ঢাকা,  শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ খেলা ]
এনসিএল 

তারকাদের না খেলা ও মানের সমালোচনা নিয়ে যা বললেন রাজ্জাক

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯:২৮, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪
তারকাদের না খেলা ও মানের সমালোচনা নিয়ে যা বললেন রাজ্জাক
আব্দুর রাজ্জাক

একটি দেশের ক্রিকেট অবকাঠামো কতটা উন্নত, তা সেখানকার ঘরোয়া ক্রিকেটের মান দেখেই নাকি বোঝা যায়। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের মান নিয়ে বছরের পর বছর রয়েছে সমালোচনা। পাইপলাইন থেকে আন্তর্জাতিক মানের উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত খেলোয়াড় বেরিয়ে না আসা, টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার দুই যুগ পরও ফরম্যাটটিতে ধারাবাহিক সাফল্য না পাওয়ার মতো বিষয়গুলো বারবার আলোচনায় আসে। জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটারদের খেলতে না চাওয়ার আগ্রহ নিয়েও চলে নিয়মিত চর্চা।

জাতীয় ক্রিকেট লিগের  (এনসিএল) আগামী মৌসুম নিয়ে বুধবার বিসিবিতে বসেছিল সভা। আসরটি নিয়ে বোর্ডে নেয়া সিদ্ধান্তের বিষয়ে সাংবাদিকদের খুলে বলেন আব্দুর রাজ্জাক। বিসিবির এই নির্বাচক লিগের মান নিয়ে ওঠা নিয়মিত সমালোচনা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বক্তব্য দেন।

‘শেষ ১৫ বছর আমি জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর ৬ বছর একটানা লিগে খেলেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে, বাংলাদেশে সেরা টুর্নামেন্ট এনসিএল। এই কথাটা আসলে এমনি কথার কথা হয়ে উঠে এসেছে। কারণ আপনি খেয়াল করলে দেখবেন, ৮০ ভাগ ম্যাচের ফল বের হয়। আমি আপনাদের খেলা দেখতে আসার জন্য উৎসাহিত করবো। আপনারা যদি একটু আসেন, মাঠে এসে খেলা দেখবেন। খেলা দেখলে ভালো লাগবে আর এই ভাবনাটা থেকে বের হয়ে আসতে পারবেন।’  

‘আমার তরফ থেকে বলা, আপনারা সবাই দেখলে মনে হয় জিনিসটা আরেকটু পরিষ্কার হবে। এখন প্রত্যেকটা খেলোয়াড় প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ ক্রিকেট এনসিএলে খেলছে বলে আমার মনে হয়। উইকেটের ব্যাপারগুলো পরিবর্তন হয়েছে, আরো পরিবর্তন হবে। নির্দিষ্টভাবে যদি কিছু দরকার হয়, সেগুলোরও চেষ্টা করা হবে। এইগুলা এখন উন্নতি করার জায়গা।’  

তারকা ক্রিকেটারদের এনসিএলে না খেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রথম কথা যারা টেস্ট খেলে তাদের জন্য সময় বের করা সমস্যার ব্যাপার হয়। আরেকটা হল ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার আছে, যেটা মেডিকেল টিম দেখাশোনা করে। এটা একটা বড় কারণ। আমরা তাদের উৎসাহ দেই যে যখন ফ্রি থাকে, তারা যেন খেলে। তারা খেললে ভালো হবে , টুর্নামেন্টের মান বাড়বে। খুব যে আহামরি এরকম হয়েছে তা নয়। দুই-চারজনের হয়েছে। সেটাও মেডিকেল টিম থেকে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কথা বলেছে সেই কারণে হয়েছে।’  

জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটাররা লিগে খেললে নমান বৃদ্ধির পাশাপাশি টুর্নামেন্টের স্পন্সর পাওয়ার বিষয়ে রাজ্জাকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। হাসিমুখে সাবেক টাইগার ক্রিকেটারের এ নিয়ে মন্তব্য, ‘এটা আসলে মার্কেটিং বিভাগের ব্যাপার। উনারা ভালো বলতে পারবে কীভাবে কী হলে সুবিধা হয়। তবে আমরা সবাইকে খেলতে উৎসাহ দেই এবং আশা করি যারা সুযোগ পাবে, সবাই খেলবে।’  

রাজ্জাক জানান, এনসিএলের দলগুলোর প্রাথমিক স্কোয়াড অধিনায়ক ও কোচদের ডেকে ২০-২৫ জনের ভেতর রাখার চেষ্টা থাকে। কারণ কোচের জন্য অনুশীলন করানোর ক্ষেত্রে এটি সুবিধাজনক। লাল বলের টুর্নামেন্টের ভেন্যু এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হোম সিরিজের ভেন্যু নির্ধারণের পর সেটি জানা যাবে। 

কোনো বিভাগীয় দলের খেলোয়াড় যদি আরেক দলে খেলার সুযোগ পায়, সেটি তাকে মানসিকভাবে বাধার সম্মুখীন করে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে বিসিবির এই নির্বাচক বলেন সাফ কথা। তার মতে, এমনটা হলে আসলে কিছুই করার নেই। উদাহরণস্বরূপ তিনি বিষয়টির ব্যাখ্যা দেন।

‘ঢাকা দলের সব খেলোয়াড় আছে, এমনকি বেশি আছে। ঢাকা দলে যারা বসে আছে, তারা অন্য দলে মূল খেলোয়াড়ও হতে পারে। আমরা ঐ খেলোয়াড়দের অন্য দলে দিতে চেষ্টা করি। কারণ আমাদের ভালো খেলোয়াড়রা যেন কোনোভাবেই বসে না থাকে।’ 

ডেইলি-বাংলাদেশ/শুভ
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!