জুমার নামাজের সুন্নত বাড়িতে পড়ার বিধান
জুমার নামাজের আগে চার রাকাত নামাজ আদায় করা সুন্নত। এ বিষয়টি মহানবী (সা.)-এর হাদিস ও সাহাবি-তাবিয়িদের আমল থেকে প্রমাণিত। আলি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার আগে চার রাকাত এবং পরে চার রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করতেন।
আবু আবদুর রহমান আস-সুলামি বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) আমাদের জুমার আগে চার রাকাত এবং পরে চার রাকাত নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। (আবদুর রাজ্জাক) ইমাম তিরমিজি (রহ.) বলেন, ‘সুফিয়ান সাওরি ও আবদুল্লাহ ইবনে মোবারক (রহ.) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর মতের অনুসরণ করেছেন।’ (তিরমিজি)
আবদুল্লাহ ইবনু উমর ও আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তারা উভয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) কে মিম্বরের সিঁড়িতে বলতে শুনেছেন, যারা জুমা পরিত্যাগ করে, তাদের এ কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। নতুবা মহান আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেবেন। অতঃপর তারা অবশ্যই গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৭৫)। অপর বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি অবহেলা করে তিন জুমা পরিত্যাগ করে, আল্লাহ তার হৃদয় মোহরাঙ্কিত করে দেন (তিরমিজি, হাদিস: ৫০০)
এ ক্ষেত্রে জুমার নামাজের পর চার রাকাত নামাজ সুন্নত, যেটি বায়াদাল জুমা নামে পরিচিত। আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা জুমার পর সালাত আদায় করলে চার রাকাত আদায় করবে। (তিরমিজী, হাদিস: ৫২৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯১০)
হাদিস অনুযায়ী, বায়াদাল জুমা বা জুমার ফরজ নামাজের পর সুন্নত বাড়িতেও পড়া যায়। ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি (ইবনু উমর) জুমার সালাত শেষে চলে যেতেন এবং ঘরে গিয়ে দু’রাকাত পড়ে নিতেন। এরপর তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও এরূপ করতেন। (সহিহ মুসলিম, ১৯১২)