ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

গঙ্গাস্নানে যাচ্ছেন না ‘সৎসঙ্গ বাংলাদেশ’ অনুসারীরা!

পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:৫৯, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯
গঙ্গাস্নানে যাচ্ছেন না ‘সৎসঙ্গ বাংলাদেশ’ অনুসারীরা!
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পাবনার হিমাইতপুর শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র আশ্রমে শিবগঙ্গা স্নান করছেন না ‘সৎসঙ্গ বাংলাদেশ’ এর অনুসারীরা। অন্য গ্রুপের বাধার কারণে ঠাকুরের অনুসারী টাঙ্গাইলের পাকুটিয়াস্থ ‘সৎসঙ্গ বাংলাদেশ’ এর কর্মীরা গঙ্গাস্নান উৎসব না করেই ফিরে যাবেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। 

ঠাকুরের জন্ম দিবস ও গঙ্গাস্নান উৎসব শীর্ষক দুইদিনের কর্মসূচির মধ্যে দ্বিতীয় দিন সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রয়েছে গঙ্গাস্নান উৎসব।

আশ্রম কর্তৃপক্ষ বলছেন, এ সংগঠনটি গঙ্গাস্নান উৎসবের জন্য তাদের কাছে অনুমতি নেয়নি। এখানে গঙ্গাস্নান উৎসবের জন্য আশ্রম কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ‘সৎসঙ্গ বাংলাদেশ’ বলছে স্নানের জন্য অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন নেই বলেই তারা জানেন। 

Advertisement

পাবনার অতিরিক্ত এসপি শামীমা আক্তার বলেন, ঠাকুর অনুসারী ‘হিমাইতপুর সৎসঙ্গ আশ্রম’ ও ‘সৎসঙ্গ বাংলাদেশ’ এর দুই গ্রুপের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তারা উভয়ই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 

হিমাইতপুর শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্র আশ্রমের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাপস কুমার রায় বলেন, সম্বলপুর ঘাটেই ঠাকুরের ভক্ত অনুসারীরা স্নান উৎসব করেন। সেখানে বহিরাগত কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে স্নান করতে চাইলে আশ্রম কর্তৃপক্ষের থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণেই ‘সৎসঙ্গ বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠনের ঠাকুর অনুসারীরা সে অনুমতি নেননি।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। কেউ যদি বিচ্ছিন্নভাবে গঙ্গাস্নানে আসেন, সে ক্ষেত্রে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। 

‘সৎসঙ্গ বাংলাদেশ’র কেন্দ্রীয় সদস্য সুনীল কুমার পাল (সহ প্রতিঋত্মিক) বলেন, পাবনাতে ঠাকুরের জন্ম দিবস ও গঙ্গাস্নান উৎসব করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সদর থানায় লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু গঙ্গাস্নানের জন্য আশ্রম কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে এমনটি আমাদের জানা নেই।

সুনীল পাল বলেন, প্রায় অর্ধশত বছর ধরেই জেনে আসছি স্নানের জায়গাটি গঙ্গা নদীর একটি স্থান। এই ভেবেই গঙ্গাস্নান উৎসব করা হয়। কিন্তু এবারে হিমাইতপুর আশ্রম কর্তৃপক্ষ স্নান উৎসবে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। 

এ বিষয়ে আশ্রমের সাবেক সম্পাদক যুগোল কিশোর ঘোষ বলেন, শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সৎসঙ্গ আশ্রম হিমাইতপুরের নামে প্রায় ৩০ বছর আগে ছয় বিঘা জমির ওপর এই পুকুরটি ক্রয় করা হয়েছে। পুকুরটি সম্বলপুর ঘাট হিসেবে পরিচিতি। যেহেতু ঠাকুরের আশ্রমের নামে ক্রয় সম্পত্তি। সেহেতু কারো আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি মানেই অনুমতির প্রয়োজন দেখা দেয়। 

এদিকে গত ৭-৯ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী ঠাকুরের আবির্ভাব-তিথি ও ভাগিরথী গঙ্গাস্নান মহোৎসব সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু পাবনা মানসিক হাসপাতাল ক্যাম্পাসে অন্য বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্ত অনুসারীদের শতশত বাস রাখতে দেয়া হয়নি। অথচ সৎসঙ্গ বাংলাদেশ নামের ওই সংঘকে মানসিক হাসপাতালের ক্যাম্পাসের ভেতরে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির অনুমতি দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সৎসঙ্গ আশ্রম হিমাইতপুর অনুসারীরা। 

আশ্রমের একাধিক ঠাকুর ভক্তের অভিযোগ, পাবনা মানসিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঈর্ষাকাতর হয়েই পক্ষাবলম্বন করেছেন। এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। 

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলাপকালে পাবনা মানসিক হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তন্ময় প্রকাশ বিশ্বাস বলেন, কাশিপুর থেকে মানসিক হাসপাতালের সীমানা। হিমায়েতপুর আঞ্চলিক রাস্তার দুধারে গাড়ি রাখা মানে আমার ক্যাম্পাসেই রাখা। হাসপাতাল ক্যাম্পাসের ভিতরে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের বিষয়ে তিনি বলেন, অনুমতি দেয়ার ক্ষমতা আমার আছে। সেই ক্ষমতা বলেই সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত অনুমতি দিয়েছি। 

রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় পাবনা মানসিক হাসপাতালের বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্র প্রাঙ্গণে মঞ্চ তৈরি চলছিল। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে আসা সৎসঙ্গ বাংলাদেশের ঠাকুরের অনুসারী পুলক দাস বলেন, ‘সৎসঙ্গ বাংলাদেশ চিকিৎসক সংঘ’র উদ্যোগে দিনব্যাপী বিনামূল্যে শারীরিক চেকআপ, চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ ও ওষুধপত্র বিতরণ করা হবে। এছাড়াও সকালে থাকবে ঠাকুরের জন্মদিবস ঘোষণা। 

রোববার বিকেলে সম্বলপুর ঘাটে গিয়ে কথা হেমায়েতপুর ঠাকুর অনুসারী সুকেশ বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঠাকুরের অনুসারীরা এখানে গঙ্গাস্নানে আসবেন। তাই এখানে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও স্নানের উপযোগী করা হচ্ছে। 

সৎসঙ্গ বাংলাদেশের ঠাকুর অনুসারী জেলার বাইরে থেকে আসা একাধিক ভক্ত অনুসারী জানান, শুনেছি এখানে ঠাকুরের সম্বলপুর ঘাট নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। সৎসঙ্গ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে হিমাইতপুর আশ্রম কর্তৃপক্ষকে কোনো আবেদন করা হয়নি। যে কারণে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে গঙ্গাস্নানে যাচ্ছি না। কেউ যদি যায়, তাহলে বিচ্ছিন্নভাবে যাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!