ফের পাকিস্তানের অধিনায়কত্ব ছাড়লেন বাবর
ভারতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর গত নভেম্বরে পাকিস্তানের তিন ফরম্যাটের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন বাবর আজম। তবে সাড়ে চার মাসের ব্যবধানে গত এপ্রিলে আবার সাদা বলের অধিনায়কত্বে ফেরানো হয় তারকা এই ব্যাটারকে। দ্বিতীয় মেয়াদে ছয় মাসও থাকলেন না বাবর।
দ্বিতীয় মেয়াদে সাদা বলের দায়িত্ব নেয়ার সাড়ে পাঁচ মাস পর নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন পাকিস্তানের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটার। মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেই নিজেই বিষয়টি জানিয়েছেন তারকা এই ক্রিকেটার।
পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সময়টা ভালো যাচ্ছে না বাবরের। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়েছে দলটি। হেরেছে যুক্তরাষ্ট্রের মতো নবাগত দলের কাছেও। তখন থেকেই নেতৃত্ব এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এসব বিষয় বিবেচনায় বাবরকে নেতৃত্ব ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক অনেক ক্রিকেটারই। অবশেষে সেটাই করলেন বাবর।
এক্স-এ একটি পোস্টে, বাবর বলেছেন, “গত মাসে পিসিবি (পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড) এবং টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে পাঠানো আমার বিজ্ঞপ্তি অনুসারে আমি পাকিস্তান পুরুষ ক্রিকেট দলের অধিনায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
“এই দলকে নেতৃত্ব দেওয়া একটি সম্মানের বিষয়, তবে আমার পদত্যাগ করার এবং নিজের খেলায় ফোকাস করার সময় এসেছে।”
তিনি বলেন, অধিনায়কত্ব একটি ‘ফলপ্রসূ অভিজ্ঞতা’ ছিল। তবে এটি তার উপর ‘উল্লেখযোগ্য কাজের চাপ’ তৈরি করেছে।
“আমি আমার পারফরম্যান্সকে অগ্রাধিকার দিতে চাই, আমার ব্যাটিং উপভোগ করতে চাই এবং আমার পরিবারের সাথে মানসম্পন্ন সময় কাটাতে চাই, যা আমাকে আনন্দ দেয়। পদত্যাগ করার মাধ্যমে, আমি সামনে এগিয়ে যেতে সক্ষম হব এবং আমার খেলা এবং ব্যক্তিগত উন্নতিতে আরো ফোকাস করতে পারবো,” বলেন বাবর।
বাবর বলেন, তিনি তার প্রতি অটুট সমর্থন এবং বিশ্বাসের জন্য কৃতজ্ঞ। আপনাদের উত্সাহ আমার কাছে বিশ্বকে বোঝায়। আমরা একসাথে যা অর্জন করেছি তার জন্য আমি গর্বিত এবং একজন খেলোয়াড় হিসেবে দলে আরো অবদান রাখতে মুখিয়ে আছি।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে টেস্ট এবং ওয়ানডে দলের দায়িত্ব নেওয়ার আগে বাবরকে ২০১৯ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক করা হয়েছিল। এশিয়া কাপ ও ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের শোচনীয় পারফরমেন্সের পর গত বছরের নভেম্বরে অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ান বাবর। তার পরিবর্তে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক করা হয় শাহীন শাহ আফ্রিদিকে এবং টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেন শান মাসুদ।