আল্লাহর ৯৯ নাম ও তার অর্থ (পর্ব- ১)
মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনুল কারিমে বলেন, وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ فَادْعُوهُ بِهَا ۖ وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ ۚ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
উচ্চারণ: ‘ওয়ালিল্লা-হিল আসমাউল হুসনা- ফাদ‘ঊহু বিহা-;ওয়াযারুল্লাযীনা ইউলহিদূনা ফীআসমাইহী; সাইউজঝাওনা মা-কা-নূইয়া‘মালূন’।
অর্থ: ‘আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সব উত্তম নাম। কাজেই সে নাম ধরেই তাকে ডাক। আর তাদেরকে বর্জন কর, যারা তার নামের ব্যাপারে বাঁকা পথে চলে। তারা নিজেদের কৃতকর্মের ফল শীঘ্রই পাবে’। (সূরা: আল আরাফ, আয়াত: ১৮০)
অন্য আয়াতে রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলা বলেন, قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَـٰنَ ۖ أَيًّا مَّا تَدْعُوا فَلَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ ۚ وَلَا تَجْهَرْ بِصَلَاتِكَ وَلَا تُخَافِتْ بِهَا وَابْتَغِ بَيْنَ ذَٰلِكَ سَبِيلًا
অর্থ: ‘বলুন: আল্লাহ বলে আহ্বান কর কিংবা রহমান বলে, যে নামেই আহ্বান কর না কেন, সব সুন্দর নাম তারই। আপনি নিজের নামাজ আদায়কালে স্বর উচ্চগ্রাসে নিয়ে গিয়ে পড়বেন না এবং নিঃশব্দেও পড়বেন না। এতদুভয়ের মধ্যমপন্থা অবলম্বন করুন’। (সূরা: বনী ইসরাঈল, আয়াত: ১১০)
আরো পড়ুন >>> আল্লাহর ৯৯ নাম ও তার অর্থ (পর্ব- ২)
হজরত আবু হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলার নিরানব্বই— এক কম একশটি নাম রয়েছে। যে ব্যক্তি এ নামগুলো মুখস্থ করবে, সে জান্নাতে যাবে। অপর বর্ণনায় আছে, তিনি বিজোড়, (তাই) বিজোড়কে ভালোবাসেন’। (বুখারি, হাদিস: ২৭৩৬, ৭৩৯২; মুসলিম, হাদিস: ২৬৭৭; তিরমিজি, হাদিস: ৩৫০৬; ইবনু মাজাহ, হাদিস: ৩৮৬০)
প্রিয় পাঠক রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলার ৯৯ নাম ও তার অর্থ (আসমাউল হুসনা/ইসমে আজম) তুলে ধরছি। আর এরই ধারাবাহিকতায় আজ দেওয়া হলো ১ম নাম ও তার অর্থ-
الله
অর্থ: আল্লাহ
বিশ্বজগত তথা সবকিছুর সৃষ্টিকর্তার নাম হচ্ছে আল্লাহ। এটা হচ্ছে আল্লাহ তাআলার সর্বশ্রেষ্ঠ নাম। কারণ যেকোনো গুণবাচক নাম দিয়েই আল্লাহর কথা বলা হোক না কেন, সব নাম দ্বারা আল্লাহকেই ইঙ্গিত করা হয়। যেমন, পবিত্র কোআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ ۖ هُوَ الرَّحْمَـٰنُ الرَّحِيمُ
উচ্চারণ: ‘হুওয়াল্লা-হুল্লাযী লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া ‘আ-লিমুল গাইবি ওয়াশশাহা-দাতি হুওয়াররাহমা-নুর রাহীম’।
অর্থ: ‘তিনিই আল্লাহ তাআলা, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই; তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যকে জানেন তিনি পরম দয়ালু, অসীম দাতা। (সূরা: আল হাশর, আয়াত: ২২)
هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ ۚ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ
উচ্চারণ: ‘হুওয়াল্লা-হুল্লাযী লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া আলমালিকুল কুদ্দূসুস সালা-মুল ম’মিনুল মুহাইমিনুল ‘আজিঝুল জাব্বা-রুল মুতাকাব্বিরু সুবহা-নাল্লা-হি ‘আম্মা-ইউশরিকূন’।
অর্থ: ‘তিনিই আল্লাহ তিনি ব্যতিত কোনো উপাস্য নেই। তিনিই একমাত্র মালিক, পবিত্র, শান্তি ও নিরাপত্তাদাতা, আশ্রয়দাতা, পরাক্রান্ত, প্রতাপান্বিত, মাহাত্নশীল। তারা যাকে অংশীদার করে আল্লাহ তাআলা তা থেকে পবিত্র’। (সূরা: আল হাশর, আয়াত: ২৩)
هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ ۖ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ ۚ يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
উচ্চারণ: ‘হুওয়াল্লা-হুল খা-লিকুল বা-রিউল মুসাওবিরু লাহুল আসমাউল হুসনা-; ইউসাব্বিহুলাহূ মা-ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়াহুওয়াল ‘ আজিঝুল হাকীম’।
অর্থ: ‘তিনিই আল্লাহ তাআলা, স্রষ্টা, উদ্ভাবক, রূপদাতা, উত্তম নাম সমূহ তারই। নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই তার পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাময়’। (সূরা আল হাশর, আয়াত: ২৪)
উল্লেখ্য, প্রিয় পাঠক আল্লাহর গুণবাচক নামগুলো আরবি। আর আরবি শব্দের উচ্চারণ বাংলায় বিশুদ্ধভাবে সম্ভব নয়। তারপরও আমরা যতটা সম্ভব আল্লাহর নাম (আসমাউল হুসনা) এর উচ্চারণ সঠিকভাবে লেখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু অতি সতর্কতার জন্য অনুরোধ, কোনো বিজ্ঞ আলেমের কাছ থেকে বিশুদ্ধ উচ্চারণ শুনে ও বুঝে ভালো ভাবে শিখে নেবেন। আর এটিই আল্লাহর ৯৯ নাম মুখস্থ করার সহজ উপায়।
ইয়া আল্লাহ! আপনার গুণবাচক নামগুলো মুখস্থ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।