ঢাকা,  শনিবার   ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ধর্ম ]

যাদের জন্য রোজাদারের সাদৃশ্যতা অবলম্বন ওয়াজিব এবং হারাম

শহীদুল ইসলাম
প্রকাশিত: ১৬:১৯, ২৮ এপ্রিল ২০২০
যাদের জন্য রোজাদারের সাদৃশ্যতা অবলম্বন ওয়াজিব এবং হারাম
ফাইল ফটো

রোজা হচ্ছে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজার নিয়তে পানাহার ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা। এটা মুসলমানদের ওপর আল্লাহ তায়ালার ফরজ বিধান। 

রোজাদারদের জন্য এই বিধান পালনের সুবিধার্থে, যারা কোনো কারণে রোজা রাখতে পারেনি তাদের ওপরও এই সময়গুলোতে পানাহার ইত্যাদি থেকে বেঁচে থাকার হুকুম দেয়া হয়েছে।

এক. রোজা রাখার পর কোনো কারণে ভেঙ্গে গেলে অথবা ইচ্ছাকৃত ভেঙ্গে ফেললে তার ওপর ওয়াজিব হচ্ছে দিনের অবশিষ্ট সময় পানাহার ও এ জাতীয় কাজ থেকে বিরত থাকা (ফিকহী জাওয়াবেত, খণ্ড-১ম, পৃষ্ঠা-১২৭)।

Advertisement

দুই. কোনো লোক শাবান মাসের ত্রিশ তারিখ মনে করে দিনের বেলায় পানাহার করার পর জানতে পেরেছে যে, আজ রমজানের প্রথম তারিখ তার জন্যও বাকি দিন রোজাদারের মতো থাকা ওয়াজিব। (ফিকহী জাওয়াবেত, খণ্ড-১ম, পৃষ্ঠা-১২৭)।

তিন. মুসাফির ব্যক্তি, যার জন্য রোজা না রাখার সুযোগ ছিলো, সে যদি রোজা না রাখা অবস্থায় বাড়িতে চলে আসে অথবা কোনো জায়গায় পনের দিন থাকার নিয়ত করে। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড-৩য়, পৃষ্ঠা-৪৪০)।

চার. যে নারী দিনের বেলায় মাসিক বা নেফাস (বাচ্চা হওয়ার পর যে রক্ত বের হয় শরয়ী পরিভাষায় ওই রক্তকে নেফাস বলে) থেকে পবিত্র হয়েছে। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড-৩য়, পৃষ্ঠা-৪৪১, আল লুবাব ফী শরহিল কানয, পৃষ্ঠা-১৭৯)।

পাঁচ. পাগল ব্যক্তি দিনের বেলায় সুস্থ হয়ে গেলে দিনের অবশিষ্ট সময় পানাহার থেকে বিরত থাকবে। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড-৩য়, পৃষ্ঠা-৪৪১)।

ছয়. অসুস্থতার কারণে রোজা রাখতে অক্ষমতার পর দিনের বেলায় সুস্থ হয়ে গেলে। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড-৩য়, পৃষ্ঠা-৪৪১)।

উল্লিখিত সুরতে রোজা অনিচ্ছাকৃত ভঙ্গ হওয়ার কারণে ওই দিনের রোজার কাজা আদায় করতে হবে। (রদ্দুল মুহতার, খন্ড-৩য়, পৃষ্ঠা- ৪৪১, মারাকিল ফালাহ, পৃষ্ঠা-৬৭৮) তবে ইচ্ছাকৃত রোজা ভেঙ্গে থাকলে সে রোজার কাজা ও কাফফারা উভয়টায় আদায় করতে হবে। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড-৩য়, পৃষ্ঠা-৪৪৫, মারাকিল ফালাহ, পৃষ্ঠা-৬৬৪)।

সাত. যে অমুসলিম রমজানে দিনের বেলায় ইসলাম গ্রহণ করে সেও পানাহার ইত্যাদি থেকে বিরত থাকবে।

আট. নাবালেগ দিনের বেলায় বালেগ হলে।

উপরোক্ত সাত ও আট নম্বরের উক্ত দুই ব্যক্তির জন্য ওই দিনের রোজা কাজা করতে হবে না। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড-৩য়, পৃষ্ঠা-৪৪১, মারাকিল ফালাহ, পৃষ্ঠা-৬৭৮)।

যেসব সুরতে রোজাদারের সাদৃশ্যতা অবলম্বন করা হারাম :

মাসিক বা নেফাসগ্রস্ত নারীর জন্য দিনের অবশিষ্ট সময় রোজাদারের সাদৃশ্যতা অবলম্বন করা হারাম। তবে তারা পানাহার গোপনে করবে। (মারাকিল ফালাহ, পৃষ্ঠা-৬৭৮, আল লুবাব ফী শরহিল কানয, পৃষ্ঠা-১৭৯)।

যেসব সুরতে দিনের বেলায় পানাহার ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা আবশ্যক নয় :
 
যে ব্যক্তি কোনো রোগের কারণে রোজা রাখতে অক্ষম এবং মুসাফির ব্যক্তি যাকে শরীয়তে রোজা না রাখার সুযোগ দিয়েছে তাদের জন্য দিনের বেলায় পানাহার ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা আবশ্যক নয়। (মারাকিল ফালাহ, পৃষ্ঠা-৬৭৮)।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!