আজব গ্রামের অদ্ভূত যত রীতি
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=129669 LIMIT 1

ঢাকা, বুধবার   ০৫ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২২ ১৪২৭,   ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

আজব গ্রামের অদ্ভূত যত রীতি

নিউজ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:০৮ ৩১ আগস্ট ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সমাজ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে গ্রাম। স্থান কাল ভেদে অনেক গ্রামের বৈশিষ্টও ভিন্ন। কিছু গ্রাম আছে, যা অদ্ভুত। কোনো গ্রাম দাবার জন্য বিখ্যাত। কোনো গ্রামের বাসিন্দারা মাটিতে নয়, হাঁটাচলা করেন দড়ির উপর দিয়ে। কোনো গ্রামে আবার লোকসংখ্যা মাত্র একজন। আবার এমনও গ্রাম আছে যেখানকার মানুষ হঠাৎ করেই দীর্ঘ ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন, সহজে ভাঙে না সেই ঘুম। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এমন কিছু আজব গ্রাম আছে, যার রীতিনীতি হালচাল বড়ই অদ্ভূত।

গ্রেটার ককাস পর্বতের কোলে গড়ে উঠেছে রাশিয়ার ছোট্ট গ্রাম সোভক্রা-১। এ গ্রামের সক্ষম ব্যক্তিরা দড়ির উপর দিয়ে হাঁটতে পারেন। তাই একে ‘টাইটরোপ ভিলেজ’ও বলা হয়। এটি একটি শতাব্দীর প্রাচীন প্রথা। কী ভাবে এই প্রথা শুরু হল তা নিয়ে প্রচলিত একটি কাহিনিও রয়েছে। পাশের পাহাড়ি গ্রামে বিয়ে করতে সোভক্রা গ্রামের পুরুষদের ট্রেকিং করে যেতে হত। এর থেকে মুক্তি পেতে পাহাড়ের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দড়ি টাঙাতেন। পরে সেই দড়ি বেয়েই তারা যাতায়াত করা শুরু করেন। তারপর থেকে দড়ি বেয়েই তারা হাঁটতে শুরু করে। এখন ওই গ্রামের স্কুলের শিশুদের ‘টাইটরোপ ওয়াকিং’শেখানো হয়।

উত্তর কেরলের মারোত্তিচাল গ্রামটি ‘চেস ভিলেজ’ নামে পরিচিত। গ্রামের ১০০ শতাংশ মানুষই দাবা খেলায় দক্ষ। একটা সময়ে এই গ্রামের বাসিন্দারা জুয়া আর মদে মতো খারাপ নেশায় আসক্ত ছিল। গ্রামেরই এক যুবক উন্নিকৃষ্ণণ কাছেরই একটি ছোট একটি শহরে থাকতেন। সেখানে তিনি দাবা শেখেন। গ্রামে ফিরে অন্যদেরও তিনি দাবা শেখান। আস্তে আস্তে গ্রামে র লোকজনের মধ্যে দাবা বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে দাবা। মদ, জুয়া ছেড়ে দাবায় আসক্ত হয়ে পড়েন গ্রামবাসীরা। দাবার জন্য মারোত্তিচাল গ্রামের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। এখানকার স্কুল সিলেবাসেও দাবা আছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকেই দাবা শিখতে আসেন এই গ্রামে।

তাইওয়ানের ছোট্ট একটি গ্রাম। একসময় তাইওয়ানের এই গ্রামটিকে প্রোমোটাররা কিনে ফেলার চেষ্টা চালায়। সরকারও গ্রামটি ভেঙে ফেলার হুঁশিয়ারি দেয়। গ্রামটিকে বাঁচানোর জন্য একটা নতুন পন্থা বের করেন বাসিন্দা হুয়াং ইয়ুং ফু। হাতে তুলে নেন রং-তুলি। পুরো গ্রামটিকে রঙিন করে তোলেন ঘর-বাড়িতে নানান চিত্র এঁকে। ধীরে ধীরে গ্রামটির নাম ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। সেখান থেকে গোটা বিশ্বে। এখন এটি একটি পর্যটনস্থল হিসেবে গড়ে উঠেছে। হুয়াং ইয়ুং ফু-র এই রং-তুলিই কিন্তু শেষ পর্যন্ত গ্রামটিকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। এ কারণে এ গ্রামের নাম রেনবো ফ্যামিলি ভিলেজ।

নেব্রাস্কার বয়েড কাউন্টির ছোট্ট গ্রাম মনোউই। ০.২১ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। গ্রামের বাসিন্দা মাত্র একজন। ৮৬ বছর বয়সী বৃদ্ধা এলসি এইলার। ১৯০২ সালে গড়ে ওঠা এই গ্রামটি একটা সময় বেশ সমৃদ্ধ ছিল। ১৯৩০-এর লোক গণনায় গ্রামের বাসিন্দা ছিলো ১৫০ জন। কিন্তু গ্রামের যুব সম্প্রদায় একে একে গ্রাম ছেড়ে শহরে পাড়ি দেয়। পরে ২০০০ সাল নাগাদ দেখা যায়, গ্রামে মাত্র দু’জন পড়ে রয়েছেন— এইলার ও তার স্বামী রুডি। ২০০৪-এ রুডি মারা যাওয়ার পর গ্রামে একাই বসবাস করছেন এইলার। স্বামীর মৃত্যুর পর একটা লাইব্রেরি আর রেস্তোরাঁ খোলেন তিনি। এই লাইব্রেরির দুর্মূল্য বইয়ের টানে ১০০ কিলোমিটার দূর থেকেও বইপ্রেমীরা ছুটে আসেন এখানে।

মাল্টার সমুদ্রোপকূলের একটি গ্রাম। ১৯৮০-তে বিখ্যাত কমিক চরিত্র ‘পপাই’ছবির শুটিং হয়েছিল এই গ্রামে। সেই শুটিংয়ের জন্য মাত্র ৭ মাসের মধ্যে নেদারল্যান্ডস ও কানাডা থেকে কাঠ এবং বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে এসে গ্রামটি তৈরি করা হয়। ছবিতে গ্রামটির নাম রাখা হয়েছিল ‘সুইটহ্যাভেন ভিলেজ’। শুটিংয়ের জন্য তৈরি করা হলেও পরে গ্রামের ওই সেটটির প্রেমে পড়ে যান মাল্টার বাসিন্দারা। ফলে ছবি মুক্তি পাওয়ার পরেও কৃত্রিম গ্রামের ওই সেটটি নষ্ট করতে দেননি তারা। এটাই এখন মাল্টার অন্যতম পর্যটনস্থল। বিয়ের জন্যও গ্রামটিকে ভাড়াও দেয়া হয়।

কাজাখস্তানের এক আজব গ্রাম কালাচি। এই গ্রামের বাসিন্দারা হঠাৎ করেই ঘুমিয়ে পড়েন। সেই ঘুম একদিন, দুইদিন এমনকি কারো কারো এক সপ্তাহ পরে গিয়েও ভাঙে। শিশু থেকে বুড়ো সকলের মধ্যেই একই প্রবণতা দেখা যায়। কেউ কাজ করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ছেন, কেউ বা কথা বলতে বলতে! আর ঘুম থেকে ওঠার পর কারোই কিছু মনেও থাকে না। তারা সব ভুলে যান। শুধু মানুষ নয়, ওই গ্রামের পশু-পাখিরাও নাকি দীর্ঘ ঘুমে তলিয়ে যায়। গবেষকদের প্রাথমিক ধারণা, নিকটস্থ ইউরেনিয়াম খনির প্রভাব পড়ছে গ্রামবাসীদের উপর। প্রচুর পরিমাণে কার্বন মনোক্সাইড সৃষ্টি হওয়ার ফলে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এ কারণেই যখন তখন ঘুমিয়ে পড়েন কালাচি গ্রামের বাসিন্দারা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ