ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]

বিপিএল ড্রাফট; নতুন শুরুর আশায় প্রত্যাশা মিটেছে কতটুকু?

আসাদুজ্জামান লিটন
প্রকাশিত: ১৮:৩২, ১৪ অক্টোবর ২০২৪
বিপিএল ড্রাফট; নতুন শুরুর আশায় প্রত্যাশা মিটেছে কতটুকু?
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্তারা মুখে বলেন বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা টি-২০ লিগ। যদিও বাস্তবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) তার ধারেকাছেও নেই। দেশের সবচেয়ে জমজমাট এ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ১১তম আসরে নতুন কিছু দেখা যাবে বলে আশা দিয়েছে বিসিবি। তবে সেই ধারার শুরুতে ড্রাফটে যা দেখা গেছে, তাতে একে নতুন বোতলে পুরনো মদ বলাই বোধ হয় যুক্তিযুক্ত।

বিপিএল হবে আর নাটকীয়তা অথবা সমালোচনা থাকবে না, এ যেন অসম্ভব ব্যাপার। এবারের আসরে যুক্ত হয়েছে নতুন ৩ দল। দুর্বার রাজশাহী, ঢাকা ক্যাপিটালসের সঙ্গে ফিরে এসেছে চিটাগাং কিংস ফ্র্যাঞ্চাইজি। সব দলের সামনেই ড্রাফটের বাইরে সরাসরি চুক্তিতে খেলোয়াড় দলে ভেড়ানোর সুযোগ ছিল। আর সেখানে ঠিক ড্রাফটের আগের রাতেই হাস্যরসের জন্ম দেয় ঢাকা ও রংপুর রাইডার্স।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ঘটা করে ঢাকা ঘোষণা দেয়, আসছে আসরে ক্যাপিটালসের হয়ে মাঠ মাতাবেন অ্যালেক্স হেলস। তবে ড্রাফটের একদিন আগে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি জানায়, বিয়ের জন্য নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তিনি। আর রাতে সবাইকে চমকে দিয়ে রংপুর রাইডার্স ঘোষণা দেয়, তাদের হয়ে মাঠ মাতাবেন হেলস! অর্থাৎ, ড্রাফটের আগেই খেলোয়াড় নিয়ে শুরু নাটক।

Advertisement

এক্ষেত্রে নাহয় বিসিবির সরাসরি হাত নেই। কিন্তু ড্রাফটের দিন ক্রিকেট বোর্ড নিজেরাও কি সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পেরেছে? মোটাদাগে যদি বলা হয়, হ্যাঁ পেরেছে। তবে এর মাঝেও ছিল দৃষ্টিকটু অনেক ভুল। ড্রাফট পরিচালক মাহবুব আনামকে নিয়ে কিছু না বললেই নয়। দেশে এতকিছু বদলে গেল, তবে বদলায়নি তার অবস্থান। আইপিএল বা পিএসএলে যেখানে ড্রাফট পরিচালকই উত্তেজনাকে বাড়িয়ে দেন, আনন্দ আর নাটকীয় কথার মাধ্যমে সবাইকে মাতিয়ে রাখেন, সেখানে মাহবুবের পরিচালনায় কারো ঘুম ধরলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

ড্রাফট চলার সময়...এছাড়া অনুষ্ঠান শুরুর পর মাঝে মাঝে মাইক্রোফোনে বিভ্রাট, সিস্টেমের গণ্ডগোলে খেলোয়াড়দের ঠিকভাবে তালিকাভূক্ত না হওয়া, ড্রাফট পরিচালনাকারীর ভুলভাল তথ্য যে কাউকে নিশ্চিতভাবে হতাশ করেছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সংশ্লিষ্টতা আছে জানার পর এবারের বিপিএল নিয়ে বড় কিছুর আশায় বুক বেঁধেছেন ক্রিকেটভক্তরা। তবে প্রাথমিকভাবে সেই আশা পূরণ হয়নি, এটা বলা যায়।

কমতি দেখা গেছে দলগুলোর পরিকল্পনার মাঝেও। অন্য অনেক দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো নিলাম বা ড্রাফটের আগেই স্কাউটের মাধ্যমে খেলোয়াড় খুঁজে বের করে, চোখ রাখে। প্রয়োজন মনে পড়লে আগেভাগেই খেলোয়াড়দের অডিশন নেয়। পারফরম্যান্সের উন্নতিতে সহায়তা করে। সেখানে বেশিরভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজিই যেন ঠিক পুরোপুরি পরিকল্পনা করে ড্রাফটে আসেননি।

ড্রাফট শেষে কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক বলেছেন, তারা যেমন চেয়েছেন তেমনই খেলোয়াড় পেয়েছেন। অথচ ড্রাফটের মাঝে বেশ কয়েকবার সময় চেয়ে নিতে হয়েছে দলগুলোকে, খেলোয়াড় হিসেবে কাকে নেবে সেটা ঠিক করার জন্য! অর্থাৎ প্ল্যান ‘এ’ সফল না হলে সেক্ষেত্রে প্ল্যান ‘বি’ বা ‘সি’, কিছুই ছিল না বেশিরভাগ দলের। আর সবকিছু ছাপিয়ে দলগুলো যাদের নিয়েছে, সেখানেও প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে।

মাশরাফী দীর্ঘদিন ক্রিকেটের বাইরে। তিনি দল পেয়েছেন। এমনকি মার্শাল আইয়ুব বা নাইম ইসলাম তারাও দল পেয়েছেন। অথচ দল পাননি মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত বা বিপিএলে নিয়মিত পারফর্ম করা সৈকত আলীরা। বিপিএলের সেঞ্চুরিয়ান আনিসুল ইসলাম ইমন অথবা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের নিয়মিত পারফর্মার অমিত হাসান, টিপু সুলতান, রবিউল হকের কেউ দল পাননি। বিপিএল মাতানো শফিকুল ইসলাম, সুমন খানও থেকেছেন উপেক্ষিত।

এবারের বিপিএলে গ্ল্যামার বাড়িয়েছেন শাকিব খানমূলত অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররাই নিলামে দল পেয়েছেন বেশি। তবে তাদের বেশিরভাগেরই ক্যারিয়ার পড়তির দিকে। আর উঠতি তরুণ বা জাতীয় দলে খেলেছেন এমন অনেকেই দল পাননি। এ অবস্থায় বুড়োদের নিয়ে খেলা বিপিএলে দেশের ক্রিকেট আসলেই কতটা উপকৃত হবে সে প্রশ্ন করতেই পারেন ক্রিকেটের শুভাকাঙ্ক্ষীরা। নিরাশার পিঠে আশার আলো একটাই, কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি চাইলে এখন ভিত্তিমূল্যে তরুণ ক্রিকেটারদের নিতে পারবে।

এবারের ড্রাফটে ক্রিকেটের বাইরে যিনি বিপিএলের গ্ল্যামার বাড়িয়েছেন, তিনি শাকিব খান। দেশের জনপ্রিয় এ নায়ক এবার বিপিএলে ঢাকা ক্যাপিটালস কিনেছেন। ড্রাফটের বাইরে আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিলেন তিনি। এমনকি ড্রাফটের মাঝেও তার হাস্যরস যে কারো ভালো লাগা বাড়িয়েছে। ড্রাফট শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আশার বাণী শুনিয়েছেন তিনি। তবে পূর্ব অভিজ্ঞতার জন্য যথারীতি কিছুটা শঙ্কা থেকেই যায়।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৭ ডিসেম্বর মাঠে গড়াবে বিপিএলের ১১তম আসর। নতুন কিছুর ঘোষণা দেওয়া বিসিবি আগের সব ভুলত্রুটি ও কমতি সেরে আসলেই কতটা জমজমাট টুর্নামেন্ট উপহার দিতে পারে, সেটাই এখন দেখার। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএল
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!