিজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষিকা, সহায়ক-সহায়িকা পদে ১৪ হাজার ২৬৫ জনকে নিয়োগের উল্লেখ করা হয়। এটি দেখে অনলাইনে আবেদন করেছিল ৮২ হাজার ৪১৫ জন বেকার তরুণ-তরুণী।
জানা যায়, চাকরি পাওয়া তো দূরের কথা, পরীক্ষাই নেয়া হয়নি। পরে হতাশ হয়ে সল্টলেক সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বাগুইআটির এক তরুণী।
.png)
পুলিশ জানিয়েছে, পুরো পরিকল্পনার নেপথ্যে একটি প্রতারক চক্র রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় সেই চক্রের মাস্টারমাইন্ড রাজা মিত্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে কোনো পেশাদার অপরাধী নন। সংস্কৃত বিষয়ে এমএ পাশ করে শুধু টাকা রোজগারের উদ্দেশ্যেই এমন কাজে জড়িয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় কাউন্সিলর প্রশান্ত বালা বলেছেন, বনগাঁ পৌরসভার দক্ষিণ সুভাষপল্লি এলাকার বাসিন্দা রাজা এমএ পাশ করার পর সরকারি চাকরির চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এরপর টিউশনও করিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, এলাকায় নিজেকে শিক্ষক বলে পরিচয় দিতেন রাজা। কিন্তু সেখান থেকে যা রোজগার হচ্ছিল, তাতে মোটেও খুশি ছিলেন না।
অভিযোগ উঠেছে, এরপরই তিনি এলাকার এক যুবকের কাছ থেকে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেয়ার নাম করে দুই লাখ টাকা নেন। এদিকে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই তিনি দেশের বাইরে গা ঢাকা দিয়েছিলেন বলে বলছে পুলিশ।
বিধাননগর কমিশনারেটের ডিসি (সদর) কুণাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, চাকরির ফর্ম পূরণের ফি বাবদ ১ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রতারণা করেছিলেন রাজা। এর মধ্যে ৮১ লাখ ৪৮ হাজার ২২২ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর