Alexa গবেষণায় অনন্য এক অনুষদ

ঢাকা, বুধবার   ২৯ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ১৬ ১৪২৬,   ০৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

গবেষণায় অনন্য এক অনুষদ

মুতাসিম বিল্লাহ নাসির, ইউডা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩০ ২৭ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৫:৩৪ ২৭ নভেম্বর ২০১৯

ছবিঃ সংগৃহীত

ছবিঃ সংগৃহীত

বুয়েট, ঢাকা মেডিকেলসহ পছন্দের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পেয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন। তবে তাদের জন্য সুযোগ আছে ইউনিভার্সিটি অব ডেভলপমেন্ট অলটারনেটিভ এ। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে লাইফ সায়েন্স অনুষদ।   

পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ না পাওয়া শিক্ষার্থীরা স্বপ্নপূরণের সিঁড়ি হিসেবে বেছে নিতে পারেন এই অনুষদের  ফার্মেসি, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও মোলিকুলার মেডিসিন অ্যান্ড বায়ো ইনফরমেটিকস বিভাগ। 

এ অনুষদের ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী তাদের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে পায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা বৃত্তি। হার্ভার্ড, ক্যামব্রিজ, এমআইটি থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা নিচ্ছে এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া প্রায় সাড়ে তিনশ গবেষক। অনেকেই আছেন দেশের স্বনামধন্য ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ড্রাস্ট্রিজ এর গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে। এমনটিই বলছিলেন লাইফ সায়েন্স অনুষদের ডিন, গুগল স্কলারে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাইটেশন পাওয়া গবেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ রহমতুল্লাহ। 

ফার্মেসি বিভাগের চেয়্যারমান অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, ইউডার ফার্মেসি বিভাগ নতুন কিছু ইনোভেটিভ জায়গা নিয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে রিসার্চে ইউডার লাইফ সায়েন্স অনুষদ শুরু থেকেই কাজ করে যাচ্ছে। শুধু ট্যাবলেট, ক্যাপসুল তৈরিতে সীমাবদ্ধ না রেখে এ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের গবেষক তৈরি করতে ভেটেরনাররি ফার্মেসি, অ্যাডভান্সড অলটারনেটিভ মেডিসিন, বায়োকেমিস্ট্রি ও মোলিকুলার বায়োলজি, কম্পিটেশন বায়োটেকনলজী কোর্সের ওপর বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে ফার্মেসি বিভাগ। 

এ বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ড. নুরুন্নবী বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস এ অ্যাসিসট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে যোগ দিয়েছেন। ড. আশরাফুল আলম শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন চায়নার জেংজু বিশ্ববিদ্যালয়ে, তাসলিমের লেখা প্রকাশিত হয়েছে বিখ্যাত জার্নাল ন্যাচার এ। 

আরেক শিক্ষার্থী জেহদিন পোস্ট ডক্টরেল করছেন ইউএসএর টাফট্স ইউনিভার্সিটিতে। ইউনিভার্সিটি অব নটিংহাম ইউ. কে তে পিএইচডি করছে ফার্মেসির শিক্ষার্থী শাহাদাত। বতসোয়ানায় ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করা ৩-৪জন শিক্ষার্থী মিলে খুলেছে ওষুধ কোম্পানি। 

বিজিই বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ড. মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম পোস্ট ডক্টরেল করেছেন ইউএসএর হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এমআইটি থেকে। ড. জান্নাতুল ফেরদৌস হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে পোস্ট ডক্টরেল করছেন ড. এ এস এম শাহাবুদ্দিন আছেন ইউনিসেফ এর ইউএসএ তে হেলথ স্পেশালিষ্ট ইম্পিলিমেন্টেশন রিসার্চার হিসেবে। 

বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়্যারমান প্রফেসর রওনাক জাহান জানান, এ বিভাগ থেকে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছে। 

যাদের সবাই প্রায় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, কানাডা, জার্মানি, তার্কি, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, সুইডেন, চায়না, এইএসএ, নেদারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অবস্থান করছে। এখানকার ১৫-২০ জনের মতো শিক্ষার্থী সুইডেনের আপসালাহ ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করছে। সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, দক্ষিণ কোরিয়াতে পিএইচডি করছে ৫-৬ জনের মতো শিক্ষার্থী। চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্স এ পিএইচডি করছে শফিউল আজম। ওয়াহিদ মোজাম্মেল আছে জার্মানির উর্জবার্গ ইউনিভার্সিটিতে। নরওয়ের ইউনিভার্সিটি অব বার্জেন এ পোস্ট ডক্টরেল করছেন আমিনুল। 

লাইফ সায়েন্স অনুষদ থেকে এ পর্যন্ত ৫৫০ এরও বেশি আর্টিকেল ইন্টারন্যাশনাল জার্নালে প্রকাশ হয়েছে। দেশে প্রায় ৫০টি ও বিদেশে প্রায় ২৫০ এর মতো ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে প্রেজেন্টেশনে অংশ নিয়েছে এখানকার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এ রেকর্ডটা দেশের অন্য কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্ভবত ভাঙ্গতে পারেনি বলে ধারণা ডিন অধ্যাপক ড. রহমতুল্লাহর। 

এ অনুষদের অন্য শিক্ষকদেরও গবেষণার ঝুলি বেশ সমৃদ্ধ। অ্যাসিসটেন্ট প্রফেসর সাইয়্যেদা সিরাজ এর ইন্টারন্যাশনাল জার্নালে প্রকাশিত আর্টিকেল এর সংখ্যা ৬০টি ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বের স্বনামধন্য অ্যাবসট্রাকটিং বডি পাবমেট এ অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ৭৩টি আর্টিকেল অ্যাবসট্র্যাকটেড হয়েছে। স্কোপাস অ্যাবসট্র্যাক্ট করেছে ২৮২টি আর্টিকেল। এ অনুষদের গবেষণার অন্যতম বিষয়, মাটি থেকে আর্সেনিক, বোরন, ক্রোমিয়ামের মতো ক্ষতিকর বিষয় উদ্ভিদের সাহায্যে অপসরণ যাকে বলা হয় ফাইটোরিমিডিয়েশন। 

এন্টিডায়াবেটিক প্লান্ট, অ্যানালজেসিক প্লান্ট নিয়েও কাজ করছে লাইফ সায়েন্স অনুষদের গবেষকরা। তারা দেখেছেন কলার খোসা ব্লাডসুগার কমায়। বিভিন্ন অঞ্চলের কলার গুণও বিভিন্ন। কলা ও আমের গুণাগুন নিয়ে চলছে তাদের গবেষণা। ধানের তুষের নির্যাস বার্ডফ্লু ও ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক এটিও তাদের গবেষণার ফলাফল। বর্তমানে এ অনুষদ তাদের গবেষণার ৬টি বিষয়ের পেটেন্ট পেতে আবেদন করেছে বাংলাদেশে।  

ক্রোমিয়াম নিয়ে কাজ করেছে এ অনুষদের একদল গবেষক। তারা ঢাকার ট্যানারি এলাকার মাটিতে ক্রোমিয়ামের উপস্থিতি অনেক বেশি পেয়েছে। স্বাভাবিক মাটিতে ক্রোমিয়ামের অনুপাত ১০ লাখ ভাগের মধ্যে ২০ ভাগ হলেও ঢাকার হাজারীবাগের ট্যানারি এলাকার মাটিতে তার উপস্থিতি ১৯০০ ভাগ পর্যন্ত। মাটি থেকে ফাইটোরিমিডিয়েশন প্রক্রিয়ায় এই ক্রোমিয়াম অপসারণেরও উপায় বের করেছে গবেষকদল।  দেশের ধ্রুপদী চিকিৎসা নিয়ে কাজ করছে এ অনুষদের গবেষকরা। 

দেশে প্রায় ১০০ এর বেশি নৃ- গোষ্ঠী আছে। এদের মধ্যে ৭০টি নৃ-গোষ্ঠীর চিরায়ত চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন গবেষকরা। ৬৫টি জেলার ১৪০০ দেশিয় ভেষজের আঞ্চলিক নাম, সায়েন্টেফিক নাম, ফ্যামিলি, এসব প্লান্টের কোন অংশ চিকিৎসা ব্যবহৃত হয় সেসবের বিস্তারিত বিবরণ আছে গবেষকদের হাতে। 

অভ্যন্তরিণ স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চিড়তা, নিম, সাজনার মতো ফাংশনাল ফুড নিয়ে কাজ করছে আরেকদল গবেষক।  চলছে দুর্ভিক্ষ চলাকালীন খেয়ে থাকা উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা। এ ধরনের গাছপালায় আছে ওষুধিগুণ যা ক্ষুধা নিবারণের পাশাপাশি ব্যক্তির নানা ধরণের রোগের প্রতিষেধক হিসেবেও কাজ করছে। বিশ্বে এ ধরনের রিসার্চ পেপার ইউডার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাই প্রথম করেছে। এ জাতীয় গাছপালা হারিয়ে যাচ্ছে। ক্যান্সার ও ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক নিয়েও কাজ চলছে। কাজ চলছে পলি হার্বাল নিয়ে। মশলার মধ্যে থাকা ওষুধি গুণ নিয়ে চলছে গবেষণা। যেন খাবার হয় ওষুধ, ওষুধ হয় খাবার। মশলা নিয়ে গবেষণার নির্যাস নিয়ে যৌথভাবে বই লেখার কাজও চলছে। 

বেশ কিছু মজার গবেষণার সঙ্গে শুরু থেকেই যুক্ত লাইফ সায়েন্স পরিবার। দক্ষিণ কোনাবাড়ীর ডোবাগুলোতে দেশি কই মাছের পোনা উৎপাদন নিয়ে ছিলো শুরুর গবেষণা। তারা সফলভাবে দেশি কই মাছের পোনা উৎপাদন করে। প্রায় ৫ লাখ দেশি পোনা অবমুক্ত করে এ অনুষদের গবেষকরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম