করোনায় মৃত্যুর সঙ্গে যে ভিটামিনের ঘাটতির যোগসূত্র পেলেন গবেষকেরা!

ঢাকা, সোমবার   ০৬ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ২২ ১৪২৭,   ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

করোনায় মৃত্যুর সঙ্গে যে ভিটামিনের ঘাটতির যোগসূত্র পেলেন গবেষকেরা!

বিজ্ঞান ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৩২ ২৮ মে ২০২০   আপডেট: ২০:৪৭ ২৮ মে ২০২০

করোনাভাইরাসের প্রতীকী ছবি

করোনাভাইরাসের প্রতীকী ছবি

চীনের উহান থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। একই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। করোনাভাইরাস বিস্তার প্রতিরোধ, মৃত্যু ঠেকাতে প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের ঘুম হারাম। সম্প্রতি নর্থ ওয়েস্টার ইউনির্ভাসিটির একটি গবেষক দল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে একটি ভিটামিনের উপস্থিতির যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে।

এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টেকনোলজি নেটওয়ার্ক। ওই গবেষণাটি স্বাস্থ্য বিষয়ক সার্ভার ম্যাডকাইভেও পাওয়া যাচ্ছে। 

করোনায় মৃত্যুর হারে এগিয়ে থাকা চায়না, জার্মানি, ইতালি, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে করোনায় মৃত ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করে গবেষণা করেন গবেষক দল। 

গবেষক দলের প্রধান বাডিম ব্যাকম্যান বলেন, করোনাভাইরাসে মৃত্যুর পেছনে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি রয়েছে। যেটি সবারই জানা জরুরি। তবে হুট করে ভিটামিন ডি গ্রহণের প্রয়োজন নেই। এ নিয়ে আরো গবেষণা প্রয়োজন। আমাদের গবেষণায় আরো ভালো কিছু প্রত্যাশা করছি। করোনাভাইরাসের মৃত্যুর সঙ্গে ভিটামিন ডি-এর সরাসরি কোনো কারণ পেলে হয়তো মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা যাবে।

বিশ্বের নানা হাসপাতাল থেকে সংগ্রহ করা তথ্য থেকে ভিটামিন ডি এবং সাইটোকাইন স্টোর্মের (অতিমাত্রায় ইমিউনি সিস্টেমের সক্রিয়তায় হাইপারিনফ্লিমেটোরির অবস্থান) শক্তিশালী যোগসূত্র পেয়েছেন গবেষকেরা। তাই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির মতোই সাইটোকাইন স্টোর্মের কারণে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হতে পারে।

ব্যাকম্যান ল্যাবরেটরির পোস্টডক্টরাল গবেষণার সহযোগী গবেষক ও গবেষণার প্রথম লেখক আলী দানেশকাহ বলেন, সাইটোকাইন স্টোর্ম শরীরের ফুসফুসেতে মারাত্বক ক্ষতি করে। ফলে রোগীর তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বাড়ায় বেশির ভাগ করোনার (কোভিড-১৯) রোগীর মৃত্যু হয়। কারণ করোনাভাইরাস সরাসরি ফুসফুসেতে আঘাত না করলেও সাইটোকাইন স্টোর্ম ইমিউনি সিসস্টেমকে ভুল পথে পরিচালিত করে জটিলতা সৃষ্টি বা রোগীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীকে বাঁচাতে ভিটামিন ডি-এর ভূমিকা অনেক। কারণ ভিটামিন ডি শুধু ইমিউনি সিস্টেমকে বাড়ায় না, ইমিউনি সিস্টেমের অতিমাত্রায় কার্যকরিতা (সাইটোকাইন স্টোর্ম) রোধ করে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি সব ধরণের জটিলতা থেকে মানুষকে সুস্থ রাখতে পারে। এমনকি, করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার কমাতেও পারে।

ব্যাকম্যান বলেন, আমাদের গবেষণা প্রতীয়মান যে, করোনাভাইরাসে উচ্চ মৃত্যুহার অর্ধেকে নামিয়ে আনতে পারব। করোনাভাইরাস থেকে মানুষকে পুরোপুরি প্রতিরোধ করতে পারবে না ভিটামিন ডি। তবে এটি আক্রান্তদের জটিলতা ও মৃত্যুর হার রুখতে পারে।

ব্যাকম্যানের মতে, করোনাভাইরাসে শিশুদের মৃত্যুর হার কম। তাই বিষয়টি গবেষণায় আরো সহায়তা করবে। তিনি বলেন, শিশুরা সাধারণত ইমিউনি সিস্টেমের ওপর নির্ভরশীল। তাদের বিশ্লেষণের মাধ্যমেই মৃত্যুর হার কমানোর বিষয়টি বের করা সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, অতিরিক্ত ভিটামিন ডি গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। কারণ অতিমাত্রায় ভিটামিন ডি শরীরের ক্ষতি করে। করোনার রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ভিটামিন ডি গ্রহণের মাত্রা নির্ধারণেও গবেষণা চলছে।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ভিটামিন ডি-এর বেশি উপকারিতার কথা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি ক্ষতিকর। তাই উপযুক্ত লক্ষণ নির্ণয় করে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে। আমেরিকা ও আফ্রিকার বয়স্ক মানুষের জন্য ভিটামিন ডি খুবই প্রয়োজন। এটি তাদের দুর্বলতাকে কাটিয়ে তুলতে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ