ঢাকা,  শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ খেলা ]

‘সবাই ধোনি হতে পারে না’

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭:০২, ১১ এপ্রিল ২০২৩
‘সবাই ধোনি হতে পারে না’
দীনেশ কার্তিক

শেষ বলে জয়ের জন্য এক রান দরকার ছিল। ব্যাট হাতে ক্রিজের একপাশে ছিলেন আবেশ খান, অন্যপ্রান্তে রবি বিষ্ণু। শেষ পর্যন্ত দীনেশ কার্তিকের ভুলে এক রান নিয়ে ম্যাচ জেতে লখনৌ। এ সময় দীনেশ কার্তিক একটি গ্লাভস বের করে পুরোপুরি সতর্ক ছিলেন, কিন্তু মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো কিছু করতে পারেননি! এতে হারের তেতো স্বাদ পেতে হয়েছে ব্যাঙ্গালুরুকে।

সোমবার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) গ্রুপ পর্বের রোমাঞ্চকর ম্যাচে লখনৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে শেষ বলে হেরেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। 

আইপিএলের ১৫তম ম্যাচের শেষ ওভারে জয়ের জন্য লখনৌয়ের দরকার ছিল ৫ রান। বল ছিল হার্শাল প্যাটেলের হাতে। জয়দেব উনাদকাত প্রথম বলে রান চুরি করেন এবং পরের বলে মার্ক উডকে ক্লিন বোল্ড করে লখনৌকে বড় ধাক্কা দেন হার্শাল। এ ওভারের দ্বিতীয় বলে রবি বিষ্ণু দুই রান নিলে ব্যবধান আরও কমে যায়। এরপর এক রান বাঁচাতে মাঠ পুরোপুরি আঁটসাঁট ফিল্ডিং দেয় ব্যাঙ্গালুরু। তারপর চতুর্থ বলে ডিপ স্কোয়ারের দিকে খেলে রান চুরি করেন বিষ্ণু।

সেই সময়ে স্কোর সমান ছিল। ওভারের ৫ম বলে জয়দেব উনাদকাত ফাফ ডু প্লেসির হাতে ক্যাচ দেন, উইকেট তুলে খেলা জমিয়ে দেন হার্শাল প্যাটেল। ৭ বলে ৯ রান করে আউট হন তিনি। 

তখনও দুই দলের স্কোর সমান ছিল। প্রত্যেকেই মনে করেছিল যে টুর্নামেন্টের প্রথম সুপার ওভারটি এবার হয়তো হতে পারে। কারণ হার্শালের শেষ বলে আবেশ খানের রান নেওয়াটা এত সহজ হবে না। সেই সময়ে প্যাটেল বল ছোঁড়ার আগে ক্রিজের বাইরে থাকা রবি বিষ্ণুকে মানকাডিং করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সেটা কাজে আসেনি।

এই সময়ে মহেন্দ্র সিং ধোনির কীর্তি করতে চেয়েছিলেন দীনেশ কার্তিক। তবে তাতে তিনি ব্যর্থ হন। হার্শালের ওভারের শেষ বলে দীনেশ কার্তিক গ্লাভস ছাড়া খালি হাতে প্রস্তুত ছিলেন। তিনি জানতেন যে ব্যাটে বল না লাগলেও ব্যাটসম্যানের রানের জন্য দৌড়ানোর চেষ্টা করবেন। শেষ বলটি করার সময় সেটাই ঘটেছিল, কিন্তু কার্তিক বল ধরতে গিয়ে স্লিপ হয়ে যান ফলে তাঁর হাত থেকে বলটি পড়ে যায় এবং আবেশ ও বিষ্ণু রান নেয়ার সুযোগ পেয়ে যান। কার্তিক যখন বল ধরে থ্রো করেন ততক্ষণে রান শেষ হয়ে গিয়েছে।

আসলে ২০১৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপেও একই অবস্থা হয়েছিল। অ্যাডিলেইডে শেষ বলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ছিল ২ রান, সুপার ওভারে দরকার এক রান। ধোনি চালাকি করে মুশফিকুর রহমানকে রানআউট করে ম্যাচটা ভারতের ঝুলিতে ফেলে দেন। সে সময় বোলার ছিলেন হার্দিক পান্ডিয়া। এই শেষ বলের থ্রিলারটি ইতিহাসে রেকর্ড করা হয়েছিল। 

তেমনই কিছু করতে চেয়েছিলেন কার্তিক। তবে শেষ পর্যন্ত সফল হননি ডিকে। এরপরে দর্শকরা বলা শুরু করেছেন যদি কার্তিকের জায়গায় ধোনি থাকতেন তাহলে হয়তো এমন রান নিতে পারতেন না আবেশ ও বিষ্ণু। ফলে জিততে পারত না লখনৌ। সোশ্যাল মিডিয়াতে সকলে বলা শুরু করেছেন যে সবাই ধোনি হতে পারে না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআইএ
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!