ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কবুতর এনে দিল সম্মান

শরীফা খাতুন শিউলী, খুলনা
প্রকাশিত: ১৬:১৩, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
কবুতর এনে দিল সম্মান
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শখের বশে কবুতর পালন করে আয়ের পাশাপাশি খ্যাতি ও সম্মান কুড়িয়েছেন খুলনার গোবরচাকা গাবতলা এলাকার শরীফ মল্লিক। তার দেখাদেখি অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে কবুতর পালন করছেন।

শরীফ মল্লিক ময়মনসিংহে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। নেশা তার একটাই, কবুতর পালন করা। তাই বাসায় পালন করতেন দেশি কবুতর। এরইমধ্যে চট্টগ্রাম হাই ফ্লায়ার অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত দীর্ঘক্ষণ কবুতর ওড়ানোর গ্রীষ্মকালীন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি।

ঢাকা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম এলাকার অনেক দেশি-বিদেশি কবুতরও ছিল সে প্রতিযোগিতায়। তার মধ্যে শরীফ মল্লিকের ‘গিরিবাজ’ গলা লাল ছোটমর্দা জেনারেশনের দুই জোড়া কবুতর ৮ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট আকাশে ওড়ে। এতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে তিনি পান মোটরসাইকেল ও মেডেল। কিন্তু তার চাকরিদাতারা বিষয়টি ভালোভাবে নেননি। ফলে শরীফ চাকরি ছেড়ে চলে আসেন খুলনায়।

Advertisement

পরিকল্পনা করেন, কিভাবে শখ এবং নেশাটাকে টিকিয়ে পেশায় রূপান্তরিত করা যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী গড়ে তোলেন দেশি কবুতর বিক্রি ও পরামর্শ কেন্দ্র ‘আরিসা এন্টারপ্রাইজ’। এখন অল্প পুঁজি ও শ্রমে ভালো মুনাফা পেয়ে আর্থিক সচ্ছলতায় জীবনযাপন করছেন তিনি।

শরীফ মল্লিক বলেন, ছোটবেলা থেকে কবুতর পালন করি। এটিই আমার একমাত্র নেশা। নেশাটাকে প্রাধান্য দিয়ে পেশায় পরিণত করেছি। আমি যেমন কবুতর ভালোবাসি, তেমনি কবুতরও আমাকে ভালোবেসে এনে দিয়েছে অনেক সম্মাননা, গোল্ডকাপ, মেডেল, মোটরসাইকেল ও নগদ অর্থ পুরস্কার।

তিনি বলেন, বিদেশে কবুতর নিয়ে অনেক বড় পরিসরে প্রতিযোগিতা হয়। আমাদের দেশে হয় কম পরিসরে। এসব প্রতিযোগিতায় স্থান পায় পাকিস্তান, ইন্ডিয়ার মতো দেশের কবুতর। কিন্তু আমি দেখিয়ে দিয়েছি আমাদের দেশীয় কবুতর দিয়ে প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়া যায়। স্বপ্ন একটাই, আমার দেশের কবুতর পৃথিবীর বুকে তার যোগ্য স্থান করে নেবে। এছাড়া তিনি কবুতরের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকার পাখি পালন করেন।

নগরীর শেখপাড়া এলাকার শেখ হাবিবুর রহমান জানান, ১০ বছর বয়স থেকে কবুতর পালন করি। দেশে এখন কবুতর-প্রেমীরা বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। যেসব কবুতর প্রতিযোগিতায় জিতে যায় সেসব কবুতরের দামের সঙ্গে কদরও বাড়ে। যারা কতুবর পালন করেন তারা কোনো দিন মাদকাসক্ত হতে পারে না।

বাংলাদেশ হাই ফ্লাইয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম মধু জানান, শরীফ মল্লিকের উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে ভালো। তিনি কবুতরের জন্য চাকরি ছেড়েছেন, কবুতর ছাড়েননি। মাথা খাটিয়ে নেশা আর শখটাকেই পেশায় পরিণত করেছেন। তাকে দেখে অনেক কিছু শেখার রয়েছে। তিনি ভালো একজন উদ্যোক্তাও বটে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!